রাজধানীর শ্যামলী এলাকায় অপহরণ ও ছিনতাই চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চক্রটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদমান সাকিবকে জিম্মি করলে ভুক্তভোগী পুলিশের পেট্রোল টিম দেখে চিৎকার দেয়। এ সময় অপহরণ চক্রের বাকি সদস্যরা পালিয়ে গেলেও চক্রের মূল পরিকল্পনাকারী জাহিদ গ্রেপ্তার হয়। পরে তার দেয়া তথ্যে আরও ৮ সদস্য গ্রেপ্তার হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- জাহিদ হোসেন, হোসাইন আহম্মদ ওরফে সিফাত, ইয়াছিন ওরফে আজমান, আরিফুল ইসলাম, মাহিম চৌধুরী আকাশ, সাকিব, সোহেল রানা, নাঈম, মর্তুজা তামিম।
গতকাল ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ফজলুল করিম। তিনি বলেন, আদাবর এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরে আমরা কিছু ঘটনার সংবাদ পাচ্ছি। কাউকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা। বেশ কিছুদিন আগেও আমরা মোহাম্মদপুর থানা কর্তৃক একটা চক্রকে গ্রেপ্তার করেছি। সাদমান সাকিব নামের একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সে রাত ১১টার দিকে শ্যামলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আসে। সেখানে আসার পর তিন থেকে চারজন দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে তাকে অপহরণ করে। পরে তাকে সরু গলির মধ্যে নিয়ে তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন, টাকা-পয়সা মানিব্যাগ নিয়ে নেয়। এরপর তার পরিবারের কাছে বিকাশে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
এই ঘটনা ওই সরু গলির মধ্যেই তারা চালিয়ে যাচ্ছিল। শ্যামলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আমাদের টহল পুলিশ বেশির ভাগ সময় টহল দিয়ে থাকে। এই টহল পুলিশকে দেখে তারা যে চাকুটা বের করেছিল সেটা লুকিয়ে ফেলে। পাশাপাশি ভুক্তভোগী যিনি ছিলেন তিনি পুলিশের গাড়ি দেখে সাহস পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার দেন। তখন আমাদের টহল পুলিশ যারা ছিলেন তারা তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় পুলিশ আসতে দেখে তখন আসামি জাহিদ ছাড়া বাকি সবাই পালিয়ে যায়। এ সময়ই জাহিদকে আটক করতে সক্ষম হই আমরা। পরে তাকে থানায় নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার দেয়া তথ্যমতে আরও ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মো. ফজলুল করিম বলেন, চক্রটি মোহাম্মদপুর আদাবর এলাকায় বিশেষ করে ভোরের দিকে যখন ব্যবসায়ীরা টাকা- পয়সা নিয়ে বিভিন্ন মালামাল আনতে যায় তখন এদেরকে টার্গেট করতো। বিশেষ করে কাউকে একা পেলে তাদেরকে টার্গেট করে অপহরণ করতো।
এই চক্রের মূল মাস্টারমাইন্ড জাহিদ। জাহিদসহ আরও দুই আসামির নামে দুইটি করে মামলা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এদের বিরুদ্ধে আদাবর থানায় মামলা হয়েছে। এই ৯ জনের বিরুদ্ধে আইনগত মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আসামিদের রিমান্ডে আনা হবে এবং এর সঙ্গে আরও কোনো চক্র আছে কিনা, তারা আর কোথায় কোথায় এই ঘটনা ঘটিয়েছে, কোনো ভুক্তভোগী আছে কিনা- আমরা সেটাও জানার চেষ্টা করছি। গ্রেপ্তারকৃত চক্রটি ভুক্তভোগীর মোবাইলের মাধ্যমে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ভুক্তভোগীর বিকাশের মাধ্যমে টাকা এনে সেন্ড মানি বা কোন কোন এজেন্টের কাছ থেকে ক্যাশআউট করে ভুক্তভোগীকে ফেলে চলে যেতো বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।
