পাবনার পদ্মা নদী থেকে হাত বাঁধা ও গলায় বাজারের ব্যাগ প্যাঁচানো অবস্থায় বস্তাবন্দি এক স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত কিশোরী রিয়া খাতুন (১৫)। পাবনা শহরের পূর্বরাঘবপুর এলাকার বাসিন্দা আজিজুল প্রাংয়ের মেয়ে। বুধবার সকাল ১০টার দিকে সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের বলরামপুর-পীরপুর সংলগ্ন পদ্মা নদীর তীর থেকে ভাসমান অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করা হয়।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে কয়েকজন কৃষক পদ্মার চরে কাজ করতে যাওয়ার সময় নদীর তীরে একটি বস্তা ভাসতে দেখতে পান। বস্তাটি সন্দেহজনক মনে হলে তারা কাছে গিয়ে দেখেন এর ভেতরে কিছু রয়েছে। পরে বস্তার মুখ খুলতেই একটি কিশোরীর মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মরদেহটি একটি বস্তার মধ্যে রাখা ছিল। কিশোরীর হাত বাঁধা ছিল এবং গলায় বাজারের ব্যাগ প্যাঁচানো ছিল।
এসব আলামত দেখে স্থানীয়দের ধারণা, তাকে হত্যার পর মরদেহ গোপন করার উদ্দেশ্যে নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছে। এদিকে স্থানীয় কয়েকজন জানান, মঙ্গলবার গভীর রাতে ওই এলাকায় একটি অজ্ঞাত পরিচয়ের প্রাইভেটকারকে সন্দেহজনকভাবে চলাচল করতে দেখা যায়। বিষয়টি খতিয়ে দেখলে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে তাদের ধারণা।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া মরদেহের পরিচয় শনাক্তের পর নিহতের পরিবারের সদস্যদের খবর দেয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি একটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হলেও হত্যার কারণ এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘উদ্ধার হওয়া কিশোরীর পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।
মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।’ নিহত রিয়া খাতুনের মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দ্রুত ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
