গ্রেনাডার উষ্ণ বাতাস কিংবা হাইতির পাহাড়ি ঢালে ফুটবল সবসময়ই আবেগ আর স্বপ্নের নাম। কিন্তু সেই স্বপ্নের পূর্ণতা পেতে দলটিকে অপেক্ষা করতে হয়েছে দীর্ঘ ৫২ বছর। ভাগ্যের কী ফের! পাঁচ যুগের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান তারা করতে যাচ্ছে এমন এক দলের বিপক্ষে, যারা নিজেরাও আজও খুঁজে ফিরছে পরিপূর্ণতার সেই কাক্সিক্ষত মুহূর্ত। বলছি, স্কটল্যান্ডের কথা। ইউরোপীয় ফুটবলের গর্বিত ইতিহাসের এক পরিচিত নাম। ঐতিহ্য, সংগ্রাম আর সম্ভাবনার মিশেলে গড়া দলটি ৮ বার বিশ্বকাপে অংশ নিলেও কখনোই পেরোতে পারেনি গ্রুপ পর্বের বাধা। তবুও তাদের গল্প থেমে যায়নি। ২৮ বছর পর স্কটল্যান্ড ফিরেছে নতুন স্বপ্ন, নতুন আশার আলো নিয়ে। ফক্সবরোর বোস্টন স্টেডিয়ামে আগামীকাল সকাল ৭টায় ‘সি’ গ্রুপের লড়াইয়ে স্কটিশদের প্রতিপক্ষ হাইতি। আন্তর্জাতিক মঞ্চে এটি তাদের প্রথম সাক্ষাৎ। ১৯৭৪ সালে পশ্চিম জার্মানিতে অনুষ্ঠিত আসরে অভিষেক ক্যারিবিয়ান প্রতিনিধি হাইতির। গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচের সবক’টিতেই হার। ১৪ গোল হজম করে মাত্র দু’টিই প্রতিপক্ষের জালে ফিরিয়ে দিতে পেরেছিল তারা। তবে ওই আসরেই দারুণ এক অর্জনের সাক্ষী হন হাইতির ফরোয়ার্ড এমানুয়েল সানোন। ইতালির গোলরক্ষক দিনো জফের টানা ১ হাজার ১৪৩ মিনিট গোল না খাওয়ার রেকর্ডে ইতি টানেন তিনি। ওই আসরেই এক নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হয় স্কটল্যান্ড। গ্রুপ পর্বে কোনো ম্যাচ না হারলেও গোলগড়ে ছিটকে যায় দলটি। কোচ স্টিভ ক্লার্কের অধীনে ১৯৯৮’র পর ফিরে সেই আক্ষেপ ঘুচানোর লক্ষ্য স্কটল্যান্ডের। ফিফা র্যাংকিংয়ে হাইতি ৮৩ নম্বরে, স্কটল্যান্ড রয়েছে ৪২ নম্বরে। নিজেদের শেষ ৬ ম্যাচে তিন জয় দুই হার ও এক ড্র দেখেছে হাইতি। অন্যদিকে সবশেষ ছয় ম্যাচে তিনটি করে জয়-পরাজয় স্কটল্যান্ডের। তবে কুরাসাও ও বলিভিয়ার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ দু’টিতে ৮ গোল দিয়ে শক্তির জানান দিয়েছে দলটি।
নজর থাকবে যাদের ওপর
স্কটল্যান্ডের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় স্কট ম্যাকটমিনে। নাপোলির এই সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার রয়েছেন ফর্মের তুঙ্গে। সবমিলিয়ে ক্লাব পর্যায়ে ৪৪ ম্যাচে ১৪ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট তার। জাতীয় দলে ৭০ ম্যাচে অবদান ১৫ গোল, অ্যাসিস্ট ৪টি। বলিভিয়ার বিপক্ষে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে জয়ে একটি গোল উপহার দেন ম্যাকটমিনে। মাঝমাঠে স্কটিশদের আরেক শক্তি জন ম্যাকগিন। অ্যাস্টন ভিলার হয়ে গত মৌসুমে ৪৪ ম্যাচে ১০ গোল ও ৮ অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। মিডফিল্ডার হিসেবে জাতীয় দলের রেকর্ডটাও দারুণ। ৮৬ ম্যাচে ২০ গোলের পাশাপাশি ১১ অ্যাসিস্ট। অন্যদিকে হাইতির আশা উইলসন ইসিডর। সাদারল্যান্ডের হয়ে খেলা এই সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ডের জাতীয় দলে অভিষেক চলতি বছরের মার্চে। ৪ ম্যাচ খেলেই করেছেন দুই গোল ও এক অ্যাসিস্ট। অথচ বয়সভিত্তিক দলে ইসিডর ছিলেন ফ্রান্সের হয়ে। তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা রেনেতে। ফ্রান্স জাতীয় দলে হয়তো সুযোগও পেতেন। কিন্তু হাইতিয়ান সমর্থকদের আর্জি ফেলতে পারেননি গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লীগে ৩২ ম্যাচে ৬ গোল করা ইসিডর।
ফরোয়ার্ড লাইনে হাইতি কোচ সেবাস্তিয়েন মিগনের ভরসা লুইসিয়াস ডিডসন। হাইতিকে মূল পর্বে তুলতে বিশেষ অবদান ছিল তার। ২৫ বছর বয়সী এই উইংগার দেশের হয়ে ৩২ ম্যাচে ১০ গোল ও ৯ অ্যাসিস্ট করেছেন।
আক্ষেপ পূরণের মিশনে স্কটল্যান্ড-হাইতি
স্পোর্টস রিপোর্টার
১৩ জুন (শনিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
