প্রথম আলো
‘আওয়ামী লীগের ভেতরে হতাশা, বাইরে অপেক্ষার রাজনীতি’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, পুরোনো অবস্থানেই অনড় আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব। দলের নেতৃত্বে পরিবর্তন আনা কিংবা পুরোনো রাজনৈতিক অবস্থান বদলের লক্ষণ নেই। ‘রিফাইন্ড’ বা ‘পরিশুদ্ধ’ আওয়ামী লীগের ধারণা ঘিরে দলটির ভেতরে আলোচনা আছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে টিকে থাকা ও আবার সক্রিয় হওয়ার সম্ভাব্য সবচেয়ে ভালো বিকল্প পথ হিসেবে এই ধারণাকে সামনে আনছেন কেউ কেউ। তবে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব, বিশেষ করে শেখ হাসিনা এ ধারণার প্রতি একেবারেই অনাগ্রহী।
এই পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নেতা-কর্মীদের অনেকের কাছেই দলটির রাজনীতিতে ফেরার পথ কী, তা স্পষ্ট নয়। অনেকের মধ্যে হতাশাও কাজ করছে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, বর্তমান সরকার যদি বড় ধরনের ভুল করে বা অজনপ্রিয় হয়ে ওঠে, তখন আওয়ামী লীগের ফিরে আসার পথ বা সুযোগ তৈরি হবে।
আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ‘রিফাইন্ড’ বা সংস্কারের মাধ্যমে অপেক্ষাকৃত কম বিতর্কিতদের নেতৃত্বে আনার বিষয়টি বন্ধুপ্রতিম দেশ ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার কাছে পৌঁছানো হয়েছিল। নির্বাচনের পরও বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। তবে নিজের সভাপতি পদ ছাড়তে নারাজ শেখ হাসিনা। বড়জোর সাধারণ সম্পাদকের বিকল্প হিসেবে মুখপাত্র হিসেবে এক বা একাধিক নেতাকে দায়িত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সেটাও তাঁর পছন্দের এবং বিদেশে থাকা নেতাদের মধ্য থেকেই করার পক্ষে তিনি, যা শুভাকাঙ্ক্ষীদের কোনোভাবেই সন্তুষ্ট করতে পারেনি। ফলে সংস্কারের সব ধারণা আপাতত ‘মৃত’ বলেই মত সবার।
আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক তৎপরতা ও অনলাইন আলোচনা থেকে দলটির বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে একটা ধারণা পাওয়া যায়। ওয়াকিবহাল সূত্র বলছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের সরকারের পতনের পর এখন দলে সবচেয়ে বিতর্কিত ও কট্টরপন্থীরা বেশি সক্রিয়। যাঁরা নিজেদের ভুল স্বীকার কিংবা অতীত কর্মকাণ্ডের জন্য অনুশোচনা দেখাতে মোটেও প্রস্তুত নন। বরং দেশের ভেতর ঝটিকা মিছিল ও বিচ্ছিন্ন স্লোগান দিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি এবং সংগঠিত হওয়ার পক্ষে। এ ছাড়া প্রশাসনের ভেতর সরকারবিরোধী মত প্রবল করাও তাঁদের লক্ষ্য। এই পরিস্থিতিতে রিফাইন্ড বা নতুন করে শুরু করার বিষয়ে যাঁরা আশা দেখছিলেন, তাঁরা অনেকটাই চুপসে গেছেন।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, শেখ হাসিনা নিজেই দলের নীতি নির্ধারণ করছেন। পরিবারের সদস্যরা এতে যুক্ত থাকেন। আর দেশের ভেতর ও আত্মগোপনে থাকা নেতা-কর্মীদের সংগঠিত করার ক্ষেত্রে বেশি সক্রিয় সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। আর সরকারের ভেতরের বিভিন্ন সংস্থায় থাকা দলঘনিষ্ঠদের সঙ্গে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছেন সাবেক একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী। তিনি কলকাতায় অবস্থান করছেন। এর বাইরে বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ, চিঠিপত্র আদান-প্রদানসহ কিছুটা ‘সফট’ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত আছেন সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়াসহ কিছু নেতা। বাকিরা অনলাইনে দলীয় প্রধান কিংবা অন্য নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন।
আওয়ামী লীগের নেতাদের একটি অংশ মনে করেন, দলে সংস্কার আনার বিষয়ে অনাগ্রহ বন্ধুপ্রতিম দেশ ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা কিছুটা অখুশি। বর্তমানে যে বিশ্বব্যবস্থা তাতে কোনো বিদেশি শক্তি আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়বে—এমনটা মনে করছেন না তাঁরা। অন্তর্বর্তী সরকারের মতো ক্ষমতাসীন বিএনপি হয়তো আওয়ামী লীগের ওপর এতটা কঠোর হবে না। কিন্তু তারা কখনোই শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন পুরোনো আওয়ামী লীগকে ফিরতে দেবে না। সুতরাং আরেকটি গণ-অভ্যুত্থানের জন্য অপেক্ষা করতে হবে; যা একেবারেই অবাস্তব। আরেকটি পথ হচ্ছে ক্ষমতাসীন বিএনপি এবং বিরোধী দল জামায়াত-এনসিপির মধ্যে চরম বিভেদের জন্য অপেক্ষা করা। কিন্তু এখন পর্যন্ত এই ধারণারও খুব একটা ভিত্তি নেই। ফলে আওয়ামী লীগের এখনকার রাজনীতি অনেকটাই লক্ষ্যহীন।
এ অবস্থায় স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরে নির্বাচনের সময় এলাকায় টিকে থাকার জন্য আওয়ামী লীগের অনেকেই অন্য দলে চলে যেতে পারেন বলে আওয়ামী লীগের কেউ কেউ মনে করেন।
নানা মাধ্যমে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, গত ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর শেখ হাসিনা দলের নেতা-কর্মীদের প্রায়ই বলতেন, যাঁরা রাজনীতি করতে চান, তাঁরা দেশে ফিরে যান। অর্থাৎ দেশে গিয়ে কারাবরণ, মামলা মোকাবিলা করুন। এখন পর্যন্ত কেউ এই নির্দেশনায় সাড়া দেননি। আবার, দেশে এসে কারাগারে গেলে জামিন মিলবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। সরকার আওয়ামী লীগকে ছাড় দেবে, এমন কোনো সমঝোতা কিংবা উদ্যোগও নেই।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে জায়গা দিতে সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক কোনো মহল থেকে কোনো চাপ আছে বলেও মনে করেন না দলটির নেতারা। এই পরিস্থিতিতে বিদেশে থাকা নেতারা দেশে ফেরার চিন্তা করছেন না। বরং কেউ কেউ দেশে ফেরার তাগিদ এড়াতে দীর্ঘদিন ভারতে থাকার পর অন্য দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। এর মধ্যে দুজন প্রভাবশালী সাবেক সংসদ সদস্যের একজন মালয়েশিয়ায়, অন্যজন সাইপ্রাসে চলে গেছেন বলে জানা গেছে। তাঁদের ধারণা, ভারতের সঙ্গে বিএনপি সরকারের সম্পর্ক ভালো হলে সে দেশটি তাঁদের জন্য নিরাপদ না–ও হতে পারে।
টানা সাড়ে ১৫ বছর ক্ষমতায় ছিল আওয়ামী লীগ। ২০২৪ সালের ছাত্র–গণ অভ্যুত্থানে তাদের পতন হয়েছে। দলীয় প্রধান শেখ হাসিনাসহ অধিকাংশ নেতা-কর্মী বিদেশে আত্মগোপনে। দেশে থাকা নেতা–কর্মীদের উল্লেখযোগ্য একটা অংশ কারাগারে। দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। বিএনপি সরকার সে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়নি। ফলে আওয়ামী লীগ শুধু ক্ষমতাই হারায়নি, হারিয়েছে সাংগঠনিক শক্তি, রাজনৈতিক অবস্থান ও মাঠের নিয়ন্ত্রণ।
বিকল্প পথ ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’
এমন সংকটময় বাস্তবতায় ‘রিফাইন্ড’ বা পরিশুদ্ধ আওয়ামী লীগের ধারণা সামনে আসে। এটি হচ্ছে মূলত দলটি পুনর্গঠনের একটি প্রস্তাব, যেখানে বিতর্কিত বা অভিযুক্ত নেতৃত্বের বাইরে অপেক্ষাকৃত গ্রহণযোগ্য, কম বিতর্কিত ও ‘পরিষ্কার ভাবমূর্তির’ নেতাদের দিয়ে দলকে নতুনভাবে দাঁড় করানো।
এই ধারণার পেছনে যুক্তি হচ্ছে—বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ, বিতর্ক এবং রাজনৈতিক দায় তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে সরাসরি রাজনীতিতে ফিরে আসা কঠিন। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মহল এবং দেশের একটি বড় অংশের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেতে হলে পরিবর্তনের একটি দৃশ্যমান বার্তা প্রয়োজন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি শেখ হাসিনার বয়স ৮০ পেরিয়েছে। তিনি চার দশকের বেশি ধরে দলের নেতৃত্বে। তাঁর রাজনীতিতে ফিরে আসা কঠিন মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। ফলে ভবিষ্যতের জন্য দলটিকে সংগঠিত করার একটা বিকল্প হচ্ছে নেতৃত্বে পরিবর্তন।
