দীর্ঘ ১৬ বছর পর ঢাকা প্রিমিয়ার লীগের মুকুট পুনরুদ্ধার করলো ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। গতকাল বিকেএসপি’র ৩ নম্বর মাঠে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনী লিমিটেডকে ডিএলএস পদ্ধতিতে ৬৩ রানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে তারা। এই জয়ের ফলে ১১ ম্যাচের লীগ শেষে ৯ জয়ে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ আবাহনীকে পেছনে ফেলে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে মোহামেডান। তবে মতিঝিল পাড়ার দলটির এই ঐতিহাসিক সাফল্যের দিনে ভাগ্যও দারুণভাবে সহায় ছিল। শিরোপা জিততে হলে শুধু নিজেদের জয়ই যথেষ্ট ছিল না, অন্য ম্যাচে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের পরাজয়ও ছিল অনস্বীকার্য। ঠিক সেই নাটকীয় সমীকরণ মিলিয়ে পাশের ৪ নম্বর মাঠে শক্তিশালী প্রাইম ব্যাংককে ডাকওয়ার্থ অ্যান্ড লুইস পদ্ধতিতে ৮ রানে হারিয়ে দেয় ঢাকা লেপার্ডস। বৃষ্টির কারণে ২ ম্যাচেই ডিএলএস পদ্ধতি প্রয়োগ করতে হয় আম্পায়ারদের। আর তাতেই সব হিসাবনিকাশ চুকিয়ে শেষ পর্যন্ত বুনো উল্লাসে মেতে ওঠে মোহামেডান শিবির।
দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই আসরে লিস্ট ‘এ’ মর্যাদা পাওয়ার পর এটিই দলটির প্রথম লীগ জয়, যা ক্লাবটির ইতিহাসে গতকাল নতুন সোনালি অধ্যায় জুড়লো।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে রেকর্ড গড়া তাণ্ডব চালায় মোহামেডান। উদ্বোধনী ব্যাটার পারভেজ হোসেন ইমন ১১৬ বলে ১০ চার ও ১২ ছক্কায় খেলেন অনবদ্য ১৫০ রানের ইনিংস। তার সঙ্গে যোগ্য সঙ্গী হিসেবে তাণ্ডব চালান এনামুল হক বিজয়। তিনি ১১৫ বলে ১১ চার ও ৯ ছক্কায় করেন ১৪১ রান। দ্বিতীয় উইকেটে ইমন ও বিজয় গড়েন ২৪৮ রানের রেকর্ড জুটি, যা দেশের লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। শেষ দিকে আফিফ হোসেন ধ্রুবর ৩৩ বলে ৬১ রানের ঝড়ো ইনিংসে ভর করে ৪ উইকেটে ৪০৬ রানের পাহাড় গড়ে দলটি। রান তাড়ায় আবাহনী ২৪.৪ ওভারে ৪ উইকেটে ১৭৮ রান করার পর নামে অবিরাম তুমুল বৃষ্টি।
এদিকে শিরোপার দৌড়ে থাকা প্রাইম ব্যাংক প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৮ উইকেটে ২৬৬ রান তোলে। দলের পক্ষে আজিজুল হাকিম ৭১, রায়ান রাফসান ৫৭ ও আকবর আলী ৫১ রান করেন। লেপার্ডসের পেসার আল ফাহাদ ৪৭ রানে ৫ উইকেট নিয়ে তাদের ব্যাটিং লাইনআপ ধসিয়ে দেন। এ ছাড়া স্পিনার হাসান মুরাদ পান ৩ উইকেট। জবাবে লেপার্ডস ২৯.১ ওভারে ৩ উইকেটে ১৪২ রান তোলার পর বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। ডিএলএস পদ্ধতিতে শেষ পর্যন্ত ৮ রানে জয়ী হয় তারা। দলটির জয়ে জাওয়াদ আবরার ৫৩ ও ইফতেখার হোসেন ৪১ রান করে মূল্যবান অবদান রাখেন। এই হারের ফলে প্রাইম ব্যাংক লীগ শিরোপার লড়াই থেকে ছিটকে যায়। গতকাল ট্রফি জয়ের পর মোহামেডানের ড্রেসিংরুমে শুরু হয় বাঁধভাঙা উল্লাস। দলের নির্ভরযোগ্য সিনিয়র তারকা মুশফিকুর রহীম এই ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে ট্রফি উঁচিয়ে ধরেন। জয়ের পর জাতীয় দলের ক্যাম্পে থাকা নিয়মিত অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয় সামাজিক মাধ্যমে আক্ষেপ প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘খুব ইচ্ছে ছিল দলের সঙ্গে থাকার।’ অন্যদিকে মোহামেডান ক্লাব কর্তৃপক্ষ তাদের খেলোয়াড়, কোচ ও কর্মকর্তাদের এই গৌরবময় অর্জনের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছে। লীগে সমান ১৬ পয়েন্ট পেলেও মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে থেকে আবাহনী হয়েছে রানার্সআপ। আর প্রাইম ব্যাংক অর্জন করেছে তৃতীয় স্থান। সব মিলিয়ে এই অবিস্মরণীয় জয়ের পর আনন্দে ভাসছে মতিঝিল পাড়ার ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের কোটি ভক্ত-সমর্থক, যাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান।
