নিষ্ক্রিয় দুদক আবার সচল হচ্ছে

ফন্ট সাইজ:

তিন মাস ধরে কমিশনবিহীন অবস্থায় থাকা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)কে আবারো পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দীর্ঘ সময় ধরে চেয়ারম্যান ও কমিশনারবিহীন অবস্থায় দেশের প্রধান দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি পরিচালিত হলেও গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত ও আইনি সিদ্ধান্ত গ্রহণে নানা সীমাবদ্ধতার মুখে পড়তে হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন কমিশন গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সূত্রমতে, দুদকের চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার নিয়োগের জন্য আইন অনুযায়ী একটি বাছাই (সার্চ) কমিটি গঠন করা হবে। সেই কমিটি গঠনের অংশ হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের একজন করে বিচারপতির নাম চেয়ে প্রধান বিচারপতির দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বিচারপতিদের নাম পাওয়ার পরই পাঁচ সদস্যের সার্চ কমিটি গঠনের কার্যক্রম শুরু হবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. আরিফুল হক মৃদুল স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের ৭ ধারা অনুসারে কমিশনার পদে নিয়োগে সুপারিশ করার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি বাছাই কমিটি করতে হবে। ওই বাছাই কমিটি গঠনের অংশ হিসেবে প্রধান বিচারপতি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি এবং হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতিকে মনোনয়ন দেবেন। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি সভাপতি ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি বাছাই কমিটির সদস্য হবেন।

তাই বাছাই কমিটি গঠনের লক্ষ্যে প্রধান বিচারপতিকে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতি ও হাইকোর্টের একজন বিচারপতিকে মনোনয়ন দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। সূত্র বলছে, গত ৩রা মার্চ দুদকের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন এবং দুই কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহ্‌সান ফরিদ পদত্যাগ করার পর থেকে কমিশন কার্যত নেতৃত্বহীন অবস্থায় রয়েছে। কমিশনের প্রশাসনিক কার্যক্রম চললেও কমিশন পর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ, গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা অনুমোদন, তদন্ত-সংক্রান্ত কিছু বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং সাংগঠনিক নানা কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়। সুপ্রিম কোর্ট সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পাঠানো চিঠিটি সোমবার সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছেছে।

তবে বর্তমানে প্রধান বিচারপতি দেশের বাইরে অবস্থান করায় বিষয়টি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আগামী ৫ই জুন তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে। ৭ই জুন অফিসে যোগদানের পর আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের একজন করে বিচারপতির নাম চূড়ান্ত করা হতে পারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, বিচারপতিদের নাম পাওয়ার পর খুব দ্রুতই সার্চ কমিটি গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে।

দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ অনুযায়ী পাঁচ সদস্যের বাছাই কমিটি কমিশনার নিয়োগের জন্য সুপারিশ করবে। এ কমিটির সভাপতি হবেন আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি। সদস্য হিসেবে থাকবেন হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতি, বাংলাদেশের মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি), বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত সচিব। আইনে বলা হয়েছে, সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত সচিবকে পাওয়া না গেলে বা তিনি দায়িত্ব নিতে অসম্মতি জানালে তার পূর্ববর্তী কোনো অবসরপ্রাপ্ত সচিবকে সদস্য করা যাবে। তাও সম্ভব না হলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

যেভাবে গঠন হবে কমিশন: আইন অনুযায়ী বাছাই কমিটি কমিশনের প্রতিটি শূন্য পদের বিপরীতে দু’জন করে প্রার্থীর নাম সুপারিশ করবে। অর্থাৎ চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার পদে মোট ছয়জনের একটি তালিকা প্রেসিডেন্টের কাছে পাঠানো হবে। প্রেসিডেন্ট সেই তালিকা থেকে তিনজনকে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেবেন এবং তাদের মধ্য থেকে একজনকে চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত করবেন। বাছাই কমিটির বৈঠকের জন্য পাঁচ সদস্যের মধ্যে অন্তত চার সদস্যের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। অর্থাৎ চার সদস্য উপস্থিত না থাকলে কমিটির সিদ্ধান্ত বৈধ হবে না।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন