নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকায় এসে ছিনতাই করতো চক্রটি

ফন্ট সাইজ:

ঈদুল আজহার ছুটি শেষে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বাসার সামনে ছিনতাইয়ের কবলে পড়েন দুই বোন। এই ঘটনায় জড়িত ছিনতাইকারী চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত দুজনই পেশাদার ছিনতাইকারী। তারা এক সময় মোহাম্মদপুরে থাকতো। তবে পরবর্তীতে গ্রেপ্তার এড়াতে নারায়ণগঞ্জে নতুন আস্তানা গড়ে তোলে। সেখান থেকে মোহাম্মদপুরে এসে নিয়মিত ছিনতাই করতো। বুধবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ‘মোহাম্মদপুরের আলোচিত ছিনতাইয়ের ঘটনার আসামি গ্রেপ্তার ও মালামাল উদ্ধার’ প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে এসব বলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ফজলুল করিম।

তিনি বলেন, গত ৩১শে মে ভোর ৩টা ৪০ মিনিটে ঠাকুরগাঁও থেকে ঈদের ছুটি কাটিয়ে ঢাকায় ফেরেন দুই বোন। মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোড এলাকায় বাসার সামনে মালামাল নিয়ে নামার পর একটি পিকআপে করে আসা তিন ব্যক্তি তাদের চাপাতি দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। পরে একটি ট্রলি ব্যাগ, একটি হ্যান্ডব্যাগ ও আরও একটি ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারে পুলিশ। এরপর ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করা হয়।

পরে ভুক্তভোগী এক নারী, যিনি পেশায় ব্যাংকার, মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন। মো. ফজলুল করিম বলেন, মামলার তদন্তে নেমে প্রথমে জুয়েল নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজে তাকে ছিনতাই হওয়া ব্যাগ পিকআপে তুলতে দেখা যায়। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনায় ব্যবহৃত পিকআপ ও চাপাতি উদ্ধার করা হয়। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় পাঁচটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে দু’টি মাদক মামলা, একটি ডাকাতি মামলা এবং নারী ও শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত দু’টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

পরবর্তীতে আনোয়ারকে গ্রেপ্তার করা হয়। এক প্রশ্নের জবাবে ফজলুল করিম বলেন, ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত পিকআপের চালক ও মালিক এই চক্রের সঙ্গে জড়িত। তাকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং দ্রুতই গ্রেপ্তার করা হবে।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া দুজনের মধ্যে জুয়েল চাপাতি হাতে ছিল এবং আনোয়ার ব্যাগ পিকআপে তুলেছিল। এ ছাড়া ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী বা ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে আরও একজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তার নাম প্রকাশ করা হয়নি।

একজন আসামি গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে অপর আসামি তার স্ত্রীকে ব্যাগটি সরিয়ে ফেলতে বলে। ফলে সেটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। মোহাম্মদপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে ফজলুল করিম বলেন, মোহাম্মদপুরসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে বাসস্ট্যান্ড ও ভোরে যাত্রী নামার স্থানগুলোতে মোবাইল ও টহল দল সক্রিয় রয়েছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রতিদিন বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ছিনতাইয়ের এ ঘটনায় ব্যবহৃত পিকআপ, চাপাতি ও ছিনতাই হওয়া কিছু আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে একটি ট্রলি ব্যাগ ও একটি মোবাইল ফোন এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন