বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরুর আগে দলে পরিবর্তন এনেছে অস্ট্রেলিয়া। বিশ্রামে থাকা ট্রাভিস হেডের পরিবর্তে প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত অলরাউন্ডার নিখিল চৌধুরী। ৩০ বছর বয়সী লেগ-স্পিনিং অলরাউন্ডার বর্তমানে তাসমানিয়া ও হোবার্ট হারিকেন্সের হয়ে খেলছেন।
বিগ ব্যাশে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবেই জাতীয় দলে সুযোগ পেলেন তিনি। ব্রিসবেনের গ্রেড ক্রিকেটে খেলার সময় নিখিলের প্রতিভায় মুগ্ধ হন তৎকালীন হারিকেন্স কোচ জেমস হোপস। এরপর থেকেই তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরে যায়। হোবার্ট হারিকেন্সের হয়ে টানা তিন মৌসুম খেলেছেন তিনি। ২০২৪-২৫ মৌসুমে হোবার্ট হারিকেন্সের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন নিখিল। এরপর তাসমানিয়ার হয়ে লিস্ট ‘এ’ ও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় তার। ইতিমধ্যে শেফিল্ড শিল্ডে একটি সেঞ্চুরি এবং এক ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেয়ার কীর্তিও গড়েছেন এই ভারতীয় অলরাউন্ডার। নিখিলকে দলে নেয়া নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচক টনি ডোডেমেইড বলেন, ‘নিখিল বেশ কিছুদিন ধরেই আমাদের নজরে ছিল। এই সফরের জন্য তিনি স্ট্যান্ডবাই খেলোয়াড় হিসেবে ছিলেন এবং ব্রিসবেনের প্রস্তুতি ক্যাম্পেও দলের সঙ্গে অনুশীলন করেছেন। ট্রাভিস হেডের পরিবর্তে তাকে দলে নেয়া হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিশেষ করে গত মৌসুমে বিবিএলে তার পারফরম্যান্স আমাদের মুগ্ধ করেছে। এ বছর আইপিএলেও দিল্লি ক্যাপিটালসের সঙ্গে যুক্ত ছিল সে। বাংলাদেশ সফরে মূল্যবান অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি প্রথম টি-টোয়েন্টিতেই অস্ট্রেলিয়ার হয়ে অভিষেকের সুযোগ পেতে পারে।’
অস্ট্রেলিয়া দলে ডাক পাওয়া নিখিলের পেছনের গল্পটা নজরকাড়া। ২০২০ সালে কুইন্সল্যান্ডে থাকা চাচার সঙ্গে দেখা করতে অস্ট্রেলিয়ায় যান নিখিল। তখন কোভিড-১৯ মহামারির কারণে আন্তর্জাতিক সীমান্ত বন্ধ হয়ে গেলে সেখানেই থেকে যান। ফলে তার অস্থায়ী ভিসার মেয়াদ অস্ট্রেলিয়া ২০২৭ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি করে। অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব বা স্থায়ী বসবাসের অনুমতি না থাকলেও দেশটিতে টানা পাঁচ বছর বসবাস করেছেন তিনি।
আইসিসি’র নিয়ম অনুযায়ী, কোনো অস্থায়ী নাগরিক একটি দেশে কমপক্ষে ৩ বছর বা টানা ৩৬ মাস বসবাস করলেই ওই দেশের জাতীয় দলে খেলতে পারবেন। ফলে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছেন নিখিল। এদিকে, ভারতে জন্ম নেয়া নিখিল পাঞ্জাবের হয়ে ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেছেন। সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফিতে ১২টি টি-টোয়েন্টি এবং বিজয় হাজারে ট্রফিতে দু’টি লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি। এবার অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলে খেলবেন তিনি।
