শৈশবের সেই সোনালি ট্রফির রঙিন স্বপ্ন এখনো তাড়িয়ে বেড়ায় লাল-সবুজের ক্রিকেটের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমনকে। এক সময়ের তুখোড় ফুটবলার হতে চাওয়া বাশার ক্রিকেটের ব্যস্ততার মাঝেও মনটা ফেলে রাখেন ফুটবল মাঠেই। প্রিয় দল ব্রাজিলের নান্দনিক ফুটবল নিয়ে তিনি বরাবরই দারুণ আশাবাদী। মানবজমিনের মুখোমুখি হয়ে এই সাবেক তারকা ক্রিকেটার মন খুলে কথা বললেন নিজের ফুটবল প্রেম ও এবারের বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে। বরাবরের মতো এবারো হলুদ জার্সি গায়ে জড়িয়ে প্রিয় দলের খেলার জন্য অপেক্ষায় আছেন তিনি।
তবে মাঠের লড়াইয়ের আগে ভক্তদের মনে কিছুটা শঙ্কা থাকলেও বাশার কিন্তু বেশ ফুরফুরে মেজাজেই আছেন। ব্রাজিলের হেক্সা জয়ের দীর্ঘ প্রতীক্ষা বাদ দিলেও এ নিয়ে তিনি আশার বাণী শুনিয়ে বললেন, ‘ব্রাজিল নিয়ে এবার কোনো আশা নেই, এটাই হলো দলটির সবচেয়ে বড় শক্তি। যখন কোনো প্রত্যাশা থাকে না যে দল চ্যাম্পিয়ন হবে, তখনই আসলে মাঠে ভালো কিছু হয় বলে আমার মনে হয়।’ ফুটবলের প্রতি দারুণ এই নিখাদ আত্মবিশ্বাস ও গভীর ভালোবাসার টানেই বাশার এখন মজেছেন বিশ্ব ফুটবলের এক জমকালো উৎসবে, যার প্রতিটি কোণায় ছড়িয়ে রয়েছে বাঁধভাঙা উন্মাদনা, মাঠের প্রবল উত্তেজনা আর লাখো ফুটবল ভক্তের অফুরন্ত ভালোবাসা ও ভালো লাগার চিরন্তন গল্প। শৈশবের মফস্বল শহরের ফুটবল উৎসব বাশারের মনে গভীর দাগ কেটেছিল। তার সেজো ভাই খেলতেন মোহামেডান দলে, তাই তখন থেকেই কিশোর বাশার ফুটবলার হওয়ার রঙিন স্বপ্ন দেখতেন। ছাদের ওপর গোল হয়ে বসা আর বন্ধুদের সঙ্গে চায়ের গরম আড্ডায় রাত জেগে খেলা দেখার স্মৃতি এখনো সতেজ।
প্রথম বিশ্বকাপ দেখার স্মৃতিচারণ করে বাশার বলেন, ‘তখন মফস্বলে রাত জেগে সবাই মিলে খেলা দেখাটা ছিল দারুণ আনন্দের এক উৎসব।’ তবে জাতীয় ক্রিকেট দলে মধ্যে ১০ জনের ৭ জনই আর্জেন্টিনার কট্টর ও ঘোর এক অন্ধ সমর্থক বলেই জানান বাশার। বাশার ব্রাজিলের কড়া সমর্থক হলেও দিয়েগো ম্যারাডোনা ও লিওনেল মেসির খেলার ধরন তাকে মুগ্ধ করে। তবে প্রিয় দলের নান্দনিক পাসিং ফুটবলকেই তিনি সবার সেরা মনে করেন। প্রিয় হলুদ জার্সির এক ম্যাচে ৭-১ গোলের সেই ঐতিহাসিক হারের বেদনাদায়ক স্মৃতির খোঁচা এখনো আর্জেন্টিনা ভক্ত বন্ধুদের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত শুনতে হয় তাকে। তবে এবারের বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে আশাবাদী সাবেক এই সফল অধিনায়ক বেশ ভিন্ন কৌশল দেখছেন। তাদের আক্রমণাত্মক ফুটবলশৈলীই প্রধান ভরসা। এবার দলের সেরা তারকা নেইমারের ওপর অতিরিক্ত চাপ বা নির্ভরতা না থাকাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তিনি। নেইমার নির্ভরতা কমার সুফল নিয়ে বাশার বলেন, ‘এবার আমরা নেইমারকে নিয়ে অতিরিক্ত ভাবছি না। ব্রাজিলের বড় শক্তি হলো নিজস্ব নান্দনিক ব্র্যান্ড ফুটবল। ছোট ছোট পাস দিয়ে গোল দেয়ার চেয়ে তাদের অনন্য নান্দনিক শিল্প ও অসাধারণ পাসিং ফুটবলশৈলী দেখতেই মাঠের প্রিয় সমর্থক ও ভক্তরা সবসময় সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে।’
সাবেক ক্রিকেটার সানোয়ার হোসেন ও জাভেদ ওমর বেলিম গোল্লাসহ ৪ বন্ধু মিলে কাতার অভিযান সফল করলেও যুক্তরাষ্ট্রের আসরের খরচ অনেক বেশি। থাকা, খাওয়া ও বিমান টিকিট অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় এবার আর মাঠে যাওয়া হচ্ছে না বাশারের। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করতে গিয়ে বাশার বলেন, ‘এবার হয়তো ট্রফি আর্জেন্টিনার ঘরে যাবে না, স্পেন বা অন্য কোনো দল ট্রফি জিততে পারে। আর এবার ফুটবল ময়দানে টিকিট ও যাতায়াত খরচ সাধ্যের বাইরে চলে যাওয়ায় আমাদের আর মাঠে বসে খেলা দেখার স্বপ্ন সত্যি হচ্ছে না।’
