কলকাতার মেয়র পদ ছাড়তে চলেছেন ফিরহাদ হাকিম। বুধবার দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার পদত্যাগে সম্মতি দিয়েছেন বলে তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুনাল ঘোষ জানিয়েছেন। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিরহাদ হাকিম পদত্যাগপত্র জমা দেননি। জানা গেছে খুব শীঘ্রই কলকাতা পুরসভার চেয়ারপারসন মালা রায়ের কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেবেন।
নির্বাচনে গেরুয়া ঝড়ে পর্যুদস্ত হওয়ার পর থেকে কলকাতা পুরসভার মেয়র হিসাবে ফিরহাদ হাকিমকে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছিল না বলে অভিযোগ। ফিরহাদের দাবি, তিনি মেয়র থাকা সত্ত্বেও পুর কাউন্সিলরের মাধ্যমে সমস্ত কাজ দেখভাল হচ্ছে। তাই একাধিকবার ঘরোয়া বৈঠকে মেয়র পদ থেকে পদত্যাগের ইচ্ছাপ্রকাশ করেছিলেন ফিরহাদ হাকিম। কিন্তু তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করতে চাননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তবে ফল ঘোষণার একমাসের মাথায় দলে বিদ্রোহীরা সংখ্যা গরিষ্ঠতা দাবি করার পর ফিরহাদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে গিয়ে ‘সসম্মানে’ মেয়র পদ ছাড়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করেন। প্রথমে তাকে বাধা দেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী। কিন্তু ফিরহাদ পদ ছাড়ার ব্যাপারে তার সিদ্ধান্তে অটল এমনটা জানার পর অবশেষে তার কথায় সায় দেন মমতা।
গত একসপ্তাহে কলকাতা পুরসভার একাধিক পদাধিকারী পদত্যাগ করেছেন। সবর্শেষ পদত্যাগ করেছেন একজন মেয়র পরিষদও।
এদিকে, গত কয়েক দিনে কলকাতা পুরসভার পাঁচ তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলরকে তোলাবাজি, হুমকি ও ক্ষমতা প্রযোগের অভিযোগে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত ২৩ মে তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হন ১২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুদীপ পোল্লে। ২ জুন তোলাবাজির অভিযোগেই গ্রেফতার হন কলকাতা পুরসভার আরও দুই তৃণমূল কাউন্সিলর, ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের শচীন সিংহ এবং ১০৬ নম্বর ওয়ার্ডের অরিজিৎ দাস। বুধবার তোলাবাজি, হুমকি-সহ একাধিক অভিযোগে ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মহেশকুমার শর্মাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বৃহষ্পতিকার কলকাতা পুরসভার ১১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিশ্বজিৎ মণ্ডলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এক মহিলা বিশ্বজিতের নামে শ্লীলতাহানি এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। তার পরেই তিন বারের এই কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করেছে রিজেন্ট পার্ক থানার পুলিশ।
