পেকুয়ায় রেঞ্জ কর্মকর্তা জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

ফন্ট সাইজ:

চট্টগ্রাম উপকূলীয় বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এম এ হাসানের নাম ব্যবহার করে চাঁদা আদায়, মামলার ভয় দেখানো এবং বনবিভাগের জমি সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে সদ্য প্রত্যাহার হওয়া ছনুয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ সংক্রান্ত একাধিক অডিও রেকর্ড ও টাকা গ্রহণের ভিডিও মানবজমিনের হাতে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, ছনুয়া রেঞ্জে যোগদানের পর থেকেই জহিরুল ইসলাম বেপরোয়া চাঁদাবাজি শুরু করেন এবং বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে দাবি করতেন যে ডিএফও এম এ হাসান তার কথামতো চলেন। একটি অডিও রেকর্ডে তাকে মোক্তার হোসেন নামের এক ব্যক্তির কাছে ডিএফও’র জন্য ৫০ হাজার টাকা দাবি করতে শোনা যায়।

অডিওতে মোক্তার হোসেন জানান, জীবনে কোনো বন কর্মকর্তা বা রেঞ্জারকে টাকা দিতে হয়নি এবং তিনি কোনো সরকারি জমি দখল বা পেরাবন কাটেননি। জবাবে জহিরুল ইসলাম দাবি করেন, রেঞ্জ অফিস ও ডিএফও অফিস সমন্বয় করে জমি সংক্রান্ত বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে এবং ডিএফও’র সঙ্গে আলোচনা করেই বিষয়টি এগিয়েছে। একপর্যায়ে মোক্তার ২০ হাজার টাকা দেয়ার প্রস্তাব দিলে জহির বলেন, আমি ডিএফও স্যারের সঙ্গে বেইমানি করতে পারি না। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২০শে মে পেকুয়া বাজারে মোক্তার হোসেন জহিরুল ইসলামকে ৫০ হাজার টাকা দেন। টাকা গ্রহণের দৃশ্য একটি দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া আব্বাস নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকেও ডিএফও’র নাম ব্যবহার করে টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। একইসঙ্গে ছনুয়া বিট এলাকায় ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে সরকারি জমি অলিখিতভাবে বিক্রির অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ডিএফও এম এ হাসান ও জহিরুল ইসলামকে ঘিরে উপকূলীয় বনবিভাগে একটি চাঁদাবাজি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। জহিরুলের কথিত চাঁদাবাজির অডিও-ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তাকে ছনুয়া রেঞ্জ থেকে বদলি করা হলেও তাকে রক্ষায় ডিএফও হাসান সক্রিয় রয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এই সিন্ডিকেটের কারণে পেকুয়া ও মহেশখালীর সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। তাই ডিএফওকে অপসারণ না করা হলে বনবিভাগের সম্পদ রক্ষা করা কঠিন হবে বলে তারা মনে করেন।

তবে অভিযোগের বিষয়ে বহু চেষ্টা করেও রেঞ্জ কর্মকর্তা জহিরুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে ডিএফও এম এ হাসান বলেন, আমি চাকরি জীবনে একটি টাকাও ঘুষ খাইনি। তাকে (জহিরকে) ক্লোজড করা হয়েছে। আমি তো চাকরি থেকে বহিষ্কার করতে পারি না, তবে স্থায়ী বহিষ্কারের জন্য সুপারিশ করবো। চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান বন সংরক্ষক মিহির কুমার দে বলেন, বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন