শনিবার অষ্টম সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারতের কাছে হেরে হ্যাটট্রিক শিরোপা হাতছাড়া হয়েছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের। তাদের এই হতাশার মধ্যে সুখবর পেলেন মনিকা-মারিয়ারা। ২০২৪ সালে সাফ জেতার পর দেড় কোটি টাকার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। দীর্ঘ ১৯ মাস পর সেই অর্থ ফুটবলারদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়েছে বাফুফে। প্রত্যেক ফুটবলার পেয়েছেন পাঁচ লাখ করে। সাফজয়ী দলের খেলোয়াড় কৃষ্ণা রানী সরকার, মাসুরা পারভীন ও আফঈদা খন্দকার জানিয়েছেন তাদের ব্যাংক হিসাবে ৫ লাখ টাকা জমা হয়েছে।
২০২৪ সালে দ্বিতীয়বার সাফ জেতার পর তাবিথ আউয়ালের নেতৃত্বাধীন বাফুফের বর্তমান নির্বাহী কমিটির প্রথম সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের দু’টি শিরোপা জয়ের জন্য মোট দেড় কোটি টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে এই অর্থ বিতরণ নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। সেই অনিশ্চয়তা কেটে যাওয়ায় নারী ফুটবল দলের সদস্যরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন। সাফ জেতা স্কোয়াডের ২৩ ফুটবলার পেয়েছেন ৫ লাখ টাকা করে মোট ১ কোটি ১৫ লাখ টাকা। বাকি ৩৫ লাখ টাকা কোচ ও অফিসিয়ালদের পাওয়ার কথা।
গতকাল পর্যন্ত খেলোয়াড় ব্যাতীত কারও ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হয়নি। টাকা পেয়ে কৃষ্ণা রানী সরকার বলেন, ‘অনেকদিন অপেক্ষা করতে হয়েছে। আজ টাকা অ্যাকাউন্টে ঢোকায় খুব ভালো লাগছে। আমরা মাঠে লড়াই করি দেশের জন্য। এই স্বীকৃতি আমাদের আরও উৎসাহিত করবে।’ মাসুরা পারভীন জানান, ‘পুরস্কারের টাকা পাওয়ায় আমরা সবাই খুশি। এটা শুধু অর্থ নয়, আমাদের অবদানের স্বীকৃতি।’ ২০২২ সালে নেপালে অনুষ্ঠিত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ নারী দল প্রথমবারের মতো শিরোপা জয় করে ইতিহাস গড়ে।
পরের আসরেও তারা শিরোপা ধরে রাখে। দ্বিতীয়বার শিরোপা জয়ের সাফল্যে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ও সরকারের পক্ষ থেকে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে বিতরণে বিলম্ব হওয়ায় খেলোয়াড়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছিল। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীসহ পুরস্কার ঘোষণা করা অন্যান্য প্রতিষ্ঠান টাকা দিয়েছিল আগেই। কিন্তু নারী ফুটবলারদের প্রধান অভিভাবক বাফুফেই দীর্ঘ ১৯ মাস ঘুরিয়ে অবশেষে সাবিনা-ঋতুপর্ণা-কৃষ্ণাদের পুরস্কার প্রদান করলো।
এমন একটা দিনে বাফুফে এই পুরস্কারের টাকা পরিশোধ করলো যার আগের দিনই সাফের সেই শিরোপা হারিয়েছে ভারতের কাছে। বর্তমান দলেও ঋতুপর্ণা, আফঈদা খন্দকার, মারিয়া মান্দা ও তহুরা খাতুনসহ বেশ কয়েকজন ফুটবলার ছিলেন যারা ২০২৪ সালের সাফজয়ী দলের সদস্য। অনেকেই মনে করছেন এই টাকাটা ফাইনালের আগে দিলে খেলোয়াড়রা মানসিকভাবে আরেকটু উজ্জীবিত থাকতে পারতেন।

Jahangir alam
১ মাস আগেstupid BAFUFE is still there !