‘আনলাকি থার্টিন’ কি সৌভাগ্যের সংখ্যা হবে সুইজারল্যান্ডের? বিশ্বকাপে ‘বি’ গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে সুইসদের প্রতিপক্ষ গতবারের আয়োজক কাতার। সান্তা ক্লারার লেভি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় আজ রাত ১টায় এশিয়ান চ্যাম্পিয়নদের মুখোমুখি হবে তারা। আর সুইজারল্যান্ডকে চমকে দিতে প্রস্তুত কাতারও। ২০১৮ সালে একমাত্র সাক্ষাতে আকরাম আফিফের গোলে জিতেছিল দলটি।
সুইজারল্যান্ড বিশ্বমঞ্চের নিয়মিত সদস্য। চলতি আসরসহ ১৩ বার অংশ নিয়েছে তারা। তবে শেষ আটের বাধা টপকাতে পারেননি কখনো। ১৯৩৪, ১৯৩৮ এবং ১৯৫৮ সালে নিজেদের মাটিতে আয়োজিত আসরে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলাই সর্বোচ্চ অর্জন। এরপর আটটি আসরে অংশ নিয়েছে দলটি। ১৯৯৪ সালের পর ছয় আসরে পাঁচবার শেষ ষোলোতে উঠেও থেমে যেতে হয়েছে তাদের। ম্যাচের আগে সুইজারল্যান্ড দলের অধিনায়ক গ্রানিত শাকা বলেন, ‘আমি স্বপ্নাতুর। স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসি। আমরা চাই স্মরণীয় কিছু অর্জনের মাধ্যমে আমাদের স্বপ্ন পূরণ হোক।’ সুইজারল্যান্ডের তুলনায় কাতার একেবারেই নবীন সদস্য। মাত্র দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের টিকিট পেয়েছে এশিয়ার দলটি। গতবার আয়োজক হিসেবে আসরটা একদমই ভালো কাটেনি। তিন ম্যাচেই হার। ৭ গোল গোল হজম করে গ্রুপের তলানিতে ঠাঁই হয় কাতারের। দলের হয়ে একমাত্র অর্জন মোহাম্মদ মুনতারির গোল। এবার ভিন্ন কিছু উপহার দিতে মরিয়া কাতার কোচ হুলেন লোপেতেগি।
এশিয়া কাপের সাফল্য উত্তর আমেরিকায় বয়ে নিতে চাইছেন তিনি। স্প্যানিয়ার্ড এই কোচ বলেন, ‘প্রতিপক্ষ আমাদের চেয়ে ভালো- এই বাস্তবতা মেনে নিতে হবে আমাদের। কিন্তু এর মানে এই নয় যে আমরা সারেন্ডার করে বসবো। লক্ষ্য পূরণ করতে আমাদের প্রস্তুত হতেই হবে।’ দু’দলের র্যাংকিংয়েও বিস্তর ফারাক। ইউরোপিয়ান দল সুইজারল্যান্ড রয়েছে ১৯ নম্বরে। অন্যদিকে এশিয়ান প্রতিনিধিদের অবস্থান ৫৫ নম্বরে।
লেভি স্টেডিয়ামের ঘাস দ্রুত পাস খেলতে সহায়ক। প্রায় ৬৯ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতা স্টেডিয়ামটির। ম্যাচের প্রধান রেফারির দায়িত্বে হন্ডুরাসের সাইদ মার্টিনেজ। ২০৯ ম্যাচে ৪৯ হলুদ কার্ড ও পাঁচটি সরাসরি লাল কার্ড দেখান এই রেফারি। কাজেই শৃঙ্খলা বজায় রাখা জরুরি। আর উদ্বোধনী ম্যাচে তিন লাল কার্ড ও চার হলুদ কার্ড প্রমাণ করে এবার কঠোর অবস্থানেই থাকবেন ফিফার রেফারিরা।
নজর থাকবে যাদের ওপর
কাতারের প্রাণভোমরা আকরাম আফিফ। আল সাদের ২৯ বছর বয়সী এই উইংগারের রেকর্ড চমৎকার। দেশের হয়ে ১২৮ আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৪০ গোল ও ৫০ অ্যাসিস্ট রয়েছে আফিফের। যদিও বিশ্বকাপে গোলের খাতা খুলতে পারেননি। গত আসরে তিন ম্যাচে তার অবদান ছিল শূন্য। সেই ব্যর্থতা এবার ঘুচিয়ে দিতে চাইবেন দোহায় জন্ম নেয়া ফুটবলার। অন্যদিকে, সুইসদের হয়ে গত বিশ্বকাপটা স্মরণীয় কাটে ব্রিল এমবোলোর। চার ম্যাচ খেলে একটি করে গোল ও অ্যাসিস্ট করেন তিনি। এর আগে ২০১৮ বিশ্বকাপেও একটি গোল পেয়েছিলেন এমবোলো। রেনের ২৯ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার গত মৌসুমে ৩৪ ম্যাচে ১০ গোলের পাশাপাশি তিনটি অ্যাসিস্ট করেন।
