ঢাকার পরিবেশ রক্ষায় কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আগাম পরিকল্পনা জরুরি

ঢাকার পরিবেশ রক্ষায় কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আগাম পরিকল্পনা জরুরি

ফন্ট সাইজ:

ঈদুল আযহা বাংলাদেশের মানুষের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব। প্রতি বছর রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে লাখ লাখ পশু কোরবানি হয়। ধর্মীয় অনুশাসনের পাশাপাশি এই সময়ে নগরজীবনে এক বিশাল অস্থায়ী অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড তৈরি হয়। তবে উৎসবের এই বৃহৎ আয়োজনের সঙ্গে সমানতালে তৈরি হয় বিপুল পরিমাণ জৈব বর্জ্য, যা সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা না করা হলে পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও নগর অবকাঠামোর ওপর গুরুতর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে ঢাকা শহরের মতো অতিঘনবসতিপূর্ণ ও দুর্বল অবকাঠামোসমৃদ্ধ নগরে কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এখন কেবল পরিচ্ছন্নতার বিষয় নয়; এটি নগর পরিবেশ নিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং টেকসই নগর ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

প্রতি বছর ঢাকা শহরে প্রায় ৬-৭ লাখ পশু জবাই হয় বলে অনুমান করা হয়। এই বিশাল সংখ্যক পশু থেকে মাত্র তিন দিনের মধ্যে বিপুল পরিমাণ জৈব বর্জ্য তৈরি হয়, যা নগর পরিবেশের ওপর একটি “অস্থায়ী শক লোড” তৈরি করে। এই বর্জ্যের মধ্যে থাকে পশুর রক্ত, নাড়িভুঁড়ি, পাকস্থলীর ময়লা, চর্বি, হাড়, ধোয়া পানি এবং অন্যান্য জৈব উপাদান। এর একটি অংশ সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় দ্রুত অপসারণ করা হলেও উল্লেখযোগ্য অংশ বিভিন্ন ড্রেন, খাল এবং উন্মুক্ত স্থানে চলে যায়। অনেক এলাকায় দেখা যায়, পশুর পাকস্থলীর ভেতরের ময়লা বা ভুঁড়ির বর্জ্য পলিব্যাগে ভরে রাস্তার পাশে রাখা হচ্ছে, যা পরে সংগ্রহ করে ডাম্পিং স্টেশনে নেয়া হয়। কিন্তু এ প্রক্রিয়ায় লিকেজ, দুর্গন্ধ ও তরল জৈব পদার্থের ছড়িয়ে পড়া একটি সাধারণ ঘটনা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি মাঝারি আকারের গরু থেকে গড়ে ২৫ থেকে ৪০ কেজি পর্যন্ত পাকস্থলীর জৈব বর্জ্য উৎপন্ন হতে পারে। প্রতিটি পশু থেকে গড়ে প্রায় ৩২ কেজি পর্যন্ত ভুঁড়ির বর্জ্য, চর্বি ও অন্যান্য জৈব কঠিন পদার্থ তৈরি হয়। ফলে মোট কঠিন জৈব বর্জ্যের পরিমাণ প্রায় ২০ হাজার টনের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় দৈনন্দিন গৃহস্থালি বর্জ্য। অর্থাৎ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কোরবানির সময় ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি “শক লোড”-এর মুখোমুখি হয়। এই অতিরিক্ত চাপ সঠিকভাবে সামাল দিতে না পারলে নগর পরিবেশে বহুমাত্রিক দূষণ তৈরি হতে পারে।

