সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্তে ধীরগতি, পরিবারের হতাশা

ফন্ট সাইজ:

সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্তে দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে আবারো ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছে তাদের পরিবার। দীর্ঘ ১৪ বছরেও এই হত্যা মামলার তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় হতাশ একমাত্র ছেলে মেঘ। তবে পরিবারের উদ্বেগের কথা তদন্ত সংস্থার কাছে তুলে ধরার আশ্বাস দিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল। বুধবার মামলার অগ্রগতি তুলে ধরে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পরিবারের সদস্যরা ও অ্যাটর্নি জেনারেল।

সাগর-রুনির ভাই নওশের রোমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তারা নতুন করে আশার আলো দেখেছিলেন। তবে সরকার পরিবর্তনের পরও মামলার দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় পরিবার চরম হতাশার মধ্যে রয়েছে। তিনি বলেন, ১৪ বছর ধরে আমরা বিচার চাইছি। আগে অন্তত এক মাস পর পর আদালতে মামলার অগ্রগতির খবর পাওয়া যেতো, এখন ছয় মাস পর পর সময় দেয়া হচ্ছে। কী হচ্ছে, তদন্ত কোথায় দাঁড়িয়েছে এসব বিষয়ে আমাদের কোনো ধারণা নেই। তিনি আরও বলেন, তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তথ্য না পাওয়ায় নানা ধরনের গুজব ও নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে, যা পরিবারকে মানসিকভাবে আরও বিপর্যস্ত করছে।

সাগর-রুনির একমাত্র ছেলে মেঘ বলেন, এ মামলার অগ্রগতি নিয়ে আমাদের কাছে অনেকে জানতে চান। কিন্তু কোনো সদুত্তর দিতে পারি না। আমরা জানি না কী চলছে। কারণ আমরাই তো কিছু জানি না। তাদের কীভাবে জবাব দেবো।
এদিকে, অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন এবং তদন্তকারী সংস্থা বিভিন্ন বাস্তব সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। তিনি জানান, ঘটনার পর পর যেসব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন, তাদের অনেককে এখন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না।

অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, ১৫ বছর আগের একটি ঘটনা তদন্ত করতে গেলে প্রয়োজনীয় নথি, আলামত ও ঘটনার ধারাবাহিকতা থাকা জরুরি। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে তদন্তে বিলম্ব হওয়ায় অনেক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহে জটিলতা তৈরি হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন এবং নতুন করে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। পরিবারের সদস্যদের উদ্বেগ ও হতাশার বিষয়টিও তিনি তদন্তকারী কর্মকর্তাদের কাছে তুলে ধরবেন বলে আশ্বাস দেন।

তবে মামলার ভবিষ্যৎ বা তদন্ত শেষ পর্যন্ত সফল হবে কি না- এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী। তিনি বলেন, আমি কোনো মন্তব্য করছি না। আমি শুধু তদন্তকারী সংস্থা থেকে পাওয়া তথ্য ও বাস্তবতা তুলে ধরছি।

এ ছাড়া, বাদীপক্ষ ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির বলেন, আলোচিত এ মামলাটি আলো-আঁধারের মাঝখানে রয়েছে। অর্থাৎ আগে কোনো অগ্রগতি দেখিনি। অতীতের যে তদন্তগুলো করা হয়েছে, সেগুলো করার ক্ষেত্রে কিছু জবানবন্দি রেকর্ড আছে এবং আমি অগ্রগতি প্রতিবেদনও দেখেছি। এটি অনানুষ্ঠানিকভাবে আমি দেখেছি। আগামী ৭ই জুন এই প্রতিবেদনের কপির জন্য আমরা আবেদন করবো। তিনি আরও বলেন, অতীতে যে তদন্ত হয়েছে সেই তদন্তের সময়কার কিছু জবানবন্দি ফাইলবন্দি করা আছে। আমি দুটো ডিএনএ রিপোর্ট দেখেছি। একটা রিপোর্ট আমেরিকার একটি ইনস্টিটিউশন থেকে করা। এজন্য আমার মনে হয়, প্রগ্রেস রিপোর্টটা আপনাদের দেখালে বা পাবলিক ডকুমেন্ট হিসেবে কোর্ট থেকে নিলে সেটা যখন পরিবার দেখতে পাবে তখন আলো-আঁধারের মাঝখানে কিছু আশার আলো দেখতে পাবে।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১১ই ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের বাসা থেকে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বহুল আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের ১৪ বছরেরও বেশি সময় পার হলেও এখনো মামলার তদন্ত শেষ হয়নি এবং আদালতে কোনো অভিযোগপত্র দাখিল করা যায়নি।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন