বণিক বার্তা
‘২৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগেও উত্তরের পথে যানজটের শঙ্কা’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা হয় ২০২২ সালে। এতে খরচ হয়েছিল ৬ হাজার ১৬৮ কোটি টাকা।
টাঙ্গাইল থেকে রংপুর পর্যন্ত মহাসড়কটিতে চার লেনের উন্নয়নকাজ শেষের পথে। এ কাজে ব্যয় হচ্ছে ১৯ হাজার ৫৬ কোটি টাকা। এ দুই প্রকল্পের মাধ্যমে ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয় হলেও ঈদযাত্রায় যানজট পিছু ছাড়ছে না ঢাকা-টাঙ্গাইল-রংপুর মহাসড়কে। ঈদুল ফিতরের মতো এবার ঈদুল আজহার যাতায়াতেও যানজটের ভোগান্তিতে পড়ছেন উত্তরাঞ্চলগামী যাত্রীরা। গতকাল দুপুরের পর থেকে মহাসড়কটির কড্ডা-চন্দ্রা এবং চন্দ্রা-নবীনগর অংশে ২০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে যানজট দেখা দেয়। আজ গাজীপুর অঞ্চলের শিল্প-কারখানা ছুটি হলে ঘরমুখী মানুষের চাপে এ যানজট তীব্র আকার ধারণ করবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শুধু যানজট নয়, ঈদযাত্রায় মহাসড়কটি হয়ে ওঠে দুর্ঘটনাপ্রবণও। গতকাল ভোরে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে রড বোঝাই ট্রাক উল্টে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহত ১৫ জনের মধ্যে নয় জনই নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভাঁরশো ইউনিয়নের বাসিন্দা। এ দুর্ঘটনার জন্য ট্রাকচালককে দায়ী করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। গতকাল ঢাকার ফার্মগেটে মেট্রোরেলের স্টেশনে সিনিয়র সিটিজেন, প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন যাত্রীদের জন্য ২৫ শতাংশ ভাড়া ছাড় কার্যক্রম উদ্বোধন শেষে তিনি বলেন, ‘এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। তবে রাস্তার অবকাঠামো বা ব্যবস্থাপনায় কোনো ত্রুটি ছিল না।’
টাঙ্গাইলের দুর্ঘটনায় নিহত সবাই নিম্ন আয়ের মানুষ, যারা খরচ বাঁচাতে ঝুঁকি নিয়ে ট্রাকের ছাদে বাড়ি ফিরছিলেন। এ মহাসড়কে প্রতিবারই ঈদযাত্রায় ট্রাক, পিকআপের মতো পণ্যবাহী যান, বাসের ছাদসহ বিভিন্ন বাহনে মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে দেখা যায়। গতকাল সরেজমিন মহাসড়কটি ঘুরেও এমন চিত্রের দেখা মিলেছে।
এবারের ঈদযাত্রায় গতকাল পর্যন্ত ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ছাড়া দেশের অন্য কোনো মহাসড়কে বড় ধরনের যানজটের খবর পাওয়া যায়নি, যদিও সব মহাসড়কে বেড়েছে যানবাহনের চাপ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে চলমান উন্নয়নকাজ ঢাকা-টাঙ্গাইল-রংপুর মহাসড়কে যানজটের অন্যতম কারণ। মহাসড়কটির আশপাশে গড়ে ওঠা হাটবাজার এবং নানামুখী বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থাপনাও যানজট তৈরি করছে। এছাড়া বিদ্যমান যমুনা সেতুকে মহাসড়কটির যানজটের অন্যতম উৎস হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তারা।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘একটি পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামোর যে চরিত্র, সেটি আমরা পাচ্ছি না। কাজ দীর্ঘদিন ধরে চলায় কোথাও দুই লেন থেকে চার লেন হচ্ছে, আবার কোথাও চার লেনের কাজ অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। ফ্লাইওভারের কাজও আংশিক হয়েছে। ফলে এত বিশাল বিনিয়োগের পরও পুরো চার লেনের সুবিধা বা গতি আমরা তৈরি করতে পারিনি, অনেক জায়গায় বটলনেক (সংকুচিত পথ) রয়ে গেছে।’
অধ্যাপক হাদিউজ্জামান হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘বিশাল বিনিয়োগ হলেও আমরা ল্যান্ডইউজ প্ল্যান বা ভূমি ব্যবস্থাপনা করতে পারিনি। এটি আমাদের বড় ব্যর্থতা। শুধু অবকাঠামো তৈরি করলেই হবে না, অবকাঠামোর সঙ্গে ভূমি ব্যবস্থাপনার ইন্টিগ্রেটেড বা সমন্বিত পরিকল্পনা জরুরি। তা না হলে বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও কাঙ্ক্ষিত গতি যেমন আসবে না, তেমনি সড়ক দুর্ঘটনা কমানো বা সেফ মবিলিটি (নিরাপদ চলাচল) নিশ্চিত করাও সম্ভব হবে না। আর এর বড় মাশুল আমাদের দিতে হবে।’
এদিকে এবারের ঈদযাত্রায় ঢাকা-টাঙ্গাইল-রংপুর মহাসড়কে ২৫টি ঝুঁকিপূর্ণ স্পট চিহ্নিত করেছে হাইওয়ে পুলিশ। এসব জায়গায় অতিরিক্ত গাড়ি, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা এবং পশুবাহী ট্রাকের কারণে তীব্র যানজট তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে চন্দ্রা ফ্লাইওভারের পশ্চিম প্রান্ত, কালিয়াকৈর, এলেঙ্গা, যমুনা সেতু টোল প্লাজা, হাটিকুমরুল আন্ডারপাসসহ বিভিন্ন মোড়, বাজার ও হোটেলের সামনে গাড়ির গতি ধীর হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
হাইওয়ে পুলিশ বেশকিছু ঝুঁকিপূর্ণ স্পট চিহ্নিত করলেও সরকারের সেতু বিভাগ বলছে, এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত অংশে বর্তমান অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং গৃহীত সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপের ফলে ঈদের সময়ে যানবাহন চলাচলে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা বা যানজটের আশঙ্কা নেই।
