স্বামীর মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বাস ও এম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে স্ত্রীসহ দু’জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৫ জন। গতকাল সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা-নড়াইল মহাসড়কের নড়াইল সদরের পূর্ব বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের (বাদশার গ্যারেজ) এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- যশোর সদরের মাহিদীয়া গ্রামের ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী জাহানারা বেগম (৫৫) এবং এম্বুলেন্স চালক আকবর হোসেন (২৯)।
নিহত চালক আকবর লক্ষ্মীপুরের রামগতী উপজেলার পূর্ব চর-কলাকোপা গ্রামের আব্দুল হাসিমের ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, যশোর সদর উপজেলার মাহিদীয়া গ্রামের ইসমাইল হোসেন বুধবার ভোরে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে মারা যান। তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। তার মরদেহ নিয়ে এম্বুলেন্সে তার স্ত্রী জাহানারা পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে গ্রামের বাড়ি যশোরের মাহিদীয়ার উদ্দেশ্যে রওনা করেন। এম্বুলেন্সটি নড়াইল সদরের পূর্ব বালিয়াডাঙ্গা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা বেপরোয়া গতির একটি লোকাল বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে এম্বুলেন্সটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই জাহানারা মারা যান।
আহতদের উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক এম্বুলেন্স চালক আকবরকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত জাহানারার ছেলে পুলিশের উপ-পরিদর্শক তাহের হোসেন ও তাদের সঙ্গে থাকা সেলিম, মিন্টু, তানভীর এবং বাসযাত্রী সায়েরাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
এম্বুলেন্সে থাকা সেলিম ও মিন্টু বলেন, তারা এসআই তাহেরের বাবার লাশ নিয়ে যশোর যাচ্ছিলেন। নড়াইল সদর থানার ওসি অজয় কুণ্ডু জানান, এম্বুলেন্স ও লোকাল বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই পুলিশ কর্মকর্তার মা নিহত হন। পরে হাসপাতালে নেয়ার পথে এম্বুলেন্স চালক মারা যান।
এ ঘটনায় আরও ৫ জন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি জব্দ করা হয়েছে। চালককে আটকের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
