বেনাপোল সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ

ফন্ট সাইজ:

বেনাপোল সাদিপুর সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া খুলে জোরপূর্বক পুশইন করা ১০ থেকে ১২ জন নারী-পুরুষ ও শিশুকে শূন্যরেখা থেকে সরিয়ে নিয়েছে বিএসএফ। বুধবার সকালে তাদের সরিয়ে নেয়া হয় বলে খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে শূন্যরেখা থেকে ১০-১২ জনকে সরিয়ে নেয়ার পর সীমান্ত থেকে বিজিবি’র অতিরিক্ত সদস্য প্রত্যাহার করা হয়েছে। বর্তমানে সীমান্তের ওই এলাকায় স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে।

গত রোববার রাত থেকে সাদিপুর সীমান্ত এলাকায় জোরপূর্বক পুশইন কেন্দ্র করে তিনদিন ধরে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এ সময় সীমান্তের শূন্যরেখায় ১০-১২ জন নারী-পুরুষ ও শিশু আটকে থেকে মানবেতর জীবনযাপন করছিল।

বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিএসএফ এসব নারী-পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশি নাগরিক দাবি করে কোনো ধরনের দ্বিপক্ষীয় নিয়মনীতি অনুসরণ না করেই পুশইনের চেষ্টা করে। এরপর তারা সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকে পড়ে। খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে জঙ্গলের মধ্যে অবস্থান করায় চরম দুর্ভোগে পড়েন তারা।

তবে আটকে থাকা নারী-পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশি নাগরিক- এমন কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণপত্র বা তথ্য না পাওয়ায় তাদের গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায় বিজিবি। নাগরিকত্ব যাচাই না হওয়া পর্যন্ত কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না বলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় বিজিবি। এর আগে গত রোববার রাতে বেনাপোলের সাদিপুর সীমান্তের ওপারে ভারতের হরিদাসপুর এলাকায় তিনটি ট্রাকে ১০০ থেকে ১২০ জন মানুষকে জড়ো করে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ।
তবে বিজিবি’র কঠোর অবস্থানের কারণে সেই চেষ্টাও ব্যর্থ হয়। সীমান্তের ভারতীয় অংশে ১০০ থেকে ১২০ জন মানুষকে অবস্থান করিয়ে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র জানায়।

জোরপূর্বক পুশইনের আশঙ্কায় বেনাপোল সীমান্ত জুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে বিজিবি। সীমান্তের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন, রাতের টহল বৃদ্ধি এবং আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়। যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান নেয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী শনাক্তকরণ ও উচ্ছেদ কার্যক্রম জোরদার হওয়ার পর থেকে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তেও। বিশেষ করে ভারতে জন্মগ্রহণকারী ও দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত অনেক মানুষের নাগরিকত্ব নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

যশোর-৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান জানান, গত রোববার থেকে বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে জানতে পারি, সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে পুশইনের সম্ভাবনা রয়েছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্ত এলাকায় বিজিবি’র টহল ও জনবল বৃদ্ধি করা হয়। ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিজিবি সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে থাকে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন