জোরপূর্বক শ্রমের উৎপাদিত পণ্য আমদানি করার অভিযোগে বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের ওপর অতিরিক্ত শতকরা ১২.৫ ভাগ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর (ইউএসটিআর বা ইউনাইটেড স্টেটস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ)। এতে আছে বাংলাদেশ, ভারত, চীনসহ ৬০টি দেশ। তাদের অভিযোগ, এসব দেশ আমদানি করা পণ্য জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদনে এবং সেই নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে। এ বিষয়ে বিবৃতি প্রকাশ হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত বিবৃতিতে ইউএসটিআর জানায়, ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১-এর আওতায় তদন্ত শেষে তারা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, ৬০টি অর্থনীতির কর্মকাণ্ড, নীতি ও চর্চা ‘অযৌক্তিক’। সেগুলো মার্কিন বাণিজ্যের ওপর বোঝা সৃষ্টি করছে বা বাণিজ্য সীমিত করছে। ইউএসটিআরের রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদারদের জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানি মোকাবিলায় ব্যর্থতা গ্রহণযোগ্য নয়। গ্রিয়ারের দাবি, এই পরিস্থিতির কারণে মার্কিন শ্রমিকদের বৈশ্বিক বাজারে অসম প্রতিযোগিতার মাঠে লড়তে হচ্ছে। আমরা আর এই বৈষম্য মেনে নেব না। কিছু বাণিজ্যিক অংশীদার ইউএসএমসিএ (ইউনাইটেড স্টেটস-মেক্সিকো-কানাডা এগ্রিমেন্ট) এবং এগ্রিমেন্টস অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড-এর প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে প্রাথমিক পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে বৈশ্বিক বাণিজ্য যাতে জোরপূর্বক শ্রমকে উৎসাহিত না করে এবং স্থায়ী না করে, তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি অংশীদার দেশকে আরও বেশি কিছু করতে হবে।
ইউএসটিআর তদন্তাধীন অর্থনীতিগুলোর সব পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছে। সংস্থাটির মতে, যেসব অর্থনীতি ‘এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড’-এর মাধ্যমে জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করার আইন গ্রহণ করেছে বা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তাদের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। অন্যদিকে বাকি অর্থনীতিগুলোর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শুল্কের হার ১২ দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।
২০২৬ সালের মার্চে ইউএসটিআর এই ৬০টি অর্থনীতির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। অভিযোগ ছিল, তারা জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করতে এবং সেই নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, তদন্ত চলাকালে প্রায় ৬০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য এবং ৫০০টিরও বেশি মন্তব্য ও পাল্টা মন্তব্য গ্রহণ করা হয়েছে।
ইউএসটিআরের মতে, যেসব অর্থনীতি জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করতে ও তা কার্যকর করতে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশ, ভারত, চীন, ইসরাইল, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, জর্ডান, কুয়েত, মালয়েশিয়া, কাতার, রাশিয়া, সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বৃটেন, ভেনেজুয়েলা, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, তাইওয়ান সহ অনেক দেশ।
অন্যদিকে ইউএসটিআর বলেছে, যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করার আইন থাকলেও তা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছে- কানাডা, ইকুয়েডর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো ও পাকিস্তান।
যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্তাব এখন জনমত গ্রহণ ও শুনানির প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে যাবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে বাংলাদেশসহ বহু দেশের রপ্তানি খাত নতুন বাণিজ্যিক চাপে পড়তে পারে।
