রায়পুর-চাঁদপুর মহাসড়কের পাশে ময়লা আবর্জনার স্তূপে স্বাগত ও বিদায় ফলক

রায়পুর-চাঁদপুর মহাসড়কের পাশে ময়লা আবর্জনার স্তূপে স্বাগত ও বিদায় ফলক

ফন্ট সাইজ:

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার সীমান্ত এলাকা বর্ডার বাজার সংলগ্ন রাস্তার পাশে ময়লা-আবর্জনার স্তূপের মধ্যখানে দাঁড়িয়ে থাকা ফলকের মাধ্যমে রায়পুর উপজেলাবাসীকে জানানো হয় বিদায় আর ফরিদগঞ্জ উপজেলাবাসীকে জানানো হয় স্বাগত। এটি পার্শ্ববর্তী জেলা চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলা এবং লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার সীমান্ত এলাকা। রায়পুর-ফরিদগঞ্জ সড়কের বর্ডার এলাকায় দুই জেলার সীমানায় একটি পাকা তোরণ। ফরিদগঞ্জ থেকে রায়পুরে ঢুকতে তোরণে যে লেখা চোখে পড়বে তা হলো- ‘স্বাগত রায়পুর উপজেলা’ যেখানে নাক বন্ধ করেও এক মিনিট দাঁড়ানো সম্ভব নয়। আবার রায়পুর থেকে ফরিদগঞ্জের দিকে যাওয়ার পথে চোখে পড়বে ‘ধন্যবাদ, বিদায় রায়পুর উপজেলা’ লেখা চোখে পড়বে। কিন্তু এ ‘ধন্যবাদ এবং স্বাগত’ জানানো হচ্ছে ময়লা-আবর্জনার স্তূপে দাঁড়িয়ে থাকা তোরণ দিয়ে যা অত্যন্ত দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অবস্থিত। স্থানীয় পথচারীরা অভিযোগ করে বলেন, এ স্থান থেকে ময়লার স্তূপ অপসারণ করার দাবি জানিয়েও কোনো সমাধান মেলেনি।

প্লাস্টিক ও অপচনশীল বর্জ্যরে দুর্গন্ধ বাতাসে ছড়িয়ে পড়ায় এলাকাটি মানুষের বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠেছে। অনেকে মরা মুরগি, হাঁস, পশু-পাখিও ফেলতে শুরু করেছে বর্জ্যরে স্তূপে। যার ফলে ভয়াবহ স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন এখানকার প্রায় চার হাজার মানুষ। দুর্গন্ধের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন নারী, শিশু, বৃদ্ধসহ সকল বয়সী মানুষ। নাগরিক সমাজ থেকে বারবার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সরানো নিয়ে দাবি তোলা হলেও কানে নেয় না সংশ্লিষ্টরা। এমন অভিযোগ জোরালোভাবে করছেন স্থানীয়রা। তবে পৌরসভা বলছে, বর্জ্য রাখার জন্য নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় বাধ্য হয়ে ওই স্থানে বর্জ্য ফেলতে হচ্ছে তাদের। জানা যায়, প্রতিদিন রায়পুর পৌর এলাকা এবং বিভিন্ন হাট-বাজার থেকে ১০০ থেকে ১১০ টন বর্জ্য সংগ্রহ করে পৌরসভা। আর এসব বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নির্দিষ্ট কোনো স্থান না থাকায় সেগুলো ফেলা হচ্ছে রায়পুর-ফরিদগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের বর্ডার বাজারের উত্তর-পূর্ব পাশে। সরজমিন দেখা যায়, স্থানটিতে বর্জ্যে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ, এতে করে দূষিত হচ্ছে আশপাশের পরিবেশ। একটি জেলাকে স্বাগত এবং আরেকটি জেলাকে বিদায় জানানো হয় এখান থেকে। কিন্তু এ স্থানটিকে বর্জ্য দিয়ে দূষিত করে রাখা হয়েছে। এতে আমরা ফরিদগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দাদের বর্জ্য দিয়ে স্বাগত জানাচ্ছি, আবার রায়পুর উপজেলাবাসীকে বর্জ্য দিয়ে বিদায় দিচ্ছি। এ বিষয়ে রায়পুর পৌরসভার কঞ্জারভেন্সি পরিদর্শক বলেন, পৌরসভার কোনো ডাম্পিং স্টেশন নেই। জানা যায়, ডাম্পিং স্টেশনের জন্য পৌরসভার মালিকানাধীন জমি প্রয়োজন, সেটি নেই। আর বর্জ্য ফেলার জন্যেও পৌরসভার নির্দিষ্ট স্থান নেই। তাই উপজেলার বর্ডার বাজার এলাকায় সড়কের পাশে বর্জ্য ফেলতে হচ্ছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন