ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের নিয়োগ বাতিল ও পদত্যাগের দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করেছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। পাশাপাশি গ্রাহকদের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে ব্যাংকের কর্মকর্তাদের কর্মবিরতি পালনের আহ্বান জানান তারা।
বুধবার রাজধানীর মতিঝিলের দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। পরে মিছিলটি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
বিক্ষোভ মিছিলের আগে গ্রাহক ফোরামের সভাপতি নুর নবী মানিক এসব কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, যেদিন খুরশিদ আলম ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারে আসবেন, সেদিন গ্রাহক ফোরাম এই টাওয়ারের সামনে উপস্থিত হবে। তাকে কোনোভাবেই ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে মেনে নেয়া হবে না। এ ছাড়া ঋণ খেলাপি ও অভিযুক্ত কোনো পরিচালক ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে থাকতে পারবেন না।
ঈদের আগে শেষ কর্মদিবসে ইসলামী ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। একই দিন রাত ৯টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপরই সচেতন গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে আন্দোলন করে আসছেন ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকেরা।
আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন দাবির পাশাপাশি সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার নিন্দা জানান। আরিফ হোসেন খান বলেছিলেন, একটি রাজনৈতিক দলের সদস্যরা ইসলামী ব্যাংক নিয়ে অস্থিরতা ছড়াচ্ছে। সড়কে আন্দোলন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন আসবে না।
আন্দোলনকারীরা বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার মতো দায়িত্বশীল পদে থেকে রাজনৈতিক বক্তব্য অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা গ্রাহক, গ্রাহক পরিচয়েই দাবি নিয়ে এসেছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে মালিকানা ও পরিচালনা কাঠামো পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে ব্যাংকটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে। সম্প্রতি চেয়ারম্যান পরিবর্তনের পর থেকে নতুন করে আন্দোলন শুরু হয়, যা টানা কয়েকদিন ধরে চলছে।

Nurul Amin FCMA
১ মাস আগেব্যাংক একটি দেশের অর্থনৈতিক মূল চালিকাশক্তি। যা কিনা আমানতকারীদের কনফিডেন্স এর উপরে নির্ভরশীল। একটা দেশের প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী কোন দলের নয়। তাঁরা দেশের জাতীয় লিডার। রাজনৈতিক ভেদাভেদ শাশ্বত ও চিরন্তন। কিন্তু দেশের অর্থনীতি, পররাষ্ট্র নীতি- এগুলো দেশের সর্বোচ্চ স্বার্থে ব্যবহৃত হওয়া উচিত। আফসোস লাগে যখন দেখি, অর্থনীতির রক্ষকরা সাধারণ আমানতকারীদের ভাষা বুঝতে অসমর্থ হয়! সরকারের শুভ বোধ জাগ্রত হোক-এ প্রত্যাশা থাকলো