এ প্রসঙ্গে সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বিগত বছরগুলোতে এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত অংশটি ঈদযাত্রায় বড় চ্যালেঞ্জ হলেও এবার কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। নির্মিত দুই লেনের সার্ভিস সড়ক ও মূল সড়কের সমন্বয়ে পুরো অংশে কার্যত চার লেনের সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে, যার ফলে যানবাহন স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারবে। এছাড়া যমুনা সেতুর পূর্ব গোলচত্বর থেকে ইব্রাহিমাবাদ রেল স্টেশন পর্যন্ত ৭০০ মিটার নতুন সড়কও যান চলাচলের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।’
এবার রেলপথে আনুষ্ঠানিকভাবে ঈদযাত্রা শুরু হয়েছে গত শনিবার। প্রথম দুইদিন রেলপথে স্বস্তি নিয়ে মানুষ যাতায়াত করলেও গতকাল ঢাকা ছেড়ে যাওয়া ট্রেনগুলোতে মানুষের অতিরিক্ত চাপ চোখে পড়েছে। একাধিক আন্তঃনগর ট্রেনের ছাদে যাত্রীদের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াতের দৃশ্যও দেখা গেছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ট্রেনের এসি বগিতে দাঁড়ানো যাত্রী তোলার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করলেও গতকাল একাধিক ট্রেন পরিদর্শন করে এসি বগিগুলোতেও দেখা গেছে উপচে পড়া ভিড়।
গতকাল একাধিক ট্রেনে শিডিউল বিপর্যয়ের খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে রংপুর, রাজশাহী ও উত্তরাঞ্চলগামী ট্রেনগুলো নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ২ থেকে ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্বে চলাচল করছে বলে অভিযোগ করেন যাত্রীরা।
গতকাল বিকাল থেকে ঢাকার সদরঘাটেও বাড়তে শুরু করে ঘরমুখো যাত্রীর চাপ। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, এবারের ঈদে নদীপথে প্রায় ১০-১২ লাখ মানুষ যাতায়াত করতে পারে। এ বিপুলসংখ্যক যাত্রীর যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে প্রায় ১৭৫টি লঞ্চ।
প্রথম আলো
‘বিভিন্ন খাতে সরকারের উদ্যোগ নতুন আশার সঞ্চার করেছে’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার প্রতিবেদন। খবর বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার গত ১০০ দিনে মানবিক ও জনমুখী রাজনীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। দীর্ঘ দুঃশাসনের পর রক্তস্নাত জুলাই গণ–অভ্যুত্থান এবং ১৬ বছরের ত্যাগ-সংগ্রামের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা পেরিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী ও জনবান্ধব নেতৃত্বে দেশ আজ গভীর সংকট কাটিয়ে জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করেছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দৃশ্যমান যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন, তাতে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, প্রথম ১০০ দিনেই জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার লুণ্ঠিত রাষ্ট্রীয় মালিকানা জনগণের কাছে আবার ফিরিয়ে দিয়েছে। মজবুত করে চলেছে গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো।
সরকারের ‘১০০ দিন পূর্তি’ উপলক্ষে গতকাল সোমবার বেলা তিনটায় প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁওয়ের কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন এ কথা বলেন। তিনি বলেন, সরকার গঠনের প্রথম দিন থেকেই অগ্রাধিকারভিত্তিক নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দ্রুত, দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে বিষয়ভিত্তিক ও খাতনির্ভর ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিভিন্ন খাতে সরকারের গৃহীত উদ্যোগ
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, অর্থনীতি, প্রযুক্তি, অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে সরকারের গৃহীত উদ্যোগ দেশের মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম মাসেই সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর মাধ্যমে নারীকেন্দ্রিক সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করেছে। নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিব এবং অন্যান্য ধর্মীয় প্রধানদের জন্য সম্মানী প্রদানের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের অতিরিক্ত মাসিক চার্জ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র আরও বলেন, ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে, যা সরকারের প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ‘কৃষক কার্ড’ চালুর মাধ্যমে কৃষি ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটাল কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে।
মাহদী আমিন বলেন, দেশজুড়ে খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষি, সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে কৃষি, পানি ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় সম্ভাবনা তৈরি করতে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