প্রতিটি গরু থেকে গড়ে প্রায় ১৫-২৫ লিটার রক্ত উৎপন্ন হয় বলে ধরলে, মোট রক্তের পরিমাণ প্রায় ১৩ মিলিয়ন লিটারের কাছাকাছি হতে পারে। এই রক্ত সরাসরি ড্রেন বা স্টর্মওয়াটার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিভিন্ন খাল ও নদীতে চলে যায়, যা পানির গুণমান দ্রুত নষ্ট করে এবং অক্সিজেনের মাত্রা কমিয়ে দেয়। অনেক স্থানে এটি স্যুয়ারেজ লাইনে না গিয়ে স্টর্ম ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক এর মাধ্যমে বিভিন্ন খাল ও নদীতে গিয়ে মিশে। ফলে বুড়িগঙ্গা নদী, তুরাগ নদী, বালু নদী এবং শীতলক্ষ্যা নদীসহ আশপাশের নদীগুলোতে জৈব দূষণের চাপ হঠাৎ বেড়ে যায়।
রক্ত অত্যন্ত উচ্চ জৈব-লোড সম্পন্ন পদার্থ। এতে বায়োলজিক্যাল অক্সিজেন ডিমান্ড (বিওডি) অত্যন্ত বেশি থাকে। ফলে বিপুল পরিমাণ রক্ত ও জৈব তরল পানিতে মিশলে পানির দ্রবীভূত অক্সিজেন দ্রুত কমে যায়। এর ফলে জলজ প্রাণীর জন্য প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি হয় এবং পানিতে পচনশীল জৈব পদার্থের আধিক্যের কারণে দুর্গন্ধ ও বিষাক্ত গ্যাস উৎপন্ন হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে অবায়বীয় পচন-এর মাধ্যমে মিথেন ও হাইড্রোজেন সালফাইডের মতো গ্যাস উৎপন্ন হয়, যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

অন্যদিকে কোরবানির জৈব বর্জ্যের বড় অংশ শেষ পর্যন্ত রাজধানীর প্রধান ডাম্পিং স্টেশনগুলোতে গিয়ে জমা হয়। সব মিলিয়ে এই তিন দিনের সময়কালকে একটি স্বাভাবিক নগর বর্জ্য ব্যবস্থার তুলনায় অত্যন্ত উচ্চমাত্রার “জৈব দূষণ শক ইভেন্ট” হিসেবে ধরা যায়। এই সময়ে বিপুল পরিমাণ তরল ও কঠিন বর্জ্য একসাথে তৈরি হয়ে নদী, ড্রেনেজ এবং ল্যান্ডফিল তিনটি ব্যবস্থার ওপর একযোগে চাপ সৃষ্টি করে। এই বর্জ্য অ্যানারোবিক অবস্থায় পচে কয়েক মিলিয়ন ঘনমিটার মিথেন গ্যাস উৎপন্ন করতে পারে এবং পানিতে Biological Oxygen Demand (BOD) অনেক বাড়িয়ে দেয়।

মাতুয়াইল ল্যান্ডফিল এবং আমিনবাজার ল্যান্ডফিল কোরবানির সময় স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি জৈব বর্জ্যের চাপ বহন করে। কয়েক দিনের মধ্যে হাজার হাজার টন অতিরিক্ত জৈব বর্জ্য সেখানে জমা হলে ল্যান্ডফিল ব্যবস্থার ওপর তীব্র চাপ তৈরি হয়। জৈব বর্জ্য দ্রুত পচে লিচেট নামক দূষিত তরল তৈরি করে, যা মাটি ও ভূগর্ভস্থ পানিতে প্রবেশ করতে পারে। একই সঙ্গে বিপুল পরিমাণ মিথেন গ্যাস উৎপন্ন হয়, যা গ্রিনহাউস গ্যাস হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি বাড়ায়।
ল্যান্ডফিলের আশপাশের জনবসতির ওপরও এর প্রভাব পড়ে। দুর্গন্ধ, মাছি-মশার উপদ্রব, বায়ুদূষণ ও রোগজীবাণুর বিস্তারের কারণে স্থানীয় জনগণের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যায়। প্রতি বছর কোরবানির বর্জ্যজনিত এই দূষণের কারণে ঢাকাবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। রক্ত ও জৈব বর্জ্যের তীব্র দুর্গন্ধে শ্বাসকষ্ট, চোখ জ্বালা, মাথাব্যথা ও অ্যালার্জিজনিত সমস্যা দেখা দেয়। ড্রেন ও খালে বর্জ্য মিশে পানি দূষিত হওয়ায় ডায়রিয়া, কলেরা, টাইফয়েড ও চর্মরোগের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে ল্যান্ডফিল ও আশপাশের এলাকায় মাছি-মশার উপদ্রব বেড়ে ডেঙ্গুসহ ভেক্টরবাহিত রোগের ঝুঁকি তীব্র হয়। ফলে শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বর্ষাকালে অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি বর্জ্যের সঙ্গে মিশে আশপাশের খাল ও জলাশয়ে প্রবাহিত হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

