পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে গরিব অসহায় দুস্থ মানুষের মাঝে বিতরণকৃত ভিজিএফ চাল নিয়ে নীলফামারী জেলায় হরিলুটের অভিযোগ উঠেছে। ওজনে কম দেয়া, পছন্দের লোকজনকে স্লিপ দেয়া থেকে শুরু করে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কোথাও প্রকৃত দুস্থরা বঞ্চিত হয়েছেন। কোথাও একই পরিবারের সকলেই স্লিপ পেয়েছেন। কোথাও আবার চেয়ারম্যান-মেম্বাররা নিজেদের লোকজনদের মাঝে স্লিপ দিয়ে বস্তা বস্তা চাল সরিয়েছেন।
এ ছাড়া স্লিপ বিক্রির অভিযোগও রয়েছে বিস্তর। সূত্র জানায়, দুই একটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বাদে এ অবস্থা জেলার বেশির ভাগ ইউনিয়নেই। জেলা ত্রাণ বিভাগ সূত্র জানায়, ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় জেলার ৬ উপজেলা ও ৪ পৌরসভার জন্য ২ লাখ ৫৩ হাজার ৮০৬টি কার্ড বরাদ্দ দেয়া হয় এবং ২,৫৩৮.০৬ টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয় সরকারিভাবে।
নীলফামারী পৌরসভাসহ জেলার ৪ পৌরসভায় ১৫ হাজার ৪২৪ জন এবং জেলার ৬০ ইউনিয়নের জন্য ২ লাখ ৩৮ হাজার ৩৮২ জন অসহায় দুস্থ মানুষের মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করার কথা থাকলেও বেশির ভাগ ইউনিয়নেই সর্বোচ্চ সাড়ে সাত থেকে আট কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। একাধিক সূত্র জানায়, ঈদুল আজহার প্রায় এক সপ্তাহ আগে থেকে গোটা জেলায় স্লিপ ও চাল বিতরণ শুরু হয়। স্থানীয় জনগণ ছাড়াও বিভিন্ন সূত্র জানায়, ভিজিএফ চাল নিয়ে বরাবরের মতো এবারো হয়েছে নানামুখী তেলেসমাতি কারবার।
সূত্র অনুযায়ী, নীলফামারী সদর, জলঢাকা ও কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ভিজিএফ’র চাল নিয়ে অনিয়মের মাত্রা সবচেয়ে বেশি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্তত ১০-১২জন ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, ভিজিএফ নিয়ে মহাফাপড়ে পড়েন তারা। চাল উত্তোলন থেকে শুরু করে বিতরণ পর্যন্ত পদে পদে বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন। গুদাম থেকে চাল তুলতে গেলেই শ্রমিকদের টাকা দিতে হয়। না দিলেই ছেঁড়াফাটা বস্তার চাল কপালে জোটে। বস্তা লোড-আনলোড খরচ, আছে পরিবহন খরচ। আছে বস্তা পাহারার খরচ। আছে তালিকা ও মাস্টাররোল খরচ। আছে বিতরণের খরচও।
বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করার বিষয়ও নাকি জড়িত দুস্থদের চালের সঙ্গে। এজন্য নাকি মোটা অঙ্কের টাকাও গুনতে হয়েছে চেয়ারম্যানদের। এদিকে সরকারিভাবে কোনো খরচই না কি দেয়া হয় না। তবে বস্তা বেচে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা আসলেও ভিজিএফ চাল বিতরণে চেয়ারম্যানদের পকেট থেকে গচ্চা না কি লাখ টাকার উপর।