সরকার গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের জন্য ‘সর্বোচ্চ স্বাধীনতা’ নিশ্চিত করতে কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, তবে বাক্স্বাধীনতার নামে অপপ্রচার, বিদ্বেষ বা বিষোদ্গারের রাজনীতি গণ–অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
৬০ সিদ্ধান্তের মধ্যে ৩৭টি বাস্তবায়িত
মাহদী আমিন বলেন, ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৪ মে পর্যন্ত মন্ত্রিসভার মোট ১০টি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব বৈঠকে ৬০টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এর মধ্যে ৩৭টি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়েছে এবং অন্য সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। শ্রমিকদের ঈদের আগে বেতন, ভাতা ও ঈদ বোনাস পরিশোধ নিশ্চিত করতে সরকার কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যাংক, মালিকপক্ষ, শ্রমিক সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে ধারাবাহিক সমন্বয় করা হয়েছে।
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে বিশেষ ট্রেন ও বিশেষ নৌ সার্ভিস চালুর কথাও উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, নারীদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে ট্রেনে আলাদা কম্পার্টমেন্টের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং ঈদের সাত দিন আগে থেকে বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। কোরবানির পশুর বর্জ্য আট ঘণ্টার মধ্যে অপসারণ, চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং সঠিক সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া হজযাত্রীদের বিমানভাড়া কমানো সম্ভব হয়েছে।
মাহদী আমিন বলেন, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত ইকোনমিক করিডর বাস্তবায়নের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। আগামী ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে উদ্বোধনের লক্ষ্য নিয়ে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের কাজ এগিয়ে চলেছে। বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য ব্যাংক গ্যারান্টি সুবিধা সম্প্রসারণ, বিমানবন্দর ও ট্রেনে হাইস্পিড ফ্রি ওয়াই-ফাই চালু এবং তরুণদের জন্য স্পোর্টস ও নতুন কুঁড়ি কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
প্রায় শতভাগ শিশু টিকাদানের আওতায়
স্বাস্থ্য খাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, হামের টিকা এনে প্রায় শতভাগ শিশুকে টিকাদানের আওতায় আনা হয়েছে এবং মাতৃত্বকালীন ছুটি উন্নীত করা হয়েছে। পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে পল্লবীর শিশুটিকে হত্যার ঘটনায় সরকারের অবস্থানের কথা উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রী শিশুটির পরিবারের সদস্যদের বাসায় গিয়ে সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিতের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। ইতিমধ্যেই এ ঘটনায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব সর্বোচ্চ বিচার নিশ্চিত করা হবে। এ ছাড়া মেহেরপুরে ৯ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে এক আসামিকে ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যা দ্রুত বিচার নিশ্চিতের ক্ষেত্রে একটি বিরল নজির।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘কুরবানির চামড়া নিয়ে এবারও বিপর্যয়ের শঙ্কা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী চামড়াশিল্প এখন খাদের কিনারে। কুরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে যে বিশাল অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞ আবর্তিত হতো, তা এখন পঙ্গুত্বের পর্যায়ে। তীব্র মূলধন সংকটের সঙ্গে মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যসহ নানা কারণে দেশের অন্যতম প্রধান এই জাতীয় সম্পদ রক্ষায় ঈদের দুই দিন আগেও নেই কোনো হাঁকডাক।
কুরবানির চামড়া নিয়ে ধারাবাহিক বিপর্যয়ের কারণে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় সবচেয়ে বড় ক্ষতির শিকার হচ্ছে দেশের প্রান্তিক, অসহায় এতিম শিশু এবং কওমি মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিংগুলো। দেশের লাখ লাখ এতিম শিক্ষার্থীর খাদ্য, বস্ত্র ও শিক্ষার সংস্থান হুমকির মুখে পড়েছে। কেউ কেউ বলছেন, এটা আকস্মিক কোনো ইস্যু নয়, কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রিক শিক্ষাব্যবস্থাকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করার এক গভীর দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের অংশ।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং চামড়াশিল্প সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কুরবানির কাঁচা চামড়ার বাজারে চরম ধস নামার আশঙ্কার পেছনে মূলত পাঁচটি বড় কারণকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে-তীব্র তারল্য ও ব্যাংক ঋণ সংকট, সাভার চামড়া শিল্পনগরীর (বিসিক) ব্যর্থতা, লবণ ও কেমিক্যালের দাম বেড়ে যাওয়া, মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেটের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ এবং মৌসুমি ব্যবসায়ীদের অজ্ঞতা। পর্যাপ্ত ঋণ না পাওয়ায় নগদ টাকার তীব্র সংকটে ভুগছেন চামড়া ব্যবসায়ীরা। কাঁচা চামড়া কেনায় কয়েক বছর ধরেই ব্যাংক ঋণ বিতরণের পরিমাণ কমছে। এ খাতের বেশির ভাগ ব্যবসায়ী খেলাপি হয়ে পড়ায় ব্যাংকগুলোর ঋণ দিতে অনীহা রয়েছে।
ব্যাংক ঋণের গোলকধাঁধায় ট্যানারি মালিকরা: প্রতিবছরই কুরবানির আগে চামড়া কেনার জন্য বিশেষ ঋণ সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা দেয়। সিংহভাগ ট্যানারি মালিক এই ঋণ পান না। বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সিনিয়র সহসভাপতি মো. শাখাওয়াত উল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো খেলাপি ঋণের অজুহাত দেখিয়ে টাকা দেয় না। সাভারে স্থানান্তরের পর থেকে অধিকাংশ ট্যানারি এমনিতেই লোকসানে চলছে। আড়তদাররা টাকা না পেলে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চামড়া কেনে না। ফলে কুরবানির চামড়ার বাজার অস্থির হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। উল্লেখ্য, এ বছর চামড়া সংরক্ষণে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২২৮ কোটি টাকা, তবে শেষ পর্যন্ত বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ ১০০ কোটির নিচে নেমে আসবে বলে খাতসংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন।
মাদ্রাসা শিক্ষা পিছিয়ে দেওয়ার আন্তর্জাতিক চক্রান্ত : চামড়াশিল্পের এই ধ্বংসাত্মক দশাকে কেবল অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে নারাজ দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামা ও সমাজবিজ্ঞানীরা। এর মূল উদ্দেশ্য দেশের ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থাকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দেওয়া। এ প্রসঙ্গে ঢাকা দক্ষিণখানের দারুল আবরার মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হাফেজ মৌলানা আবদুল হান্নান যুগান্তরকে বলেন, চামড়াজাত পণ্যের দাম প্রতিবছর বাড়লেও বিপরীতে কুরবানির চামড়ার দাম আবার কমছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, এটা কী করে হয়? পৃথিবীর কোনো দেশে এটা হয় কিনা আমার জানা নেই। অবশ্যই এর পেছনে রয়েছে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র ও কারসাজি। ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী, কুরবানির চামড়া বা তার বিক্রয়লব্ধ অর্থ নিজে ভোগ করা যায় না, এটি সমাজ ও রাষ্ট্রের সবচেয়ে দরিদ্র, এতিম, মিসকিন এবং লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের শিক্ষার্থীদের হক। অথচ এতিমদের এই হক মাটি করে দেওয়া হলো!
কালের কণ্ঠ
‘আনন্দের ঈদযাত্রা সড়কেই শেষ’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। প্রতিবেদনে বলা হয়, সব মিলিয়ে ২৫ জনের মতো যাত্রী। সবাই নিম্ন আয়ের মানুষ। ভাড়া কম বলে উত্তরবঙ্গগামী রডবোঝাই একটি ট্রাকে উঠেছিলেন তাঁরা। কষ্টের যাত্রা হলেও সবার মনে ছিল আনন্দ। উন্মুখ ছিলেন বাড়ি ফিরে আপনজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করবেন। কিন্তু ভোররাতে ট্রাক উল্টে ঈদের আনন্দযাত্রা সড়কেই শেষ।
ঝরে গেছে ১৫ জনের প্রাণ। এর মধ্যে ১০ জনই নওগাঁর মান্দা উপজেলার বাসিন্দা। গতকাল সোমবার ভোররাত ৪টা ১৫ মিনিটে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার যোকারচর ১৮ নম্বর ব্রিজ এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। ট্রাকের যাত্রীরা স্বজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপনে ফেনী, চট্টগ্রামসহ ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে রডবোঝাই ট্রাকের ছাদে করে উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিলে।
রবিবার বিকেলে ফেনীর মহিপাল এলাকা থেকে ট্রাকটি রওনা হয়। ট্রাকচালক নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রাকটি মহাসড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। যাত্রীরা রড ও ট্রাকের নিচে চাপা পড়েন। পরে স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে ১৫ জনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন। বেশ কয়েকজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
গতকাল আরো ছয় জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় আরো ১০ জন নিহত হয়েছে। এতে সারা দেশে মোট ২৫ জনের নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বগুড়ায় বাবা ও মেয়ে নিহত হয়েছে।
টাঙ্গাইলে নিহত ১৫ জনের ১০ জনের বাড়ি নওগাঁয়: ট্রাকে থাকা বেশির ভাগ যাত্রীর বাড়ি নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়। এর মধ্যে ১০ জনের বাড়ি নওগাঁর মান্দা উপজেলায়। এ ছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জের দুজন, রাজশাহীর একজন, কুষ্টিয়ার একজন এবং নাটোরের একজন রয়েছেন।
নিহত ১৫ জন হলেন মান্দার রাজেন্দ্রবাটির সাকিম মিয়ার ছেলে সাগর মিয়া, একই এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে রবিউল ইসলাম, গিয়াস উদ্দিন, নওগাঁর নেয়ামতপুর উপজেলার মালঞ্চির সাইদুলের ছেলে সারিকুল, মান্দা উপজেলার রাজেন্দ্রবাটির আব্দুর রশিদের ছেলে বারিক, একই উপজেলার রাজেন্দ্রবাটির আব্দুর রহিমের ছেলে বাদশা, মান্দার পাকুরিয়া গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে গিয়াস উদ্দিন, একই এলাকার রশিদের ছেলে মাইনুল, রাজেন্দ্রবাটি এলাকার একাব্বর আলীর ছেলে ইয়াকুব এবং একই এলাকার সুলতানের ছেলে তারেক।
আরো রয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার চরপাকা এলাকার সহিমুদ্দিনের ছেলে নজরুল (৬০), চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সুন্দরপুরের মামুন (৪৫), নাটোর লালপুরের নরেন্দ্রপুর এলাকার ইব্রাহীম মোল্লার ছেলে আলম মোল্লা, কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের বৈরাগীরচর এলাকার হাবিবুর রহমান প্রামাণিকের ছেলে হাসান আলী (৩৯) এবং রাজশাহীর তানোর উপজেলার বাতাসপুরের আলতাফ হোসেনের ছেলে ইসমাইল হোসেন (১৯)।
এ দুর্ঘটনায় আহতরা হলেন নওগাঁর মান্দা উপজেলার মজিবরের ছেলে বাবু (৩৫), একই উপজেলার আব্দুল রহিমের ছেলে আব্দুল রহমান (৩৫), নাটোরের মৃত মান্নানের ছেলে নয়ন বিশ্বাস (৩২), দশপাড়া গ্রামের নজরুলের ছেলে তুহিন, মান্দার পাকুরিয়ার সফেদ আলীর ছেলে আলমগীর (৪০), একই উপজেলার ছোরহাব আলীর ছেলে সিদ্দিক আলী (৪০), মৃত সাহেব আলীর ছেলে খোরশেদ (২৬), মান্দার ডেমরার শহিদুলের ছেলে সমেজ।
সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রথম পাতার খবর ‘ঈদের ছুটিতে হামের সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মানুষের ব্যাপক যাতায়াত ও ভ্রমণের কারণে ঈদের পর হামের সংক্রমণ তীব্র আকার নিতে পারে। সার্বিক চিত্র বিশ্লেষণ করে এ আশঙ্কা করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং আক্রান্ত শিশুদের নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ঈদের সময় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করে কর্মস্থলে থাকার নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
তবে ঈদযাত্রা নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আনুষ্ঠানিক কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। এদিকে, হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে দ্বিতীয়বার সর্বোচ্চ আরও ১৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১৬ শিশুর হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
র্যাশ ওঠার আগেই ছড়ায় সংক্রমণ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের জীবাণু শরীরে প্রবেশের পর র্যাশ বা গুটি ওঠার অন্তত চার দিন আগে থেকেই আক্রান্ত ব্যক্তি অজান্তে রোগটি ছড়াতে শুরু করে। ফলে ঈদযাত্রার ভিড় ও গণপরিবহনে এই সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে শিশুদের নিয়ে অপ্রয়োজনীয় ভিড় এড়িয়ে চলা এবং মৃদু উপসর্গ দেখা দিলেও ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. এম মুশতাক হোসেন বলেন, ঈদের সময় মানুষ শিশুদের নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাবে। এতে সংক্রমণ বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে। ঈদের পরের এক সপ্তাহে সংক্রমণ আরও মৃত্যুও বাড়বে, বিশেষ করে অপুষ্ট শিশুরা বেশি বিপদে পড়বে। সময় বাড়তে পারে।
আর আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়লে তিনি অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যেসব শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে বা কিছুটা অসুস্থ, তাদের নিয়ে এই ঈদে ভ্রমণ না করাই ভালো। এতে ওই শিশুর নিজের যেমন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হবে, তেমনি তার সংস্পর্শে আসা সুস্থ শিশুরাও ঝুঁকিতে পড়বে।
আরেক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. এম এইচ চৌধুরী লেলিন বলেন, ঈদের সময় এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় মানুষের ব্যাপক চলাচল হয়। যাদের শরীরে হামের ভাইরাস রয়েছে, তারা অজান্তেই অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে দিতে পারে। কারণ, হামের র্যাশ ওঠার চার দিন আগে থেকেই রোগটি সংক্রমণ ছড়াতে শুরু করে।
ইত্তেফাক
‘আইএমএফের সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচিতে যাচ্ছে সরকার’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে চলমান ঋণ কর্মসূচি থেকে সরে এসে নতুন একটি ঋণ কর্মসূচিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। চলমান ঋণ কর্মসূচির আওতায় সংস্কার বাস্তবায়ন করা চ্যালেঞ্জ হওয়ায় নতুন কর্মসূচি নিয়ে এগোতে চাইছে বিএনপি সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন এই কর্মসূচির আওতায় ৫০০ কোটি থেকে ৬০০ কোটি ডলার পর্যন্ত ঋণসহায়তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। গত ২১ মে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং আইএমএফের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্কের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, চলমান আইএমএফ কর্মসূচির অগ্রগতি এবং ভবিষ্যত্ সহযোগিতা নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে বলে গতকাল সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে। এতে বলা হয়, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আইএমএফের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ ব্যাংক-ফান্ড বার্ষিক সভায় হওয়া ফলপ্রসূ আলোচনার কথা স্মরণ করেন। ঐ বৈঠকের পর সরকার অভ্যন্তরীণভাবে বিষয়টি পর্যালোচনা করেছে।
বৈঠকে অর্থমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন যে, সরকার সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও কাঠামোগত সংস্কারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে বর্তমান আইএমএফ কর্মসূচি ভিন্ন অর্থনৈতিক ও নীতিগত প্রেক্ষাপটে গ্রহণ করা হয়েছিল—উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পরবর্তী সময়ে উদ্ভূত দেশীয় বাস্তবতা, রাজনৈতিক অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে কিছু সংস্কার বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘সরকার সংস্কার থেকে সরে আসতে চায় না বরং বাস্তবসম্মত, ধাপে ধাপে এবং দেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে আগ্রহী। এ পরিপ্রেক্ষিতে নবনির্বাচিত সরকারের অধীনে তিন বছরের একটি নতুন আইএমএফ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যেখানে অগ্রাধিকারভিত্তিক ও বাস্তবায়নযোগ্য সংস্কার অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
বৈঠকে নাইজেল ক্লার্ক বাংলাদেশের সংস্কার উদ্যোগ এবং নতুন কর্মসূচি গ্রহণের প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানান। তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে আইএমএফের গঠনমূলক ও ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। উভয় পক্ষ দ্রুত নতুন কর্মসূচি প্রণয়নের কার্যক্রম শুরু করার বিষয়ে একমত হয়। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন কর্মসূচি চূড়ান্ত করতে আগামী জুলাই বা আগস্টে আইএমএফের একটি মিশন ঢাকা সফর করতে পারে। তখন ঋণের পরিমাণ, সময়সীমা ও শর্তাবলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
২০২৩ সালের জানুয়ারিতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বাংলাদেশ আইএমএফের ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচিতে যুক্ত হয়। পরে ২০২৫ সালে এর পরিমাণ বাড়িয়ে ৫৫০ কোটি ডলার করা হয়। এ পর্যন্ত পাঁচ কিস্তিতে বাংলাদেশ ৩৬৪ কোটি ডলার পেয়েছে। বাকি রয়েছে আরো ১৮৬ কোটি ডলার। তবে রাজস্ব আদায়, বিনিময় হার ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক খাত সংস্কারে সন্তোষজনক অগ্রগতি না হওয়ায় পরের কিস্তিগুলো আর ছাড় হয়নি। সরকার ও আইএমএফের মধ্যে মতপার্থক্যের প্রধান ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে অভিন্ন ভ্যাট হার চালু, কর অব্যাহতি কমানো, ডলারের বাজারভিত্তিক বিনিময় হার, বিদ্যুত্ ও সারের ভর্তুকি হ্রাস, ব্যাংক খাত সংস্কার এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) পুনর্গঠন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, সরকার আপাতত এসব কঠোর সংস্কারে যেতে আগ্রহী নয়।
তবে কর্মকর্তাদের মতে, একটি সক্রিয় আইএমএফ কর্মসূচি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ও উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার একটি বার্তা হিসেবে কাজ করে। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাংক, এডিবি, এআইআইবি ও জাইকার মতো সংস্থাগুলোর কাছ থেকে বাজেট সহায়তা পাওয়াও সহজ হয়।
নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রথম পাতার খবর ‘রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ’লীগের’। প্রতিবেদনে বলা হয়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দলটির নেতাকর্মীদের সেভাবে স্বোচ্চার দেখা না গেলেও বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট সরকার গঠনের পর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেয়ার চেষ্টা করছে তারা। গত তিন মাসে রাজধানীতে একাধিকস্থানে মিছিল করার চেষ্টা করেছে দলটি। নির্বাচনের পরদিন থেকে আওয়ামী লীগের জেলা ও উপজেলায় দলীয় কার্যালয় খুলে দোয়া-মুনাজাত, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, ব্যানার টানানো ও স্লোগান অব্যাহত রেখেছে দলটির নেতাকর্মীরা। বিরোধী পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে, সরকারি দল বিএনপির ছত্রছায়ায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা দল আওয়ামী লীগ মিছিল করার সাহস পাচ্ছে।