তবে ইতিবাচক দিকও রয়েছে। গত কয়েক বছরে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে কিছু কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য রাখার জন্য ব্যাগ বিতরণ, দ্রুত পরিষ্কার কার্যক্রম, অতিরিক্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ এবং বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থার কারণে আগের তুলনায় নগর পরিচ্ছন্নতায় উন্নতি দেখা গেছে।

সরকার ইতোমধ্যে বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন, আধুনিক ল্যান্ডফিল ব্যবস্থাপনা, নদী দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং নগর অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এই বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে একটি বিশেষ আরবান এনভায়রনমেন্টাল ইভেন্ট হিসেবে বিবেচনা করা জরুরি। কারণ এটি কয়েক দিনের মধ্যে বিপুল পরিমাণ জৈব বর্জ্যের বৃদ্ধি (organic waste surge) করে, যা স্বাভাবিক নগর ব্যবস্থাপনাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রথমত দরকার আগাম পরিকল্পনা। প্রতিটি ওয়ার্ডে নির্ধারিত কোরবানি জোন চিহ্নিত করে রক্ত সংগ্রহের জন্য বিশেষ ট্যাঙ্ক ও কনটেইনমেন্ট ব্যবস্থা স্থাপন এবং আলাদা জৈব বর্জ্য সংগ্রহ পদ্ধতি চালু করা জরুরি। পশুর রক্ত ও তরল বর্জ্য সরাসরি ড্রেনে প্রবাহিত না করে বিশেষ সংরক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে সংগ্রহ করা গেলে নদী দূষণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বিকেন্দ্রীকৃত বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট বা রেন্ডারিং সুবিধা গড়ে তুললে জৈব বর্জ্যকে জ্বালানি ও জৈব সারে রূপান্তর করা যাবে।

ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনকে ঈদের আগে এখনই বিস্তারিত কোরবানি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা মাস্টার প্ল্যান প্রকাশ করা উচিত। এতে GIS ভিত্তিক রিয়েল-টাইম ওয়েস্ট মনিটরিং সিস্টেম চালু, ঈদের তিন দিন অতিরিক্ত যানবাহন, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও মেশিনারি মোতায়েন, ল্যান্ডফিলে লিচেট ট্রিটমেন্ট সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ঈদ-পরবর্তী পরিবেশগত অডিটের ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।

ঢাকাবাসীকে অবশ্যই সিটি কর্পোরেশন প্রদত্ত বিশেষ ব্যাগ ও কনটেইনার ব্যবহার করে রক্ত, ভুঁড়ি ও অন্যান্য বর্জ্য আলাদা আলাদা করে সংরক্ষণ করতে হবে এবং কখনোই ড্রেন বা উন্মুক্ত স্থানে ফেলা যাবে না। পাকস্থলীর ময়লা শক্ত করে পলিব্যাগে বেঁধে নির্ধারিত সময়ে সংগ্রহের জন্য রাখা, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় কাউন্সিলর ও স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে সমন্বয় করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সক্রিয় অংশগ্রহণ করা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব।

যেসব এলাকায় সুযোগ রয়েছে, সেখানে মাটিতে নির্ধারিত গর্ত খনন করে জবাইকৃত পশুর রক্ত ও অতিরিক্ত জৈব বর্জ্য সেই গর্তে ফেলে মাটি চাপা দিয়ে ব্লিচিং পাউডার প্রয়োগ করা যেতে পারে। এই পদ্ধতি ড্রেন, খাল ও নদীতে বর্জ্য প্রবাহ কমাবে, দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণ করবে এবং রোগজীবাণুর বিস্তারও অনেকাংশে রোধ করবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তর ফুলার রোড, গিয়াসউদ্দিন আবাসিক এলাকাসহ কয়েকটি আবাসিক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এই কমিউনিটি-ভিত্তিক ব্যবস্থা সফলভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে। নগর প্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশন যদি এ ধরনের পরিবেশবান্ধব চর্চাকে অন্যান্য উপযোগী এলাকায় উৎসাহিত ও সম্প্রসারিত করে, তাহলে কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর ও টেকসই হবে।

দ্বিতীয়ত, GIS I smart monitoring technology ব্যবহার করে একটি সমন্বিত waste flwo mapping system তৈরি করা যেতে পারে। কোন এলাকায় কত পশু কোরবানি হচ্ছে, কোথায় কত বর্জ্য তৈরি হচ্ছে, কোন ড্রেন দিয়ে তা প্রবাহিত হচ্ছে এবং কোন landfill-G কত চাপ পড়ছে এসব তথ্য real-time monitoring-এর আওতায় আনা গেলে ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে। এটি বর্তমান সরকারের ডিজিটাল রূপান্তর ও তথ্যভিত্তিক নগর ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তৃতীয়ত, জনসচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় অসচেতনতার কারণে বর্জ্য খোলা স্থানে ফেলা হয় অথবা ড্রেনে সরাসরি রক্ত প্রবাহিত করা হয়। যদি নাগরিকদের মধ্যে পরিবেশগত ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো যায় এবং নির্ধারিত নিয়ম মেনে বর্জ্য অপসারণ নিশ্চিত করা যায়, তাহলে দূষণের মাত্রা অনেক কমানো সম্ভব হবে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যম, মসজিদ, সামাজিক সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোরও এই বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণায় এগিয়ে আসা প্রয়োজন। কোরবানির সময় উৎপন্ন বর্জ্যের পরিমাণ, এর পরিবেশগত প্রভাব, নদীর পানির মান, মিথেন নিঃসরণ (methane emission), ল্যান্ডফিলের চাপ (landfill stress) এবং জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে গবেষণা করলে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আরও তথ্যভিত্তিক হবে। বিশেষ করে পরিবেশ বিজ্ঞান (Environmental Science), নগর পরিকল্পনা (Urban Planning) এবং ভৌগোলিক তথ্য ব্যবস্থা (Geographic Information Systems- GIS) সংশ্লিষ্ট গবেষকদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাক্ষেত্র হতে পারে।

ঢাকা একটি দ্রুত বর্ধনশীল মেগাসিটি। জলবায়ু পরিবর্তন, নগর জলাবদ্ধতা, নদী দূষণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো চ্যালেঞ্জ ইতোমধ্যে শহরের পরিবেশগত সক্ষমতার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এর সঙ্গে যদি কোরবানির সময় বিপুল পরিমাণ জৈব বর্জ্যের চাপ যুক্ত হয়, তবে আগাম পরিকল্পনা ছাড়া পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তাই কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে শুধুমাত্র সাময়িক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম হিসেবে না দেখে একটি সমন্বিত নগর পরিবেশ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা এখন সময়ের দাবি।

সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তি, কার্যকর সমন্বয় এবং নাগরিক সচেতনতার মাধ্যমে কোরবানির বর্জ্যকে পরিবেশগত ঝুঁকি থেকে সম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব। নগর পরিবেশ রক্ষা, নদী দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং টেকসই ঢাকা গড়ার লক্ষ্যে এখন থেকেই বিজ্ঞানভিত্তিক ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।

লেখক: অধ্যাপক, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং চেয়ারম্যান, ফাউন্ডেশন ফর জিওইন্টেলিজেন্স পলিসি সাপোর্ট।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন