যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে ফেনীতে খেলা চলাকালীন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিয়ে প্রশংসা পাওয়া শিক্ষিকা সৈয়দা খালেদা আক্তার। বুধবার (৩রা জুন) দুপুরে দুই সন্তান আহনাফ ও আহির এবং দুই ভাই মামুন ও স্বনীলকে সঙ্গে নিয়ে সচিবালয়ে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে যান ওই শিক্ষিকা। এর আগে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ টুর্নামেন্টে ক্ষুদে ফুটবলারদের উৎসাহ দিয়ে ভাইরাল হওয়া ফেনী সদর উপজেলার গিল্লাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সৈয়দা খালেদা আক্তারকে সাক্ষাতের আমন্ত্রণ জানানো হয়। সাক্ষাৎ শেষে খালেদা আক্তার জানান, প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের আন্তরিক ও সোহার্দ্যপূর্ণ আলোচনায় মুগ্ধ হন তিনি।
চাকরির বিধি লঙ্ঘন হবে না- এমন সব সংস্থায় খালেদাকে সরকারি বিধি মোতাবেক পদ-পদবি প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেন মন্ত্রী। প্রায় এক ঘণ্টার আলোচনায় জাতীয় মহিলা সংস্থা, জেলা ক্রীড়া সংস্থাসহ মহিলাদের খেলাধুলায় পদ-পদবি নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার কথাও জানান মন্ত্রী।
এর আগে, প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে ফেনীতে খেলা চলাকালীন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দেয়া শিক্ষিকাকে উপহার পাঠান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
ফোন করে অভিনন্দন জানিয়ে সাক্ষাতের আমন্ত্রণ জানান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। বিএনপি ও ক্রীড়া সংগঠকগুলোর নেতারা ওই শিক্ষিকার বাসায় গিয়ে উৎসাহ দিচ্ছেন। খবরাখবর রাখছেন। সবশেষ রোববার জেলা শহরের সেলিনা পারভীন সড়কে গিল্লাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সৈয়দা খালেদা আক্তার পারভীনের বাসায় গিয়ে উপহার তুলে দেন বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মশিউর রহমান বিপ্লবের নেতৃত্বে দলটির নেতারা।
গত ২৬শে মে খালেদার বাসায় গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে পাঠানো উপহার তুলে দেন জেলা প্রশাসক মনিরা হক। গত ২৯শে এপ্রিল ফেনী পিটিআই স্কুল মাঠে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উপজেলা পর্যায়ের সেমিফাইনালে অংশ নেয় সদর উপজেলার গিল্লাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ম্যাচ চলাকালীন বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক সৈয়দা খালেদা আক্তার পারভীন তার শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিচ্ছিলেন। সেই মুহূর্তের একটি ভিডিওচিত্র দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশ জুড়ে ইতিবাচক সাড়া পড়ে যায়।
ফেনী সদরের এই শিক্ষিকার পুরো পরিবারই ক্রীড়া ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ।
তার বাবা সৈয়দ মমিনুল ইসলাম একসময় ঐতিহ্যবাহী মোহনবাগান ক্লাবের হয়ে ফুটবল খেলেছেন এবং ভাই সৈয়দ মামুনুল হাসান ছিলেন ফেনী জেলার নামি ফুটবলার। খালেদা নিজে এবং তার বোন ফেনী মহিলা ক্রীড়া সংস্থার হয়ে হ্যান্ডবল ও ভলিবল খেলেছেন। এমনকি তার প্রয়াত স্বামী গোলাম রব্বানী ছিলেন সকার ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও ফেনী জেলা ক্রীড়া সংস্থার ভাইস প্রেসিডেন্ট, যিনি বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশনের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
