জীবননগরে বিভিন্ন এলাকার রাস্তার ধারে ও পতিত জমিতে অবাধে গজিয়ে উঠেছে মরণঘাতী বিষাক্ত ঘাস ‘পার্থেনিয়াম’। দিন দিন এর বিস্তার আশঙ্কাজনক হারে বাড়লেও, এই উদ্ভিদের ভয়াবহতা সম্পর্কে এখনো অজ্ঞ স্থানীয়দের একটি বড় অংশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই উদ্ভিদের সংস্পর্শে এলে চর্মরোগ থেকে শুরু করে ক্যান্সারের মতো মারাত্মক রোগ হতে পারে।
সরজমিন চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কের পাশে তাকালেই দেখা যায়, সারি সারি সবুজ পাতার মাঝে সাদা ফুলের এই গাছগুলো বাতাসে দুলছে। দেখতে সাধারণ আগাছার মতো মনে হলেও এটি আসলে একটি নীরব ঘাতক। শুধু রাস্তার ধারেই নয়, ফসলের ক্ষেতের আইল এবং বসতবাড়ির আশপাশেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এই ক্ষতিকর উদ্ভিদ। কৃষি ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, পার্থেনিয়াম এক ধরনের বিষাক্ত আগাছা। এই গাছের সংস্পর্শে এলে ত্বকে চুলকানি, লালচে ভাব এবং মারাত্মক চর্মরোগ (ডার্মাটাইটিস) দেখা দেয়। এর ক্ষতিকর রেণু বা পরাগ রেণু বাতাসে ভেসে মানুষের শ্বাসনালীতে প্রবেশ করলে হাঁপানি, ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস এবং অ্যালার্জি হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শে ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধি হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।
গবাদিপশু এই ঘাস খেলে তাদের লিভার ও পাকস্থলীর মারাত্মক ক্ষতি হয়। এমনকি পশুর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। দুধেল গাই এটি খেলে দুধ তিতা হয়ে যায়। এটি ফসলি জমিতে ছড়িয়ে পড়লে জমির উর্বরতা হ্রাস পায় এবং প্রধান ফসলের ফলন প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গার সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে পথচারী ও কৃষকদের অনেকেই এই উদ্ভিদের নাম ও এর কুফল সম্পর্কে জানেন না। না বুঝেই অনেকে এই গাছ হাত দিয়ে উপড়ে ফেলছেন কিংবা এর মাঝ দিয়েই চলাচল করছেন, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মতে, পার্থেনিয়াম ধ্বংস করতে হলে অত্যন্ত সতর্ক হতে হবে।
