ইসলামী ব্যাংকে চেয়ারম্যান নিয়োগ ক্ষতিকর হলে ভেবে দেখবে বাংলাদেশ ব্যাংক: মুখপাত্র

ফন্ট সাইজ:

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেছেন, তফসিলি ব্যাংকের পরিচালক ও চেয়ারম্যান পদ নিয়ে আমানতকারী বা কেউ সংক্ষুব্ধ হলে তা পুনঃবিবেচনা করতে পারে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বুধবার ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়ে টানা তৃতীয় দিনের আন্দোলনের বিষয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

বুধবার মতিঝিলের দিলকুশায় সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে দৈনিক বাংলা হয়ে প্রেস ক্লাবে গিয়ে শেষ হয়। প্রেসক্লাবে পথসভা শেষে তারা ফিরে যায় দিলকুশায়। সেখানে পুনরায় ঘোষণা করা হয়, খুরশীদ আলমের নিয়োগ বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
এ বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নে আরিফ হোসেন খান বলেন, রাস্তার কোনো আন্দোলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তে পরিবর্তন হবে না। এই ধরনের আন্দোলন চলুক এটাও নিশ্চয় বাংলাদেশ ব্যাংক চায় না।

বাংলাদেশ ব্যাংক চায় যে, যারা বিক্ষোভ প্রকাশ করছে তারা আসলে এই ব্যাংকের সঙ্গে কতটুকু সম্পৃক্ত এবং সত্যিকার অর্থে এই চেয়ারম্যানকে নিয়োগের কারণে এই ব্যাংকের স্বার্থ কতটা ক্ষুন্ন হলো? এটা বাংলাদেশ ব্যাংক বুঝতে চাচ্ছে। তিনি বলেন, যদি এরকম হয় যে, সত্যিকার অর্থেই উনার (নতুন চেয়ারম্যান) নিয়োগটা এই ব্যাংকের (ইসলামী ব্যাংকের) জন্য ক্ষতিকর হবে, বাংলাদেশ ব্যাংক তখন ভেবে দেখবে কি করা যায়? কিন্তু এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে এটাই চূড়ান্ত।

প্রেসক্লাবের সামনের সমাবেশে ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক নুর নবী মানিক বলেন, সরকার এমন একজনকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়িছেন যিনি দুর্নীতি, অনিয়মের দায়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বিতাড়িত ছিলেন। যেদিন ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম দিলকুশার ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারে সশরীরে আসবেন, সেদিন গ্রাহক ফোরাম এই টাওয়ারের সামনে গণজমায়েত করবে।

কোনোভাবেই ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে কার্যালয়ে ঢুকতে বা দায়িত্ব পালন করতে দেয়া হবে না হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, চিহ্নিত কোনো ঋণখেলাপি ও অর্থ পাচারের দায়ে অভিযুক্ত কোনো পরিচালককে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে কোনোভাবেই রাখা যাবে না।
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, কর্মবিরতি পালন করা যদি বৈধ কোনো প্রতিবাদের ভাষা হয়ে থাকে, সেটা তারা করতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংক এই ব্যাপারে কিছু বলবে না। ব্যাংকের ভিতরের কর্মপরিবেশ সুনিশ্চিত করা হচ্ছে কিনা, সেটা বাংলাদেশ ব্যাংক নজরে রাখছে।

যদি এমপ্লয়রা কর্মবিরতির ঘোষণা দেয়, তবে ওই প্রতিষ্ঠানই দেখবে। তাদের প্রশাসনিক যে কাঠামো, তাতে কোনো চেয়ারম্যান নিয়োগ বা পর্ষদের কোনো সদস্যের অন্তর্ভুক্তি বা ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অপসারণ এগুলোর ব্যাপারে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিবাদ জানানোর আইনগত কোনো ভিত্তি আছে কিনা।
গত ২৪শে মে চেয়ারম্যান জোবায়দুর রহমান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খান পদত্যাগ করার পর নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে সেদিনই খুরশীদ আলমকে বেছে নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তিনি ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিন বছর মেয়াদে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হয়েছিলেন। তবে ২০২৪ সালের ৫ই অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর খুরশীদ আলমসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন চার কর্মকর্তা পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
খুরশীদ আলমকে চেয়ারম্যান করার প্রতিবাদে ঈদের ছুটি শেষে প্রথম কর্মদিবস থেকে দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনের সড়কে আন্দোলন ও প্রতিবাদ সমাবেশ শুরু করে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা। এস আলম গ্রুপের সহযোগী আখ্যা দিয়ে তাকে সরানোর দাবি জানাচ্ছেন তারা।

প্রথম দিন আন্দোলনকারিদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। মুহুর্মুহ শব্দে পুরো এলাকা কেপে উঠে। পুলিশের দাবড়ানিতে আন্দোলন কারীদের পাশাপাশি পথচারি ও ব্যাংকে সেবা নিতে আসা ব্যক্তিরাও দৌড়ে সরে যেতে শুরু করেন। তারা বলছেন, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপের দখলে যাওয়ার আগে যারা পরিচালনা পর্ষদে ছিলেন, তাদেরকে দিয়েই ব্যাংক পরিচালনা করতে হবে।

ট্যাগসমূহ:

Saleh ahamed

১ মাস আগে

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র পরিচয় দানকারী এই ব্যাক্তি চরম মাত্রার বেয়াদব, আজেবাজে কুযুক্তি দিয়ে উনি নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের চরম ব্যার্থতা ঢাকার চেষ্টা করছেন। উনি কি এখন শৃঙ্খলিত নন? খুরশিদ আলমকে চেয়ারম্যান নিয়োগ কি বিএনপি সরকারের চাপিয়ে দেয়া সিদ্ধান্ত নয়? বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তারা শৃঙ্খলিত ছিল, তারা সাধারণ চাকুরীজীবি মাত্র, এই ধরনের খোঁড়া অজুহাত দিলে এই প্রতিষ্ঠান থাকারই দরকার নাই। এই সরকার ক্ষমতা হারালে তখন একইভাবে অজুহাত দিয়ে নিজেদের ব্যার্থতা ঢাকার চেষ্টা করবে।

not interested

১ মাস আগে

Arif is involved in the maline planning of making this movement strong and make a situation for greater movement to fall this govt...BNP careful

not interested

১ মাস আগে

This Arif should be removed

মিজানুর রহমান

১ মাস আগে

এস আলম গ্ৰুপ এই ব্যাংকে যা করেছে তা কোন বিবেকবান মানুষ মেনে নিতে পারে না। এত বড় একটা প্রতিষ্ঠান বাঁচলে লক্ষ লক্ষ মানুষ বাঁচবে দেশ বাঁচবে।

আমরা মুসলিম জাতি হিসেবে কত নিচে নেমেছি।
মুসলমান হয়েছি কবরে যেতে হবে, মালিকের কাছে হিসাব দিতে হবে, পরের হক পাই পাই করে বুঝিয়ে দিতে হবে এইটা বুঝে আসে না। কেমন মুসলমান আমরা।
আরে ভাই বৈধ ব্যবসা করে একটা দেশ কিনে ফেল, চাঁদে ঘর বাড়ি বানা, কে কি বলার আছে। মানুষের ঘাম ঝড়ানো কষ্টের টাকায় এত লোভ কেন।
মাটির নিচে তো যাওয়াই লাগবে যেমনটা বাপ দাদা সকলে ..…..... তাও আবার সম্পূর্ণ খালি হাতে।।।।।।।

মন্তব্য করুন