২১ কোটি টাকার মার্কেটে দিনে কুকুর, রাতে মাদকসেবী

২১ কোটি টাকার মার্কেটে দিনে কুকুর, রাতে মাদকসেবী

ফন্ট সাইজ:

উন্নয়নের নামে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত অবকাঠামো বছরের পর বছর অব্যবহৃত পড়ে থাকলে তা জনদুর্ভোগ ও অপচয়ের প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়। নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌরসভার নির্মিত আধুনিক সুপার মার্কেট এখন যেন সেই বাস্তবতারই এক উদাহরণ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত অত্যাধুনিক এই মার্কেট চালু না হওয়ায় দিনে সেখানে কুকুরের বিচরণ আর রাতে মাদকসেবীদের আড্ডা বসছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। দীর্ঘদিনেও বাজারটি চালুর উদ্যোগ দৃশ্যমান না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে। সৈয়দপুর পৌরসভা থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে সৈয়দপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের পাশে শহরের মিস্ত্রিপাড়া বাইপাস সংলগ্ন এলাকায় পৌরসভার মালিকানাধীন জমির ওপর নির্মাণ করা হয় এই সুপার মার্কেট।

জানা গেছে, প্রকল্পটির কাজ শুরু হয় ২০২০ সালের ২২শে ডিসেম্বর। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ২০২১ সালের ২১শে সেপ্টেম্বর কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নানা জটিলতার কারণ দেখিয়ে কয়েক দফা সময় বাড়ানো হয়। অবশেষে ২০২৩ সালে নির্মাণকাজ শেষ হলেও আজও চালু হয়নি মার্কেটটি। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত এই মার্কেটে ৯০টি সুসজ্জিত দোকান, দু’টি টয়লেট ব্লক, উন্নত সড়কবাতি, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, গাড়ি পার্কিং সুবিধা, মাস্টার ড্রেনেজ সিস্টেম এবং অভ্যন্তরীণ পাকা সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য নিরাপদ ও আধুনিক বাণিজ্যিক পরিবেশ গড়ে তোলাই ছিল প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু বাস্তবে ব্যবহার না হওয়ায় পুরো স্থাপনাটি এখন অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে। সরজমিন দেখা যায়, বিশাল মার্কেট প্রাঙ্গণে দিনের বেলায় কুকুরের অবাধ বিচরণ। সন্ধ্যা নামতেই নির্জন হয়ে পড়ে পুরো এলাকা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে জড়ো হয় মাদকসেবী ও অসামাজিক চক্রের সদস্যরা। এদিকে প্রকল্পটির বর্তমান অবস্থা, দোকান বরাদ্দ এবং চালু না হওয়ার কারণ জানতে সৈয়দপুর পৌরসভায় একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ঘুরেও প্রয়োজনীয় তথ্য না পেয়ে পরে বিভিন্ন সূত্র ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে তথ্য সংগ্রহ করতে হয়। দোকান বরাদ্দপ্রত্যাশী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পৌর কর্তৃপক্ষের গড়িমসির কারণেই এখনো চালু হয়নি মার্কেটটি। অনেকেই দোকানের জন্য টাকা জমা দিলেও এখন অর্থ ফেরত চাইতে গিয়ে নানা অজুহাতের মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

একজন সম্ভাব্য ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা ভেবেছিলাম এখানে দোকান নিয়ে ব্যবসা করবো। কিন্তু এখনো কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই। আরেক বাসিন্দা আইনুল হক জানান, মার্কেট চালু না থাকায় এলাকায় অপরাধ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে পৌর কর্তৃপক্ষ বলছেন, প্রথমে শহরের অভ্যন্তরে মার্কেট নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও জমি-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে পরে বাইপাস এলাকায় এটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু কেন দীর্ঘদিনেও সেটি চালু করা যাচ্ছে না- সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা মেলেনি। পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, আমরাও চাই মার্কেটটি দ্রুত চালু হোক। তবে কবে নাগাদ চালু হবে কিংবা দীর্ঘসূত্রিতার মূল কারণ কী এ বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বা ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন