টুর্নামেন্ট শুরুর আগেও বিতর্কিত নানা কারণে আলোচিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। ফুটবলের মহোৎসব শুরুর দিনেও নেতিবাচক খবরের শিরোনাম হলো এবারের বিশ্বকাপ। উদ্বোধনী ম্যাচ শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামের বাইরে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। মোতায়েন করা হয় অশ্বারোহী পুলিশ। এর মধ্যে স্টেডিয়ামের বাইরে এক ফুটবল ভক্তের হার্ট অ্যাটাকের ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিশ্বকাপ শুরুর আগে থেকেই মেক্সিকোতে উন্নত কর্মপরিবেশ ও ভালো সুবিধার দাবিতে সরকারি চাকরিজীবী ও শিক্ষকরা আন্দোলন করছিলেন।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনীর আগে গতকাল ভোরে শিক্ষকদের বিভিন্ন সংগঠন, ছাত্রদের একটি বড় অংশ এবং গত দুই দশকের মাদক যুদ্ধে নিখোঁজ হওয়া মানুষদের পরিবার স্টেডিয়ামের পাশে জড়ো হন। ফুটবল মহোৎসব শুরুর আগমুহূর্তে হাজার হাজার ফুটবল সমর্থক স্টেডিয়ামের গেটে ভিড় করলে ব্যারিকেড পেরিয়ে ঢোকার সময় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। মেক্সিকো সিটির নিরাপত্তা বাহিনী এসএসসি জানায়, প্রায় ৮০০ জনের বিক্ষোভকারী দল থেকে মুখোশধারী ২০০ যুবকের একটি দল আচমকা হিংসাত্মক হয়ে ওঠে। তারা নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়ায়। এ সময় কয়েকজন ব্যাট দিয়ে লরি ও গাড়ির জানালা ভাঙচুর করে। পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ও ফ্লেয়ার ছুড়ে মারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৩০০ দাঙ্গা পুলিশ ও অশ্বারোহী পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরবর্তীতে স্টেডিয়ামের চারপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। বিক্ষোভের এই উত্তেজনার মধ্যে স্টেডিয়ামে ঢোকার মুখে এক ব্যক্তি হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। জানা গেছে, তিনি হার্ট অ্যাটাকের শিকার হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, চিকিৎসকরা তাকে বাঁচানোর জন্য বুকে চাপ (সিপিআর) দিচ্ছেন।
পরে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বিশ্বকাপ শুরুর আগেই এমন কিছু ঘটার আভাস দিয়েছিল মেক্সিকোর স্থানীয় গণমাধ্যম। মেক্সিকো সিটিতে অন্তত আট জায়গায় আলাদা বিক্ষোভের তথ্য জানিয়েছিল। তবে এ ব্যাপারে দেশটির সরকারকে কিছুটা উদাসীন মনে হয়েছে। এ নিয়ে মেক্সিকো সিটির সরকার প্রধান ক্লারা ব্রুগাদা মলিনা স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এই শহরটি এমন যেখানে দু’টি ঘটনা একসঙ্গে ঘটতে পারে। বিক্ষোভ করার অধিকার যেমন মানুষের আছে, তেমনি বিশ্বকাপের আনন্দ উদ্যাপন করার অধিকারও
সবার আছে।’
