বিশ্বকাপে কারা ফেভারিট- এ প্রশ্নের উত্তর দেয়া সহজ। কয়েকটি নামই আসে ঘুরে ফিরে। কিন্তু ‘ডার্ক হর্স’ খুঁজে বের করা একটু কঠিন। ৪৮ দলের মেগা আসরে চমক উপহার দেয়ার রসদ আছে বেশ কয়েকটি দেশের। এদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ২০ বছর পর জায়গা পাওয়া তুরস্ক। তারুণ্য-অভিজ্ঞতার মিশেলে তৈরি দলটি এবার ছাড়িয়ে যেতে পারে ২০০২ সালের সাফল্যকেও। সেবার তারা অর্জন করেছিল তৃতীয় স্থান। নতুন স্বপ্ন নিয়ে কোচ ভিনসেঞ্জো মন্তেলার শিষ্যরা শুরু করতে যাচ্ছে ২০২৬ মিশন। আগামীকাল সকাল ১০টায় ‘ডি’ গ্রুপের ম্যাচে তুরস্ক মোকাবিলা করবে অস্ট্রেলিয়ার।
গ্রুপের বাকি দুই দল স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র ও প্যারাগুয়ে যথেষ্ট শক্তিধর। পরের রাউন্ডের টিকিট সহজ হবে না। তবে তুরস্কের তারকা মিডফিল্ডার আরদা গুলের চাপকেই বানাচ্ছেন জয়ের মন্ত্র। সে জানে কখন ধীর হতে হবে আর কখন গতি বাড়াতে হবে। এবং কীভাবে গোল করতে হয় সেটাও জানা আছে তার। তবে অস্ট্রেলিয়ান ডিফেন্ডার মিলোস ডিজেনেক মনে করেন চাপটা তুরস্কের ওপরই থাকবে। তিনি মনে করেন, তাদের দলের পূর্ব অভিজ্ঞতা কাজে দেবে এই ম্যাচে। কোচ টনি পপোভিচের বিশ্বাস, শক্তি, উদ্যম ও নির্ভীক মানসিকতায় এগিয়ে থাকবে তার শিষ্যরা। র্যাংকিংয়ে খুব একটা ব্যবধান নেই দু’দলের। ২২ নম্বরে তুরস্ক, ২৭ নম্বরে অস্ট্রেলিয়া। তবে সাম্প্রতিক ফর্ম বিচারে সকরুদের চেয়ে যোজন-যোজন এগিয়ে তুর্কিরা। সবশেষ ৮ ম্যাচের ৭টিতেই জয় তাদের। একমাত্র ড্র হওয়া ম্যাচটি ছিল গত নভেম্বরে স্পেনের বিপক্ষে। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ওই লড়াইয়ে ৬১ মিনিট পর্যন্ত ২-১ গোলে এগিয়ে থেকে শেষতক ২-২ সমতা নিয়ে মাঠ ছাড়ে তুরস্ক। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার শেষ পাঁচ ম্যাচে কোনো জয় নেই। চার হারের বিপরীতে এক ড্র। ১৯৫৮ ও ২০০২ বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল তুরস্ক। শেষবার সেমিতে ওঠে চমক দেখানোর পর যেন হারিয়ে ফেলে নিজেদের। বাছাইপর্বের বাধা টপকে এবার দাপট দেখিয়েই তুরস্ক জায়গা করে নেয় মূলপর্বে। বুলগেরিয়ার বিপক্ষে ৬-১, জর্জিয়া বিপক্ষে ৪-১ ও উত্তর মেসিডোনিয়ার বিপক্ষে ৪-০ গোলের জয়ই তার প্রমাণ। কোচ ভিনসেঞ্জো মনতেলা বেশির ভাগ সময় দলকে ৪-২-৩-১ ফরমেশনে খেলান, যেখানে গুলের ও কেনান মূল চালিকাশক্তি।
অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপে সপ্তমবারের মতো অংশ নিচ্ছে। ১৯৭৪ সালে অভিষেকের পর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে ২০০৬ সালে মঞ্চে ফেরে দলটি। এরপর প্রতিটি আসরেই সরব উপস্থিতি ছিল সকারুদের। তবে শেষ ষোলোতে যাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে মাত্র দু’বার (২০০৬, ২০২২)। অস্ট্রেলিয়া শারীরিক সক্ষমতায় এগিয়ে থাকলেও রক্ষণাত্মক ফুটবলে অভ্যস্ত। নেস্তরি ইরানকুন্ডাকে সামনে রেখে তুর্কিদের বিপক্ষে তাদের সম্ভাব্য ফরমেশন হতে পারে ৫-৪-১।
হেড টু হেড
মুখোমুখি পরিসংখ্যানে তুরস্ক স্পষ্ট এগিয়ে। দুই ম্যাচের দু’টিতেই জয়। ২০০৪ সালে ২১ ও ২৪শে মে প্রীতি ম্যাচে যথাক্রমে ৩-১ ও ১-০ গোলে সকারুদের হারায় তারা।