যদিও সরকারি দল বলছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার প্রশ্নই আসে না। যেখানেই তাদের কাযক্রম দেখা যাচ্ছে, সেখানেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নিচ্ছে। সরকার বলছে, কোনো অবস্থাতেই ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে কার্যক্রম চালানোর সুযোগ দেয়া হবে না। আইনিভাবে তাদের মোকাবেলা করা হবে। তবে আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে পালিয়ে থাকা অনেক নেতাই এলাকায় ফিরছেন বলে জানা গেছে।
আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, তা দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির পাশাপাশি আঞ্চলিক কূটনীতিতেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে- কোনো বিদেশী চাপ, বিশেষ করে ভারতের দিক থেকে, এই প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করছে কি না। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বারবার স্পষ্ট করা হয়েছে যে, কোনো ধরনের বাইরের চাপের কাছে নতি স্বীকার করার প্রশ্নই আসে না। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত কেবল দেশের সংবিধান, আইন ও জনগণের স্বার্থের ভিত্তিতেই নেয়া হবে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও রাজধানীসহ তৃণমূল পর্যায়ে এ ধরনের উপস্থিতি কেবল সাংগঠনিক বার্তা নয় বরং জাতীয় রাজনীতিতে পুনরায় জায়গা করে নেয়ার কৌশলগত প্রচেষ্টার অংশ। একই সাথে নির্বাচনের আগে গণভোটে বিএনপির তৃণমূলের ‘না’ ক্যাম্পেইন, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ না নেয়া, গণভোট ও জুলাই সনদের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে বিএনপি নেতাদের বক্তব্য ও অবস্থান, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের উত্থান ঠেকাতে আওয়ামী লীগের সাথে সরকারি দলের ঘনিষ্ঠতা বাড়ছে বলেও মনে করছেন অনেকে।
সূত্র মতে, নির্বাচনের পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন ছাড়াও পটুয়াখালীর দশমিনা, বরগুনার বেতাগী, ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ, শরীয়তপুর, বগুড়া, পঞ্চগড়, হবিগঞ্জ, খুলনা, রাজবাড়ী, চট্টগ্রাম, কুড়িগ্রাম, পাবনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নোয়াখালীসহ সারা দেশের বিভিন্ন জেলায় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের উপস্থিত হতে দেখা গেছে। কোথাও তালা ভেঙে প্রবেশ, কোথাও জাতীয় পতাকা উত্তোলন, আবার কোথাও ব্যানার টাঙিয়ে দ্রুত সরে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত তিন মাসেও এটা অব্যাহত রয়েছে। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এসব কর্মসূচি ছিল স্বল্পসময়ের। কিছু কিছু জায়গায় আওয়ামী লীগের এ ধরনের তৎপরতার মুখে স্থানীয় সরকার সমর্থিত নেতাকর্মীদের বাধা, ভাঙচুর বা পুনরায় তালা ঝুলিয়ে দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। তবে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কঠোর অবস্থান নিতে দেখা যাচ্ছে না। বরং বিএনপির হাইকমান্ডকে নির্বাচনের আগে থেকেই আওয়ামী লীগের প্রশ্নে তুলনামূলক কৌশলী ও নমনীয় অবস্থান নিয়ে আসছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘ঈদ ঘিরে মাঠে বিএনপি’। প্রতিবেদনে বলা হয়, পবিত্র ঈদুল আজহায় বিশেষ রাজনৈতিক পরিকল্পনা নিয়েছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। দল ও সরকারের বিরুদ্ধে চলমান নানা ‘অপপ্রচার’ প্রতিরোধ এবং সরকারের গত তিন মাসের উন্নয়ন বার্তা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ঈদের সময় মাঠপর্যায়ে নেতা-কর্মীদের সক্রিয় থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দলের অধিকাংশ কেন্দ্রীয় নেতা, মন্ত্রী এবং সংসদ সদস্যরা (এমপি) নিজ নিজ এলাকায় ঈদ উদ্যাপন করবেন বলে জানা গেছে।
দলীয় সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান মন্ত্রী, এমপি ও দলীয় নেতাদের জনগণের পাশে থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন। ঈদের আনন্দ সাধারণ মানুষের সঙ্গে ভাগাভাগি করার পাশাপাশি এলাকার সাংগঠনিক যোগাযোগ জোরদার করতে বলা হয়েছে। ইতিমধ্যে অনেক মন্ত্রী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় অনেক নেতা নিজ নিজ এলাকায় চলে গেছেন। অনেকে ঢাকায় ঈদের নামাজ শেষে এলাকায় রওনা দেবেন। স্থানীয় পর্যায়ে ঈদ পুনর্মিলনী, শুভেচ্ছা বিনিময় ও গণসংযোগ কর্মসূচির প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। সেখানে তৃণমূল নেতা-কর্মী ও মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি মন্ত্রী ও নেতারা সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বার্তা তুলে ধরবেন। একই সঙ্গে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলগুলোর ‘অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি’র বিষয়ে জনগণকে সতর্ক করবেন। কেন্দ্র থেকে এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জানতে চাইলে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও জাতীয় সংসদের হুইপ এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, ‘আমি আমার নির্বাচনী এলাকা নাটোরে জনগণের সঙ্গে ঈদ উদ্যাপন ও শুভেচ্ছা বিনিময় করব। এ ছাড়া জনগণকে দেওয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বর্তমান অবস্থা তুলে ধরব, যাতে জনগণ জানতে পারে গত তিন মাসে সরকার কী কী উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড করেছে এবং আগামী দিনের পরিকল্পনা কী। পাশাপাশি সরকারের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তা গণসংযোগের মধ্য দিয়ে জনগণের কাছে পরিষ্কার করা হবে।’
বিএনপির নীতিনির্ধারকেরা মনে করছেন, ঈদের সময় বিপুলসংখ্যক মানুষ এলাকায় যায়। ফলে অনেক মানুষের কাছে বার্তা পৌঁছানোর এটি বড় সুযোগ। এ কারণেই কেন্দ্রীয় নেতাদের এলাকামুখী হওয়াকে এবার বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
দলীয় সূত্র জানায়, সরকারের অনেক মন্ত্রী, বিএনপির অধিকাংশ এমপি ও নেতারা নিজ এলাকায় ঈদ উদ্যাপন করবেন। পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ তাঁরা এলাকায় আদায় করবেন এবং ঈদের ছুটির সময়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় করবেন। জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এবং ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় ঈদ করবেন। এ ছাড়া বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু নিজ নিজ এলাকায় ঈদ উদ্যাপন করবেন।
দেশ রূপান্তর
‘কোরবানির অর্থনীতি এবারও চাপে’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে এমন প্রত্যাশা ছিল শিল্পোদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে। বিগত সময়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সেই ভঙ্গুর অবস্থার এখনো খুব একটা উন্নতি হয়নি। এর প্রভাব পড়তে পারে এবারের ঈদুল আজহাতেও। কোরবানির হাটগুলোতে পশুর যথেষ্ট সরবরাহ থাকলেও ক্রেতার উপস্থিতি তুলনামূলক কম। অর্থ সংকটের কারণে আগে যারা এককভাবে কোরবানি দিয়েছেন, তাদের অনেকেই এবারে ভাগে কোরবানি দেবেন, অনেকে হয়তো কোরবানি থেকেই সরে আসবেন, এমন আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সব মিলিয়ে এবারও চাপে থাকবে কোরবানির অর্থনীতি।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় বলছে, কোরবানির জন্য এ বছর ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার পশুর সরবরাহ রয়েছে। বিপরীতে চাহিদা রয়েছে ১ কোটি ১ লাখ পশু। গত বছর একই রকম অবস্থার মধ্য দিয়ে যখন হয়েছিল, তখনো মানুষ কম কোরবানি করেছে। মাত্র ৯১ লাখ পশু কোরবানি হয়েছিল।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই অর্থনীতির ক্ষত স্পষ্ট হতে থাকে। অন্তর্বর্তী সরকার এই অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করতে পারেনি। কিছু পদক্ষেপ নিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যের স্থবিরতা আরও বৃদ্ধি পায়। এ অবস্থার মধ্যেই আসে নির্বাচিত সরকার। এ সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করার পর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ইরানে যৌথ হামলা করে। ফলে তৈরি হয় জ্বালানি নিয়ে সংকট। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও সারের সরবরাহ সংকুচিত হয়ে পড়ায় অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও চাপে পড়ে। সরকার নানা পদক্ষেপ নিলেও আদতে অর্থনীতি গতি ফিরে পাওয়ার অবস্থায় আসেনি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যানুযায়ী, সর্বশেষ এপ্রিলে মূল্যস্ফীতি আগের মাসের চেয়ে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে ১ কোটি ৪ লাখ কোরবানির পশু বিক্রি হয়েছিল। যার বাজারমূল্য ছিল ৬৯ হাজার ১৪১ কোটি টাকার বেশি। তবে মানুষের আয় কমে যাওয়া, ব্যবসা-বাণিজ্যে সংকট, উৎপাদনমুখী কারখানাগুলোর উৎপাদন কমে যাওয়াসহ নানা কারণে ২০২৫ সালে; অর্থাৎ গত বছর কোরবানি হয়েছিল মাত্র ৯১ লাখ পশু, যা তার আগের বছরের তুলনায় অন্তত ১৩ লাখ কম। এ সময় পশু বিক্রি নেমে আসে ৫০ থেকে ৫৫ হাজার কোটি টাকার ঘরে।
এর আগে ২০২৩ সালে প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার পশু কোরবানি হয়েছিল। যার মূল্য ছিল ৬৪ হাজার ৭২৩ কোটি টাকা। তার আগের বছর ২০২২ সালে ৬৩ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা মূল্যের ৯৯ লাখ ৫৪ হাজারের বেশি পশু কোরবানি হয়েছে।
এদিকে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও আর্থিক চাপের কারণে এবারও গত বছরের মতোই কোরবানি কম হওয়ার শঙ্কার কথা জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। তারা বলছেন, সীমিত আয়ের সঙ্গে উচ্চ মূল্যস্ফীতি একটা শ্রেণির মানুষকে কোরবানি থেকে দূরে রাখতে পারে। কেউ কেউ বলছেন, কিছু মানুষ হয়তো আগে যে টাকা ব্যয় করে কোরবানির পশু কিনতেন, সেটা খানিকটা কমিয়ে ফেলতে পারেন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের একটি বড় অংশ পলাতক বা নিষ্ক্রীয় থাকার প্রভাবও কোরবানির ওপর পড়তে পারে।
