কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বেলতলী এলাকায় নির্মাণাধীন মা ও শিশু হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সোমবার (২৫ মে) দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে তিনি হঠাৎ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন। এ সময় তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং রোগীদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসাসেবার খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগ, ওয়ার্ডের পরিবেশ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও চিকিৎসাসেবার মান পর্যবেক্ষণ করেন। পরে হাসপাতালের রান্নাঘরে গিয়ে রোগীদের জন্য প্রস্তুত করা খাবার-ডাল ও সবজি- নিজে খেয়ে খাবারের মান যাচাই করেন।
এ সময় তিনি বলেন, সঠিকভাবে সবাই দায়িত্ব পালন করছে কিনা তা দেখতেই আমি নিজে এখানে এসেছি। আমরা চাই রোগীরা যেন সঠিক চিকিৎসাসেবা পায়, ইমার্জেন্সি বিভাগে ডাক্তার উপস্থিত থাকেন এবং হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রান্নার মান বজায় থাকে। আমি আসাতে হয়তো অনেকে পরিষ্কার করেছে, তবুও একটা ভীতি কাজ করছে। ভয় পেতে পেতেই সব ঠিক হয়ে যাবে।
পরিদর্শনের সময় সদর দক্ষিণের বেলতলী এলাকায় নির্মাণাধীন মা ও শিশু হাসপাতাল ঘিরেও স্থানীয়দের নানা অভিযোগ উঠে আসে। বিশেষ করে হাসপাতালের সড়ক নির্মাণের কারণে লালমাই পাহাড়ের পাদদেশের শতাধিক কৃষকের জমি পানিবন্দি হয়ে পড়া এবং জমি অধিগ্রহণের সময় ট্রমা হাসপাতাল নির্মাণের আশ্বাস দেওয়া হলেও বর্তমানে ভিন্ন নামে হাসপাতাল নির্মাণ হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে বলে সাংবাদিকরা মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এই এলাকার এমপি মনিরুল হক চৌধুরী কাজপ্রিয় মানুষ। খুব দ্রুত নতুন করে ট্রমা হাসপাতাল চালুর উদ্যোগ নেয়া হবে।
এ সময় তিনি হাম প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রম নিয়েও কথা বলেন। মন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ও কেয়ারটেকার সরকার সাতবার রিমাইন্ড দেয়ার পরও কোনো ভ্যাকসিন নেয়নি। প্রাইভেট ভাবে কেনার নামে টাকা খাওয়ার চেষ্টা হয়েছে। মহাখালীতে যখন প্রধানমন্ত্রী বললেন- একটি শিশু মারা গেছে, তখন আমরা ১৮ ঘণ্টার মধ্যে আইসোলেশনের ব্যবস্থা করি। পরে দেখি কোনো ভ্যাকসিন নেই। এরপর থেকেই আমরা ভ্যাকসিন কার্যক্রম শুরু করেছি।
এর আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালও পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. রেজা হাসান, সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজন চন্দ্র, এসিল্যান্ড সজীব তালুকদার, আশিকুর রহমান ওয়াসিম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আখতার হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক চৌধুরী, উৎবাতুল বারী আবুসহ প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
