২০০২ সালের সেই সোনালী বিকেল। টিভির সামনে বসে থাকা আট বছরের এক ছোট্ট শিশু মন্ত্রমুগ্ধের মতো দেখছিল রোনালদো, রিভালদো, রোনালদিনহোদের জাদু। ব্রাজিল উঁচিয়ে ধরলো পঞ্চম বিশ্বকাপ। সাও পাওলোর সেই ছোট্ট ছেলেটির মনে তখনই জ্বলে উঠেছিল ফুটবলার হওয়ার বাসনা। সেই ছেলেটি আর কেউ নন, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ব্রাজিল দলের অধিনায়ক মারকুইনহোস। ৩২ বছর বয়সে দাঁড়িয়ে তিনি এবার তৃতীয় বিশ্বকাপ অভিযানে নামছেন। এ মিশনে মারকুইনহোসের একটাই লক্ষ্যÑষষ্ঠবারের মতো ব্রাজিলের ঘরে বিশ্বকাপ ট্রফি আনা। ফিফাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সেলেসাও অধিনায়ক বলেছেন, ‘যদি আমি বিশ্বকাপ জিততে পারি, তবে এটি হবে আমার জীবন এবং ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ অর্জন।’
ছোটবেলায় ফুটবলার হওয়ার যে বাসনা জেগেছিল তার পূর্ণতা আসে ২০১৮ সালে। রাশিয়া বিশ্বকাপের দলে ডাক পান মারকুইনহোস। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে হয়ে ওঠেন দলের রক্ষণভাগের মূল কাণ্ডারি। কিন্তু ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে তার অতীত অভিজ্ঞতা মোটেও সুখকর নয়। ২০১৮ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নেয় ব্রাজিল। ২০২২ বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে টাইব্রেকারে হৃদয় ভাঙ্গে হলুদ জার্সিধারীদের। বুকভাঙ্গা সেই সময়ে খলনায়ক বনে গিয়েছিলেন মারকুইনহোস। তার নেয়া শেষ পেনাল্টি শটটি পোস্টে লেগে ফিরে আসায় স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল পুরো ব্রাজিল। সেই ক্ষত এখনো ভোলেননি পিএসজি তারকা। তবে সেই ট্র্যাজেডি থেকেই এখন শক্তি খুঁজছেন তিনি।
ক্লাব ফুটবলে প্যারিস সেন্ট-জার্মেইর (পিএসজি) হয়ে সম্প্রতি টানা দ্বিতীয়বারের মতো উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জিতেছেন মারকুইনহোস। ইউরোপসেরা হওয়ার এই যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। বছরের পর বছর হতাশা আর ব্যর্থতা পেরিয়ে তবেই মিলেছে এই ট্রফি। ক্লাবের এই অভিজ্ঞতা বিশ্বকাপে কাজে লাগাতে চান তিনি। এ নিয়ে মারকুইনহোস বলেন, ‘আমি ক্লাবেও দীর্ঘ হতাশার মধ্য দিয়ে গিয়েছি। আমরা জানি বিশ্বকাপের মানদণ্ড কতটা ওপরে। এখানে সফল হতে হলে ভুল করা চলবে না। প্রতিপক্ষের ভুলের সুযোগ নিতে হবে এবং কঠিন মুহূর্তে মানসিকভাবে শক্ত থাকতে হবে।’ গত চার বছরে ব্রাজিলের ডাগআউটে চারজন কোচ বদল হয়েছেন। ব্রাজিল বাছাইপর্ব শেষ করেছে পঞ্চম স্থানে থেকে । দল যখন এক অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলো তখন হাল ধরেন ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড কার্লো আনচেলত্তি। পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জয়ী এই কোচের ওপর অগাধ আস্থা সেলেসাও অধিনায়কের। তিনি বলেন, ‘আনচেলত্তি একজন ধারাবাহিক বিজয়ী। তিনি জানেন কীভাবে একটি দলকে চ্যাম্পিয়নে পরিণত করতে হয়। এই বিশ্বকাপে যাওয়ার আগে আমাদের যে বাড়তি আত্মবিশ্বাস ও কৌশলের প্রয়োজন ছিল, তা তিনি আমাদের দিয়েছেন।’
