তীব্র গরমে স্বস্তি রসালো তালের শাঁসে

ফন্ট সাইজ:

প্রচণ্ড গরম আর তীব্র দাবদাহে অতিষ্ঠ জনজীবনে স্বস্তির পরশ বুলিয়ে দিচ্ছে কচি তালের শাঁস। হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার, সড়কের মোড় ও জনবহুল এলাকায় এখন জমে উঠেছে কচি তালের শাঁসের বেচাকেনা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের ভিড়ে সরগরম হয়ে উঠছে তাল বিক্রির অস্থায়ী দোকানগুলো। গরমে শরীর ঠান্ডা রাখা এবং তৃষ্ণা মেটাতে সব বয়সী মানুষের কাছে কচি তালের শাঁস এখন অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। উপজেলার নতুন বাজার, থানা এলাকা, নতুন ব্রিজ, ড্রাইভার বাজার, দাউদনগর বাজার, পোস্ট অফিস মোড়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সারি সারি কচি তাল নিয়ে বসেছেন মৌসুমি বিক্রেতারা।

ছুরি দিয়ে তাল কেটে ভেতরের স্বচ্ছ ও নরম শাঁস বের করে ক্রেতাদের হাতে তুলে দিচ্ছেন তারা। গরমে ক্লান্ত পথচারী, শ্রমজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী ব্যক্তিরা মুহূর্তেই স্বস্তি পেতে ভিড় করছেন এসব দোকানে। সরজমিন দেখা যায়, দুপুরের তীব্র রোদ উপেক্ষা করেই অনেক মানুষ কচি তালের শাঁস কিনছেন। বিরামচর গ্রামের তাল বিক্রেতা মো. ফারুক হোসেন জানান, প্রতি বছর গরমের মৌসুমে তিনি কচি তাল বিক্রি করেন। বিভিন্ন গ্রামের গাছমালিকদের কাছ থেকে চুক্তির মাধ্যমে তাল সংগ্রহ করতে হয়।

একটি গাছের জন্য ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। এরপর শ্রমিক দিয়ে তাল নামিয়ে বাজারে এনে বিক্রি করা হয়। থানা ব্রিজ এলাকার বিক্রেতা মো. মুসা খান জানান, তালের আকার ও মান অনুযায়ী প্রতিটি কচি তাল ১৫ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। বড় আকারের কিছু তাল আরও বেশি দামে বিক্রি হয়। স্থানীয় শিক্ষিকা ফাতেমা জাহান বলেন, তালের শাঁস খুবই সুস্বাদু, স্বাস্থ্যকর এবং প্রাকৃতিকভাবে শরীর ঠান্ডা রাখে। শিশুদের কাছেও এটি খুব জনপ্রিয়। তাই সুযোগ পেলেই কিনে নিয়ে যাই।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কচি তালের শাঁসে প্রচুর পানি, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, খনিজ লবণ এবং খাদ্যআঁশ রয়েছে। এটি শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে, হজমশক্তি বাড়াতে, কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে এবং গরমে শরীরকে শীতল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রবীণরা জানান, একসময় উপজেলার প্রায় প্রতিটি গ্রামে অসংখ্য তালগাছ দেখা যেতো। কিন্তু অপরিকল্পিতভাবে গাছ কাটা, নতুন করে তালগাছ রোপণে অনীহা এবং নগরায়ণের কারণে তালগাছের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। পরিবেশ সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, তালগাছ শুধু ফলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়, এটি বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য তালগাছ সংরক্ষণ এবং নতুন করে ব্যাপকভাবে তালগাছ রোপণের উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন