মাঠের ফুটবল ছাপিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচটি রূপ নিলো কার্ডের এক ঐতিহাসিক মহাকাব্যে। মেক্সিকোর এস্তাদিও আজতেকায় দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে স্বাগতিকদের ২-০ গোলের জয় ছাপিয়ে আলোচনায় ব্রাজিলিয়ান রেফারি উইলটন সাম্পাইয়ের পকেট থেকে বের হওয়া তিন-তিনটি লাল কার্ড! বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের ইতিহাসে এমন নজিরবিহীন ঘটনা বিশ্বফুটবলের চোখ কপালে তুলে দিয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার মিডফিল্ডার ইয়াইয়া সিথোলের জন্য রাতটি ছিল ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় দুঃস্বপ্নের। গোলকিপার রনওয়েন উইলিয়ামসের বাজে পাস থেকে বল হারিয়ে তিনি মেক্সিকোকে প্রথম গোলটি উপহার দেন।
মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে, ম্যাচের ৪৯তম মিনিটে ব্রায়ান গুতিয়ারেজকে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন সিথোলে। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে জার্মানির বিপক্ষে বলিভিয়ার মার্কো এচেভেরির পর উদ্বোধনী ম্যাচে প্রথম লাল কার্ড দেখার অনাকাক্সিক্ষত রেকর্ড এটি। একই ম্যাচে গোল উপহার দেয়া এবং লাল কার্ডের জোড়া লজ্জায় ১৯৬৬ সাল থেকে শুরু হওয়া আধুনিক পরিসংখ্যানে সিথোলে মাত্র তৃতীয় খেলোয়াড়। কার্ডের খেলা এখানেই থামেনি। সিথোলের বিদায়ের পর বদলি নামা দক্ষিণ আফ্রিকার থেম্বা জোয়ানে সহিংস আচরণের দায়ে ভিডিও এসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) পর্যালোচনায় লাল কার্ড দেখেন। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে মেক্সিকোর ডিফেন্ডার সিজার মন্তেস এক অপ্রয়োজনীয় ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন। ইতিহাসে মাত্র ৭ম বারের মতো এক ম্যাচে ৩টি লাল কার্ডের ঘটনা এটি। ২০০৬ বিশ্বকাপের পর্তুগাল বনাম নেদারল্যান্ডসের সেই বিখ্যাত ‘নূরেমবার্গের যুদ্ধ’-এর পর এই প্রথম কোনো ম্যাচে এক দলের দু’জন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখলেন। পরিসংখ্যানের খাতা উল্টালে এই কার্ডের তীব্রতা আরও স্পষ্ট হয়। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের পুরো টুর্নামেন্টে (৬৪ ম্যাচে) মোট লাল কার্ড দেখানো হয় মাত্র ৪টি। আর ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ শেষ হতেই লাল কার্ডের সংখ্যা দাঁড়ায় ৩-এ! গত দুই বিশ্বকাপ (২০১৮ ও ২০২২) মিলিয়ে যেখানে সরাসরি লাল কার্ড ছিল মাত্র ৩টি, সেখানে এবার এক ম্যাচেই ব্রাজিলিয়ান রেফারি উইলটন সাম্পাইও সেই যৌথ রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলেছেন।
