পূর্ব সুন্দরবনে তিনদিন দস্যুদের আস্তানায় জিম্মি থাকার পর বনবিভাগের বনরক্ষী বেতার চালকসহ ৩ জনেকে ছেড়ে দিয়েছে দস্যুরা। শুক্রবার ভোরে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। এর আগে, গত মঙ্গলবার বিকালে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী সুন্দরবনের কালামিয়া এলাকা থেকে দুবলা ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির বনরক্ষী (বেতার চালক) ফরিদুলসহ ৩ জনকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় বনবিভাগ শরণখোলা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের জেলেপল্লী দুবলা ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির বনরক্ষী (বেতার চালক) মো. ফরিদুল ইসলাম জামালপুরের বাড়িতে ছুটি কাটিয়ে গত মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে পাথরঘাটার পদ্মাসøুইস থেকে দুবলা অফিসে যাওয়ার জন্য তোফাজ্জেল সরদার একটি ট্রলার ভাড়া করেন। ট্রলারে মাঝি তোফাজ্জেলের সহকারী মো. আলকাস ছিলেন তার যাত্রার সফর সঙ্গী। ট্রলারটি ওইদিন বিকাল ৫টার দিকে সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের কালামিয়া এলাকা অতিক্রম করার সময় বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী ট্রলারটিতে হামলা করে বেতার চালক ফরিদুল, ট্রলারের মাঝি ও তার সহকারীসহ ৩ জনকে অপহরণ করে সুন্দরবনের অজ্ঞাত স্থানে জিম্মি করে বনদস্যুরা।
এদিকে বনরক্ষী বেতার চালকের কোনো সন্ধান না পেয়ে শরণখোলা ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মো. খলিলুর রহমান বাদী হয়ে ১১ই জুন বৃহস্পতিবার বিকালে শরণখোলা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। বনবিভাগ আরও জানায়- নিখোঁজের পর বনরক্ষীসহ তিনজনের সন্ধান করতে ড্রোনের সাহায্যে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। গতকাল শুক্রবার ভোররাতে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা বনকর্মী ফরিদুলসহ তিনজনকে চোখ বাধা অবস্থায় সুন্দরবনের আমবাড়ীয়া এলাকায় ছেড়ে দিয়ে যায়। তবে জিম্মি অবস্থায় তাদের সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করেছে এ সম্পর্কে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি তারা। সুন্দরবন পূর্ব-বন বিভাগ বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, তিনদিন নিখোঁজ থাকার পর শুক্রবার সকালে দুবলা অফিসের বেতার চালক সহ তিনজন দস্যুর কবল থেকে ফিরে এসেছেন। তিনি আরও বলেন, বনকর্মীর পরিচয় পাওয়ার পর দস্যুরা কোনো মুক্তিপণ দাবি করেনি বলে জানান।
