কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায় এক নারকীয় ঘটনায় মাত্র ছয় বছর বয়সী শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। গত মঙ্গলবার বিকাল আনুমানিক ২টা থেকে ৩টার দিকে উপজেলার ১৪ নম্বর লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বড় কালিকাপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ধর্ষক হারুনুর রশিদ, পেশায় একজন গাছি (গাছ কাটার লোক), ঘটনার পরপরই পালিয়ে যায়। জানা যায়, ঘটনার দিন দুপুরে শিশুটি তার সমবয়সী এক বন্ধুর সঙ্গে বাড়ির পাশের বাগানে খেলছিল। সেই ফাঁকে অভিযুক্ত ধর্ষক হারুনুর রশিদ কলা খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে কৌশলে নিজের মেয়েকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়।
এরপর শিশুটিকে একা পেয়ে বাড়ির পাশের নির্জন জঙ্গলের ভেতরে নিয়ে গিয়ে পাশবিক কায়দায় ধর্ষণ করে। শিশুটি যন্ত্রণায় কান্নায় ভেঙে পড়লে হারুনুর রশিদ তার মুখ চেপে ধরে এবং গাছ কাটার কাটালি দেখিয়ে মুখ না খোলার হুমকি দেয়। নির্যাতনের পর শিশুটি কান্নাকাটি করতে করতে বাড়িতে ফিরে আসে। তার অসহায় চেহারা ও অবিরাম কান্না দেখে বড় বোন সঙ্গে সঙ্গে মা’কে ডেকে আনেন। জিজ্ঞেস করলে ভয়ে কাঁপতে থাকা ছোট্ট শিশুটি ধীরে ধীরে পুরো ঘটনা খুলে বলে। বড় বোন জামা সরিয়ে দেখতে পান শিশুর শরীরে নির্যাতনের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে।
পরিবার তাৎক্ষণিকভাবে শিশুটিকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং বর্তমানে সে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। জানা গেছে, অভিযুক্তের বাড়ি লাকসাম খিলা চরবাড়িয়া এলাকায় এবং সে দীর্ঘদিন ধরে শ্বশুরবাড়িতে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস করে আসছিলো।
এই ঘটনায় তার ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি মর্মাহত কণ্ঠে বলেন, আমি আমার বাবার এই জঘন্য কাজের তীব্র নিন্দা জানাই এবং তার সর্বোচ্চ শাস্তি কামনা করি। বরুড়া তদন্ত ওসি সঞ্জয় সরকার বলেন, থানায় মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং আহত শিশুটি চিকিৎসাধীন রয়েছে। পলাতক ধর্ষক হারুনুর রশিদকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের একাধিক দল এখন মাঠে রয়েছে।
অতি শিগগিরই তাকে আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। এলাকা জুড়ে এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ, শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্ত ধর্ষণকারী হারুনুর রশিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং দ্রুত বিচারের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
