রমজানের শুরুতেই পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়িতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম হঠাৎ করে বেড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। বাজারে দেখা গেছে, ব্রয়লার মুরগি কেজি প্রতি ২৪০-২৫০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩৩০-৩৫০ টাকা, দেশি মুরগি ৫৮০ টাকা এবং গরুর মাংস ৭৫০-৯৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রসুন ১৬০-১৯০ টাকা, পিয়াজ ৬৫-৮৫ টাকা, শসা ৭০-৯০ টাকা এবং লেবু প্রতি হালি ১০০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ কয়েকদিন আগেও একই পণ্যের দাম ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ব্রয়লার মুরগি ছিল ১৭০, সোনালি ২৮০, দেশি মুরগি ৫২০ টাকা; রসুন ১৪০ এবং লেবু ৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। রমজানের শুরুতে এ ধরনের হঠাৎ দামের বৃদ্ধি ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করছে এবং তাদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। সাধারণ ক্রেতারা অভিযোগ করেছেন, রমজানের আগে এবং চলাকালীন সময়ে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বা অজুহাত দেখিয়ে দাম বাড়াচ্ছেন। এতে নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অনেক পরিবার বাধ্য হচ্ছেন দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পণ্য কমানোর বা কম মানের বিকল্প নেয়ার জন্য। খাগড়াছড়ি একটি পাহাড়ি ও তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে থাকা জেলা। এখানে বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান নেই, শিক্ষাগত সুযোগ
কম এবং অধিকাংশ মানুষ চাকরি, ক্ষুদ্র ব্যবসা বা দিনমজুরির ওপর নির্ভরশীল। এমন পরিস্থিতিতে নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপনকে কঠিন করে তুলেছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, জেলা প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম মাঝেমধ্যেই হলেও তা দীর্ঘমেয়াদে বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর হচ্ছে না। দাম আগের মতোই থাকে, ফলে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপের দাবি আরও জোরদার হচ্ছে। ভোক্তা অধিকার সংগঠন ও বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজারে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে নিয়মিত তদারকি, নির্ধারিত মূল্যতালিকা প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা, পাইকারি ও খুচরা দামের সমন্বয় এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের কঠোর প্রয়োগ জরুরি। অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে পরিস্থিতি পরিবর্তন হবে না। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক জরিমানা এবং জেল দেয়ার পাশাপাশি পুনরাবৃত্তি রোধে নজরদারি বাড়াতে হবে। একইসঙ্গে বাজারে স্বচ্ছতা আনতে প্রশাসন, ভোক্তা অধিকার সংগঠন, ব্যবসায়ী সমিতি এবং ভোক্তা প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে যৌথ উদ্যোগ
প্রয়োজন। প্রতিটি বাজারে নির্ধারিত মূল্যতালিকা দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন নিশ্চিত করতে হবে। অভিযোগ গ্রহণের জন্য হটলাইন বা সরাসরি মনিটরিং সেল চালু থাকলে সাধারণ মানুষ সহজে অনিয়মের তথ্য জানাতে পারবেন। ভোক্তা অধিকার সংগঠন কাউন্সিল অব কনজিউমার রাইটস বাংলাদেশ (সিআরবি) খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুর রউফ বলেন, ‘রমজানকে কেন্দ্র করে বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। এ অনিয়ম সহ্য করা যায় না। রসুন, পিয়াজ, মুরগি ও গরুর মাংসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধি নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করছে। আমরা জেলা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাই, নিয়মিত ও কার্যকর বাজার তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। শুধু অভিযান নয়, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে অসাধু ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। প্রতিটি দোকানে মূল্যতালিকা প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করতে হবে এবং তা নিয়মিত যাচাই করতে হবে।’ খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, ‘রমজানকে সামনে রেখে বাজারে কোনো অস্থিরতা বা কৃত্রিম সংকট আমরা সহ্য করবো না। যারা অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়াচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। রমজান সংযম ও সহমর্মিতার মাস। এই সময়ে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের চেষ্টা সমাজে নেতিবাচক বার্তা দেয়। ব্যবসায়ীদেরও সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রির মানসিকতা প্রদর্শন করতে হবে।’
রমজানের শুরুতে ব্যবসায়ীদের মুনাফালোভী আচরণ
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
২২ ফেব্রুয়ারি (রবিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
