তেলের টাকায় বিশ্বকাপের স্বপ্ন দেখছে মাত্র ৮ লাখ মানুষের গায়ানা

তেলের টাকায় বিশ্বকাপের স্বপ্ন দেখছে মাত্র ৮ লাখ মানুষের গায়ানা

ফন্ট সাইজ:

বিশ্বফুটবলের মানচিত্রে খুব একটা আলোচিত নাম নয় গায়ানা। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশটির অবস্থান ১৫০ নম্বরে। জনসংখ্যা মাত্র ৮ লাখ ৪০ হাজার। এই ছোট্ট দেশটিই এখন স্বপ্ন দেখছে বিশ্বফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে খেলার। তাদের এই আকাশছোঁয়া স্বপ্নের পেছনে রয়েছে বিপুল তেল সম্পদ, ইউরোপ-আমেরিকায় ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী ফুটবল প্রতিভা এবং বাংলাদেশ ফুটবল দলের প্রধান কোচ টমাস ডুলি। লাতিন আমেরিকার পাশে অবস্থিত গায়ানা এখন ফুটবলের নতুন শক্তি হওয়ার স্বপ্নে বিভোর।

তিন দেশে হওয়া এবারের বিশ্বকাপে ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে প্রথমবারের মতো দুটি দেশ জায়গা করে নিয়েছে। তারা হাইতি ও কুরাসাও। এর আগে ২০০৬ সালে ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো ছাড়া এই অঞ্চলের কোনো দেশ বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পায়নি। তবে বিশ্বকাপ ৪৮ দলে উন্নীত হওয়ার পর কনকাকাফ অঞ্চলে কোটা দ্বিগুণ হয়ে তিন থেকে ছয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এটাই বদলে দিয়েছে গায়ানার মতো ছোট দেশগুলোর ভাগ্য। বিশেষ করে কুরাসাওয়ের বিশ্বকাপ যাত্রা গায়ানার জন্য সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। ২০১৪ সালেও কনকাকাফ র‍্যাঙ্কিংয়ে কুরাসাওয়ের অবস্থান ছিল ২১ নম্বরে। যা গায়ানার বর্তমান অবস্থানের চেয়েও নিচে। কিন্তু প্রবাসীদের দলে ভিড়িয়ে মাত্র এক দশকে তারা বিশ্বকাপে পৌঁছে গেছে। গায়ানা ফুটবল ফেডারেশনও (জিএফএফ) এখন বিশ্বাস করে, কুরাসাও পারলে তারাও পারবে।
২০১৫ সালের আগেও গায়ানা ছিল পৃথিবীর দরিদ্র দেশগুলোর একটি। মানব উন্নয়ন সূচকে তাদের অবস্থান ছিল ফিলিস্তিনেরও নিচে। তবে ওই বছর সাগরে বিশাল তেলের খনি আবিষ্কার দেশটির ভাগ্য পুরোপুরি পাল্টে দেয়। বর্তমানে গায়ানা বিশ্বের ১৭তম তেল সমৃদ্ধ দেশ এবং দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতি। যদিও দেশের ৫৮ শতাংশ মানুষ এখনো দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। তবে ফুটবলের উন্নয়নে এই অর্থনৈতিক শক্তিকে কাজে লাগানোর বড় সুযোগ রয়েছে দেশটির সামনে।

বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয়া কুরাসাও দলের ২৬ জনের মধ্যে ২৫ জনই নেদারল্যান্ডসে জন্মগ্রহণ করা প্রবাসী ফুটবলার। গায়ানারও বিশাল প্রবাসী জনগোষ্ঠী রয়েছে ইউরোপ ও আমেরিকায়। প্রিমিয়ার লীগের সাবেক মিডফিল্ডার নিল ড্যানস কিংবা বোর্নমাউথের তরুণ মিডফিল্ডার নাথান মরিয়া-ওয়েলশরা ইংল্যান্ডের ডাকের অপেক্ষায় বসে না থেকে গায়ানার জার্সি গায়ে জড়িয়েছেন। কিশোর বয়সে গায়ানার হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নেয়া নাথান ২০১৮ সালে গার্ডিয়ানের ‘নেক্সট জেনারেশন’ তালিকায় বুকায়ো সাকার পাশাপাশি জায়গা পান। প্রবাসীদের পাশাপাশি দেশের মাটিতেও তৃণমূল ফুটবলার তৈরিতে কাজ করছে গায়ানা। ২০ বছর বয়সী ওমারি গ্লাসগো দেশের ঘরোয়া ফুটবল থেকে উঠে এসে ইতিমধ্যে দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে গেছেন। বর্তমানে খেলছেন এমএলএসের ক্লাব শিকাগো ফায়ারে। পাশাপাশি অবকাঠামো ও নারী ফুটবলেও বিপ্লব ঘটাচ্ছে দেশটি। রাজধানী জর্জটাউনে নির্মিত হতে যাচ্ছে আধুনিক ‘ব্লু ওয়াটার শিপিং স্টেডিয়াম’। গায়ানার বড় স্বপ্ন দেখার নেপথ্যে ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের বর্তমান হেড কোচ টমাস ডুলি। দেশটির জাতীয় ফুটবল দলকে ৯ মাস কোচিং করিয়েছেন এই আমেরিকান কোচ। কেবল কোচিং করিয়েছেন যে এমন নয়, ডুলির কল্যাণে গায়ানা ফুটবলে হাত বাড়ায় অনেক পৃষ্টপোষক প্রতিষ্ঠান। স্পন্সরদের আকৃষ্ট করতে কিছু নিয়ম চালু করেন। প্রতিটি প্লেয়ায়কে জাতীয় দলের ক্যাম্পে থাকাকালীন অফিশিয়াল পোশাক পড়তে বাধ্য করেন। সেই কথা জানিয়ে ডুলি বলেন, ‘দল যখন বাইরে যাবে, তখন তাদের দেখে যেন সহজেই চিনতে পারে।’ গায়নার ফুটবল প্রতিভা নিয়েও আক্ষেপ করেছেন বাংলাদেশের হেড কোচ। তিনি বলেন, ‘এখানে ১৭ বছরের অনেক ছেলেমেয়ে আছে, যারা এখনো ঠিকমতো বলটাই ছুঁয়ে দেখতে পারেনি।’ দায়িত্ব ছাড়ার আগে বিদেশ থেকে ভালো মানের প্রবাসী খেলোয়াড় দলভুক্ত করার আহবানও করেন। ডুলি বলেন, ‘মূল দলকে নিয়ে ফোকাস করতে হবে। কারণ ওরাই স্পন্সরের টাকা আনবে আর দর্শকদের মাঠে টানবে।’

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন