কুমিল্লায় কবরস্থানের জায়গা দখলের অভিযোগ ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে

কুমিল্লায় কবরস্থানের জায়গা দখলের অভিযোগ ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে

ফন্ট সাইজ:

কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার রাজাপাড়া লক্ষীনগর উত্তর পাড়া এলাকায় কবরস্থানের জায়গা ও এক প্রবাসীর পৈত্রিক সম্পত্তি দখল করে ঘর নির্মাণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা মজিবুর রহমান ও তার বড় ভাই যুবলীগ নেতা শাহিনের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগে মঙ্গলবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করে ভুক্তভোগী প্রবাসী জামাল হোসেন দাবি করেন, দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর বিদেশে অবস্থান করার সুযোগে অভিযুক্তরা তার পৈত্রিক সম্পত্তি এবং কবরস্থানের অংশবিশেষ জোরপূর্বক দখলে রেখেছেন। সম্প্রতি ওই জায়গায় ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলে তিনি বাধা দেন। এরপর তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মারধরের অভিযোগ এনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ভিডিও ও বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে, যা তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে জামাল হোসেন বলেন, “এ জায়গাটি কবরস্থানের সম্পত্তি। কবরস্থানের রাস্তা ও জায়গা সংরক্ষণের স্বার্থে আমি দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছি। কিন্তু একটি পক্ষ বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও হামলার অভিযোগ এনে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যার কোনো ভিত্তি নেই।”

তিনি আরও বলেন, “কবরস্থানের জায়গা রক্ষার আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত করতেই পরিকল্পিতভাবে এসব মিথ্যা অভিযোগ প্রচার করা হচ্ছে। এ ধরনের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আমি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তাক হোসেন জানান, প্রায় চার মাস আগে শাহিন, মজিবুর রহমান, সাইফুল ও মিজানের বিরুদ্ধে জায়গা অবৈধভাবে দখল করে রাখার অভিযোগে আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা বাচ্চু মিয়া বলেন, “বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে প্রশাসনের যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আমার জানামতে, জামাল হোসেন চাঁদাবাজি বা মারধরের মতো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন।”

তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করেও অভিযুক্ত শাহিন, মজিবুর রহমান, সাইফুল ও মিজানের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের মতে, কবরস্থানের জায়গা ও পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে সৃষ্ট এ বিরোধের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

ট্যাগসমূহ: