মাটিখেকো সিন্ডিকেটে উজাড় পাহাড়

মাটিখেকো সিন্ডিকেটে উজাড় পাহাড়

ফন্ট সাইজ:

লোহাগাড়ায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে কথিত একটি মাটিখেকো সিন্ডিকেট। রাতের আঁধারে পাহাড় কেটে সাবাড় করার অভিযোগ উঠেছে এই চক্রের বিরুদ্ধে। উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জান মোহাম্মদ পাড়া এলাকায় সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত একটি পাহাড়ের বড় অংশ কেটে মাটি বিক্রি করে দেয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে চরম্বা ইউনিয়নে পাহাড় ও টিলা কেটে প্রতিনিয়িত একটি সিন্ডিকেট অবৈধভাবে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করে আসছে। এর সঙ্গে জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের জড়িত রয়েছে। এসব প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় চক্রটি সক্রিয় থাকার ভয়ে অনেকেই মুখ খুলতে সাহস পান না বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরজমিন দেখা যায়, চরম্বা জান মোহাম্মদ পাড়া এলাকায় একটি বড় পাহাড়ের উল্লেখযোগ্য অংশ কেটে ফেলা হয়েছে। পাহাড়টির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ইতিমধ্যে সমতল করে দেয়া হয়েছে। খননযন্ত্র দিয়ে রাতের আঁধারে মাটি কেটে ডাম্পার ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বিভিন্ন ইটভাটা ও ফসলি জমি ভরাটের কাজে। কয়েকদিনের বৃষ্টির কারণে বর্তমানে মাটি কাটা কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও পাহাড়টির ভয়াবহ ক্ষতি ইতিমধ্যে হয়ে গেছে। ফলে পাহাড় সংলগ্ন কয়েকটি বসতঘর এখন সরাসরি ঝুঁকির মুখে রয়েছে। ভারী বর্ষণে ভূমিধসের আশঙ্কায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এক বয়োবৃদ্ধ লোক বলেন, পাহাড় বা টিলা কাটা আইনগত দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও এসব আইনকে তোয়াক্কা না করে দিনের পর দিন পাহাড় কেটে সাবাড় করে পরিবেশের ক্ষতি করছে। তবে চরম্বায় পাহাড় বা টিলা কাটা এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। দীর্ঘদিন ধরে চরম্বা এলাকায় একের পর এক পরিকল্পিতভাবে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই প্রশাসনের। যার ফলে রাতেই উধাও হয়ে যায় বিশাল বিশাল পাহাড়। যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন পাহাড় কাটার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আমি এলাকার সোহেলের কাছ থেকে মাটি কিনেছি। একদিন মাটি কেটেছি, এরপর আর কাটিনি। বাকি অংশ অন্যরা কাটতে পারে। তবে সোহেলকে পাওয়া না গেলেও তার চাচি আনোয়ারা বেগম বলেন, পরিবারের সদস্য বেশি হওয়ায় বাড়ি করার জন্য কিছু অংশ পাহাড় কাটা হয়েছে। আমাদের প্রয়োজনে মাটি ব্যবহার করা হয়েছে। লোহাগাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মং এছেন বলেন, পাহাড় কাটা সম্পূর্ণ বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন