আজতেকায় বর্ণিল উদ্বোধন তো হয়ে গেছে আগেই। কয়েকটি ম্যাচও খেলা হয়ে গেছে এরই মধ্যে। তবুও কোথায় যেন একটু কমতি। সুরটা ঠিক বাঁধছে না। আসরের সবচেয়ে সফল দল ব্রাজিল যে এখনো মাঠে নামেনি! অপেক্ষার প্রহর শেষ হচ্ছে বলে। আগামীকাল ভোর ৪টায় বিশ্বকাপ মিশন শুরু করতে যাচ্ছে সেলেসাওরা। নিউজার্সির আইকনিক মেটলাইফ স্টেডিয়ামে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের প্রতিপক্ষ গতবারের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো। ‘সি’ গ্রুপে বাকি দুই দল স্কটল্যান্ড ও হাইতি। ফিফা র্যাংকিংয়ে বর্তমানে ছয় নম্বরে রয়েছে ব্রাজিল। মরক্কোর অবস্থান আটে। কাজেই শক্তির পার্থক্য খুব বেশি নয়। নিজেদের শেষ তিনটি প্রীতি ম্যাচে জয় দেখেছে ব্রাজিল। অন্যদিকে আফকন চ্যাম্পিয়ন মরক্কো টানা ২৮ ম্যাচ অপরাজিত।
র্যাংকিং ও শক্তির বিচারে ব্রাজিলের মূল প্রতিপক্ষ মরক্কোই। এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তারকা খেলোয়াড় নেইমার নেই। টুর্নামেন্টের আগ থেকে চোটে ভুগছেন তিনি। সুস্থতার পথে রয়েছেন। মাঠে নামার মতো ফিটনেস পেতে খানিকটা সময় লাগবে। ব্রাজিলিয়ান কোচ কার্লো আনচেলোত্তির ভরসা তাই ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে নেইমারহীন ব্রাজিলকে পথ দেখাবেন তিনি।
কাতারে অনুষ্ঠিত ২০২২ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের যাত্রা থামে কোয়ার্টার ফাইনালে। সেই আক্ষেপ হয়তো এখনো কুড়ে কুড়ে খায়। অতিরিক্ত সময়ের খেলায় নেইমারের গোলে লিড নিয়েছিল ব্রাজিল। কিন্তু ১১৭ মিনিটে সমতা আনে ক্রোয়েশিয়া। পরে টাইব্রেকারে স্বপ্নভঙ্গ হয় সেলেসাওদের। অপেক্ষা বাড়ে ষষ্ঠ কাপ জয়ের। সৌভাগ্যের মাটিতে ২৪ বছরের এই অপেক্ষার অবসান চায় ব্রাজিল। ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ইতালিকে হারিয়ে তৃতীয়বার কাপ জিতেছিল দলটি। ওই দলের অন্যতম সদস্য জিনহোর বিশ্বাস রাখছেন উত্তরসূরিদের ওপর। তিনি বলেন, ‘ব্রাজিল গ্রেট ফেভারিট নয়। তবে দলটির ভালো খেলোয়াড় রয়েছে এবং সবাই মিলে একটা ভালো দল। আমার মনে হয়, তাদের সুযোগ রয়েছে।’ আফ্রিকান জায়ান্ট মরক্কোকে নিয়ে ব্রাজিল কোচ আনচেলোত্তিকে সতর্ক থাকতে বললেন জিনহো। তিনি বলেন, ‘এমন দলের মোকাবিলা করবেন তিনি যারা রক্ষণ জমাট রাখে এবং অপেক্ষা করে। বল পেলেই দ্রুত উপরে ওঠে যায় মরক্কো।’
হেড টু হেড
ব্রাজিল-মরক্কো এর আগে তিনবার মুখোমুখি হয়েছিল। ১৯৯৭ সালে প্রীতি ম্যাচে ২-০ গোলের জয় পায় ব্রাজিল। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে দ্বিতীয় সাক্ষাৎ। সেবার ৩-০ গোলে মরক্কোকে উড়িয়ে দেয় রোনালদো-বেবেতোরা। এরপর ২০২৩ সালে প্রীতি ম্যাচে মরক্কোর কাছে ২-১ গোলে হার মানে ব্রাজিল।
চোখ থাকবে যাদের ওপর
নেইমারের অবর্তমানে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রই মূল ভরসা। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে গত মৌসুমে ৫৩ ম্যাচে ২২ গোল ও ১৪ অ্যাসিস্ট করেন ভিনি। জাতীয় দলে জ্বলে উঠতে না পারার দুর্নাম অনেকটাই আড়াল করতে পেরেছেন এই উইংগার। হলুদ জার্সিতে শেষ তিন ম্যাচে এক গোল করার পাশাপাশি সহায়তা করেছেন দু’টিতে। সবমিলিয়ে জাতীয় দলে ৪৯ ম্যাচে ভিনির অবদান ৯টি করে গোল ও অ্যাসিস্ট। ক্লাব পর্যায়ে শত্রুতা থাকলেও ভিনিসিয়ুসের সঙ্গে এবার আক্রমণভাগে জুটি বাঁধবেন বার্সেলোনার রাফিনহা। মিডফিল্ডের দায়িত্ব ব্রুনো গিমারেসের কাঁধে। আর গোলমুখে বাজপাখি আলিসন বেকার তো থাকছেনই।
মরক্কোর বেশ কয়েকজন ফুটবলার এরই মধ্যে বিশ্বকাপে নাম কুড়িয়েছেন। আশরাফ হাকিমি বর্তমান দুনিয়ার অন্যতম সেরা ফুলব্যাক। উইংয়ে ধারালো অস্ত্র ব্রাহিম দিয়াজ। রিয়াল সতীর্থ ভিনির হৃদয় ভাঙতে প্রস্তুত তিনি। ২০২৫-২৬ মৌসুমে ক্লাব পর্যায়ে দিয়াজের রেকর্ড চমৎকার। ৪২ ম্যাচে দুই গোল ও ৯টি অ্যাসিস্ট রয়েছে ঝুলিতে। তবে ক্লাবের চেয়ে জাতীয় দলে বেশি সফল দিয়াজ। মাত্র ২৬ ম্যাচেই করে ফেলেছেন ১৪ গোল। মাঝমাঠে সুফিয়ান আমারাবাত-ব্রুনো গিমারেজ দ্বৈরথ জমবে বেশ। গোলমুখে মরক্কোর ঢাল ইয়াসিন বোনো। গত আসরে বোনো দেখিয়েছেন কী করতে পারেন। ব্রাজিলের সম্ভাব্য ফরমেশন হতে পারে ৪-৩-৩। যেখানে মরক্কো হয়তো ৪-২-৩-১ অথবা ৪-১-৪-১ ছকে দল সাজাবে।
ম্যাচ গোল অ্যাসিস্ট
ভিনিসিয়ুস ৪৯ ৯ ৯
দিয়াজ ২৬ ১৪ ২
