নলডাঙ্গায় আবাদি জমিতে পুকুর খনন, কমছে কৃষিজমি

নলডাঙ্গায় আবাদি জমিতে পুকুর খনন, কমছে কৃষিজমি

ফন্ট সাইজ:

নাটোরের নলডাঙ্গায় বিগত ১০ বছরে কমেছে প্রায় ৮০০ বিঘার চেয়ে বেশি কৃষিজমি। প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে নির্বিচারে পুকুর খনন ও অন্যান্য স্থাপনা ও ফসলি জমিসহ পুকুর সংস্কারের নামে নির্বিচারে চলছে পুকুর খনন ফলে কমে গেছে কৃষিজমি। উপজেলা প্রশাসনের কঠোর হুঁশিয়ারির পরও কিছুতেই কমছে না পুকুর খননের নামে মাটি বিক্রি। ইতিমধ্যে উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে একাধিক পুকুর খনন বন্ধ করেছে এবং ভেকুর ব্যাটারি জব্দ করেছে। উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়- ২০১৪ সালে উপজেলায় কৃষি জমির পরিমাণ ছিল ১৪ হাজার ৬৫ হেক্টর। যা কমে ২৪ সালে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৯৬০ হেক্টর জমি। সেই সঙ্গে সংকুচিত হয়েছে দেশের গভীরতম হালতিবিল। অভিযোগ উঠেছে প্রশাসনের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর পরোক্ষ যোগসাজশে চলেছে এমন অপকর্ম। আইন- কানুনের তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে পুকুর খনন করায় কমে যাচ্ছে আবাদি জমি। এতে কৃষি জমিতে স্থায়ী জলাবদ্ধতাসহ চাষাবাদের স্থায়ী ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন কৃষকরা এবং পাকা সড়কে পুকুরের মাটি পড়ে পরিণত হয়েছে কাঁচা সড়কে। ফসলি জমিতে পুকুর খননে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সে আইনের তোয়াক্কা করেনি কেউই। ফলে আবাদি জমির পরিমাণ কমে যাওয়াসহ খননকৃত পুকুরের পাশে শত শত বিঘা জমিতে স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া ইচ্ছামতো নষ্ট করা হচ্ছে দেশের সবচেয়ে গভীর জলাশয় হালতিবিলকে। বিলের ঠিক মাঝখানে ঠাই দাঁড়িয়ে রয়েছে হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট এবং এখনও বিলে কৃষিতে স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। সে সময় স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি বিলপারের মানুষ বাধা দিলেও নেতাদের দাপটে সেটা আর থামানো যায়নি। যার ফলে বিলের স্বাভাবিক নৌ চলাচলে বাধাগ্রস্তের পাশাপাশি নষ্ট করা হয়েছে কৃষি জমিকে। বর্ষাকালে দেশি প্রজাতির অন্তত শতাধিক প্রজাতির মাছের আধার তৈরি হয় এই হালতিবিলে। উন্মুক্ত জলাশয় থেকে মাছ শিকার করে জীব-জীবিকা চলে বিল দু’টির অন্তত লক্ষাধিক মানুষের। কিন্তু বিলের মাঝখানে-বেসরকারি এমন স্থাপনায় পানি প্রবাহে বাধাগ্রস্তের পাশাপাশি মাছের স্বাভাবিক প্রজনন নষ্ট করছে। এতে করে ব্যাহত হচ্ছে মাছ উৎপাদনে। বর্তমানে উপজেলায় পুকুর রয়ে সাড়ে ৩ হাজার। যার মধ্য বিপ্রবেলঘরিয়া ও পিপরুল ইউনিয়নে বেশি। হালতিবিলের যে অর্থনৈতিক গুরুত্ব,তা হয়তো দিন দিন শেষ করা হচ্ছে এমন সব স্থায়ী অবকাঠামো তৈরি করে। পুকুর খনন বন্ধে বিগত সময়ে কৃষকরা মানববন্ধনের মতো প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করলে বন্ধ হয়নি নির্বিচারে পুকুর খনন। স্থানীয় এলাকাবাসী জানান- উপজেলার কিছু প্রভাবশালীর কারণে মাটি ব্যবসায়ীরা এসব কাজ করে থাকে জরুরিভাবে প্রশাসনের কাছে দাবি হালতিবিলসহ উপজেলার কোথাও যেন কোনোভাবেই পুকুর খনন করতে দেয়া না হয়। এছাড়া সামপ্রতিক ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের একটি প্রতিনিধি দল নাটোরের হালতিবিলে কৃষি কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন এবং উপজেলার হালতিবিলের ব্লকের বিভিন্ন কৃষিজমি ও ফসল পরিদর্শন করেন তারা। পরিদর্শন শেষে মার্কিন প্রতিনিধি দলের প্রধান মিস সারাহ জেলেস্কি ও মার্কিন দূতাবাস কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ হালতিবিলের কৃষকদের সাথে মতবিনিময় করেন। উপজেলা কৃষি অফিসার মো. সবুজ আলী বলেন-কোনভাবেই কৃষি জমি পুকুরের আওতায় আনা যাবে না। আইনগতভাবে নিষিন্ধ রয়েছে। কৃষি জমিতে পুকুর খনন বন্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। পুকুর খনন বন্ধে কৃষি বিভাগ কৃষকদের সাথে কাজ করছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা মো.আল এমরান খান জানান- কৃষি জমি খনন করে পুকুর খনন চলবে না। কৃষি জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খনন করে শ্রেণি পরিবর্তন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। কৃষি জমিতে পুকুর বা জমির শ্রেণি পরিবর্তন বা পুরাতন পুকুর সংস্কার করতে হলে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করতে হবে। অবৈধভাবে পুকুর খননের বিষয়ে উপজেলা প্রসাশন কঠোর অবস্থানে আছে। সব সময় আমরা প্রস্তুত আছি অভিযান চলবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন