শিল্প ও বন্দর নগরী খুলনার হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা, ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিতে প্রাণ ফেরাতে এবং বেকারত্ব দূর করতে এখানে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের আদলে একটি অত্যাধুনিক শিল্প নগরী গড়ে তোলা হবে। খুলনার শিল্পাঞ্চল খ্যাত খালিশপুর ও দৌলতপুর এলাকার গৌরব ফিরিয়ে আনতে একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথা ভাবছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহসভাপতি, বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ (খালিশপুর- দৌলতপুর-খানজাহান আলী) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল। একইসঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত ও ব্যক্তি মালিকানাধীন কলকারখানাগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেয়া হবে। প্রয়োজনে পাট শিল্পের বিকল্প নতুন আঙ্গিকে আধুনিক পদ্ধতিতে শিল্পাঞ্চলকে সাজানোর মাধ্যমে চমক দেখাবার কথা বলছেন এক সময় মাঠ কাঁপানো এই সাবেক ছাত্রনেতা। জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের পর একান্ত আলাপকালে নিজের পরিকল্পনার কথা এভাবে ব্যক্ত করেন বিভাগীয় শহর খুলনার গুরুত্বপূর্ণ এলাকার নির্বাচিত এই জনপ্রতিনিধি। এ সময় রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, শুধু মিল কারখানার চালু নয়, খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়াম সংস্কার করে অচিরেই এখানে আন্তর্জাতিক ম্যাচ চালু করা হবে। যার মাধ্যমেই পর্যটন শিল্পও প্রসারিত হবে। তিনি সুন্দরবনে যাতে সহজভাবে বিদেশি পর্যটক আসতে পারেন তার ব্যবস্থা করতে হবে। সম্ভাবনাময় এই শিল্পকে আধুনিকায়ন করতে নানামুখী পরিকল্পনার কথা বলেন তিনি। সাবেক ছাত্রনেতা বকুল বলেন- আমি শিশু, কিশোর, যৌবন কেটেছে খুলনার শিল্পাঞ্চলে। কলকারখানার শব্দ ও শ্রমিক-কর্মচারীদের পদচারণায় মুখরিত ছিল শিল্পানগরী খুলনা। আজ নগরী বিরান ভূমিতে পরিণত হয়েছে। বঞ্চিত জনপদের মানুষ বার বার প্রতারণার শিকার হয়েছে। আর নয়, আমি ছাত্রজীবন থেকেই কথা নয়, কাজে বিশ্বাসী। তিনি বলেন, এমন কিছু কাজ করতে চাই, যার মাধ্যমেই চমক দেখাবার ইচ্ছা রয়েছে।
এই অঞ্চলের মানুষের প্রধান সমস্যা হলো- কর্মসংস্থান এবং এই অভাব দূর করতে হলে পরিকল্পিত ও আধুনিক শিল্পায়নের কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, খুলনার সোনালি অতীত ছিল খালিশপুরে অচলাবস্থা কাটাতে বন্ধ হয়ে যাওয়া জুট মিলসহ সকল কলকারখানা পুনরায় চালু করা হবে এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে এসব মিলকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, খুলনার ভৌগোলিক অবস্থান ও মোংলা বন্দরের বাণিজ্যিক সুবিধা কাজে লাগিয়ে এখানে বড় আকারের নতুন বিনিয়োগ আনা সম্ভব। ইপিজেড’র আদলে শিল্পনগরী গড়ে তোলা হলে, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা খুলনার প্রতি আকৃষ্ট হবেন। যা পুরো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক মানচিত্র বদলে দেবে। ভিন্ন মতাদর্শীদের সঠিক প্রস্তাব এবং সমালোচনা গ্রহণ করে একটি আদর্শ বাস্তবায়ন করে দেখিয়ে দিতে চাই খুলনার উন্নয়নে আমি সকলের বকুল। নিজ দলের কোনো নেতা বা কর্মী কোনো প্রকার অপকর্মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়লে এবং তা প্রমাণিত হলে কঠোর হাতে দমন করবেন এমন মন্তব্য করে বলেন, বিভাজনের রাজনীতি বন্ধ করে একটি জনকল্যাণমূলক এলাকা প্রতিষ্ঠায় দলের একজন ক্ষুদ্র কর্মী হিসেবে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চাই।
এছাড়া তিনি দৌলতপুর বিএল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরে চেষ্টা করবেন। গড়ে তুলবেন বিশেষায়িত আধুনিক মানের হাসপাতাল। অংশীজনদের সঙ্গে নিয়ে খুলনাকে চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীমুক্ত নগরী হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন। তরুণ ও যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কারিগরি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়ার কথাও বলেন তিনি।
চমক দেখাতে চান বকুল
রাশিদুল ইসলাম, খুলনা থেকে
২০ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