রিফাইন্ড আওয়ামী লীগের ধারণাটি প্রথম সামনে আসে গত বছর মার্চে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়। জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) এবং বর্তমান সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ নিজের ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন। তাতে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের কথা উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ নামে নতুন একটি ষড়যন্ত্র নিয়ে আসার পরিকল্পনা চলছে। এই পরিকল্পনা পুরোপুরি ভারতের; সাবের হোসেন চৌধুরী, শিরীন শারমিন চৌধুরী ও ফজলে নূর তাপসকে সামনে রেখে এই পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে।
এরপর কিছুদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। আবার বিষয়টি সামনে আসে বিএনপি সরকার গঠনের পর। তবে এবার বেশি আলোচনা হয় ভারতভিত্তিক কিছু অনলাইন গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এর মূল বার্তা হচ্ছে—রিফাইন্ড আওয়ামী লীগে শেখ হাসিনার সায় নেই বা এ ধরনের কোনো চেষ্টা সফল হচ্ছে না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশে ও বিদেশে থাকা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেন, দলের কট্টরপন্থী নেতারা মনে করেন, শেখ হাসিনার বিকল্প আওয়ামী লীগে নেই। আর যদি বিকল্প আনতে হয়, তবে তাঁর পরিবার থেকেই হতে হবে। কিন্তু পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো প্রস্তুত কেউ নেই; তা ছাড়া বর্তমান সময়টাও এই ধরনের উদ্যোগের জন্য অনুকূল নয়। কট্টরপন্থীদের মত হচ্ছে—আগে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম শুরুর অনুমতি পাক। এরপর দলে সংস্কার আনা হবে। তবে সংস্কার হতে হবে শেখ হাসিনাকে রেখে এবং অন্য বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে নতুনদের আনতে হবে।
অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেকেই হতাশ
দেশে থাকা নেতা, কর্মী কিংবা সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রায়ই বিদেশে থাকা নেতাদের ফোনে কথা হয়। কেমন আছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে বেশির ভাগ নেতার মুখ থেকে আসে দীর্ঘশ্বাস, ভালো থাকার সুযোগ কোথায়? দিল্লি, কলকাতা, লন্ডন, নিউইয়র্ক, ব্রাসেলস, দুবাই, সিঙ্গাপুর, কুয়ালালামপুর—যেখানেই থাকুক না কেন কমবেশি সবার জবাব কাছাকাছি।
ভারত ও ইউরোপে থাকা দুজন কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে সম্প্রতি এ প্রতিবেদকের কথা হয়। তাঁরা বলছিলেন, রাজনীতি থেকে দূরে থাকলে অঢেল টাকা বা আয়েশি জীবন—কোনোটাই সুখের হয় না। পরিস্থিতি এমন যে ঘরের বাইরে যেতেও নানা সংশয়, মন টানে না। আবার বিদেশে থাকা সবাই আর্থিকভাবে খুব ভালো আছেন, তা–ও নয়। বিশেষ করে কলকাতাসহ ভারতের বিভিন্ন শহরে থাকা অনেকে আর্থিকভাবে কষ্টে আছেন বলেও কোনো কোনো নেতা জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে, দেশে ব্যবসা আছে এমন সাবেক সংসদ সদস্য, বিদেশে পরিবার থাকে এমন নেতা কিংবা বয়সে জ্যেষ্ঠ অনেকে রাজনীতি থেকে নিষ্ক্রিয় হওয়ার কথাও বলছেন ঘনিষ্ঠদের। দেশে ফিরলে জামিন মিলবে—এমন আশ্বাস পেলে ফেরার কথা ভাবছেন ব্যবসায় যুক্ত সাবেক সংসদ সদস্য বা নেতারা।
দেশে-বিদেশে প্রথমে আলোচনা ছিল সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, সাবেক মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী, নারায়ণগঞ্জের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে দিয়ে ‘রিফাইন্ড’ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম চালু হতে পারে। বিএনপি সরকারের গঠনের পর গত ৭ এপ্রিল সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে তিনি পাঁচ দিনের মাথায় ১২ এপ্রিল জামিনে মুক্তি পান। তাঁকে নিয়েও আওয়ামী লীগের পুনর্গঠনের গুঞ্জন ছড়ায়।
সব মিলিয়ে নেতাদের কেউ কেউ এতে কিছুটা আশাও দেখছিলেন; এর মাধ্যমে যদি রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ হয়। তবে দলের ভেতরে একটা শক্তিশালী মত হচ্ছে—শেখ হাসিনার অনুমোদন ছাড়া নতুন কোনো সাংগঠনিক কাঠামো টেকসই হবে না। কারণ, মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীদের বড় অংশ এখনো তাঁর নেতৃত্বকেই চূড়ান্ত হিসেবে মানে। শেখ হাসিনার দিক থেকে এ ধরনের উদ্যোগে সায় নেই জানার পর অনেকেই এখন আর আশা দেখছেন না।
বিএনপির সরকার গঠন: আশা ও হতাশা
বিএনপি ক্ষমতায় এলে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে—এমনটা আশা করছিলেন অনেকেই। এমনকি গ্রেপ্তার নেতারা জামিন পাবেন, এরপর আত্মগোপনে থাকা নেতারা দেশে ফিরবেন—এমনও প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু বিএনপির তিন মাসের মেয়াদে এমন আশা অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে আওয়ামী লীগ নেতাদের।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীরা অংশ নেবেন এবং ভালো ফলাফলের মাধ্যমে কর্মীদের মনোবল বাড়াতে চেষ্টা চালাবেন বলেও দলের একটি অংশ আশা করছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। ভবিষ্যতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা সুযোগ পাবেন বলে মনে করছেন না দলটির অনেক নেতা। ফলে বিএনপি সরকার গঠনের পর আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে ফিরতে পারবে বলে দলটির একটা অংশের ভেতর যে আশা ছিল, তা কিছুটা হতাশায় রূপ নিয়েছে।
আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, বাস্তবতা হচ্ছে আওয়ামী লীগকে ছাড় দেওয়ার মতো রাজনৈতিক ঝুঁকি বিএনপির পক্ষে এখন নেওয়া কঠিন। ক্ষমতাসীন বিএনপি এবং বিরোধী শক্তি জামায়াত-এনসিপির মধ্যে নানা বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও আওয়ামী লীগ প্রশ্নে তাদের অবস্থান প্রায় একই। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপি সরকার বড় ধরনের চাপে পড়ে কি না, সে জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া আওয়ামী লীগের জন্য খুব একটা বিকল্প নেই। এর মধ্যে দলকে সংগঠিত করার চেষ্টা করতে হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য বিভিন্ন মহলের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ চেষ্টা চালালেও সফল হয়নি। ফলে নির্বাচনটি বিএনপি জোট ও জামায়াত জোটের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। তখন আওয়ামী লীগের ভেতরে একটি কৌশলগত ভাবনা কাজ করেছিল—জামায়াতকে ক্ষমতায় আসতে দেওয়া যাবে না।
দলীয় সূত্র অনুযায়ী, এই লক্ষ্য থেকে বিএনপি জোটের প্রতি একধরনের নীরব সমর্থনের কৌশল নেওয়া হয়েছিল। আওয়ামী লীগের কেউ কেউ মনে করছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতি কিছুটা ভালো। জামায়াত ক্ষমতায় এলে পরিস্থিতি আরও কঠোর হতে পারত।
সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগের বর্তমান রাজনীতি একধরনের ‘অপেক্ষার রাজনীতিতে’ রূপ নিয়েছে। কিন্তু সেই অপেক্ষার নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। দলটির নেতাদের মধ্যে রাজনীতিতে ফেরার আলোচনা আছে। তবে তা কীভাবে সম্ভব, এর কোনো স্পষ্ট পথ জানা নেই।
গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজ প্রথম আলোকে বলেন, রাজনীতিতে ফিরতে হলে আওয়ামী লীগকে তাদের সাড়ে ১৫ বছরের শাসন ও রাজনীতি নিয়ে জনগণের কাছে জবাবদিহি ও ভুল স্বীকার করতে হবে। ছাত্র–জনতার গণ–অভ্যুত্থানে ফৌজদারি অপরাধের বিষয়টি তাদের মেনে নিয়ে এর মুখোমুখি হতে হবে। কিন্তু মনে হচ্ছে আওয়ামী লীগ এর কোনোটার জন্যই প্রস্তুত নয়। আর, যদি গায়ের জোরে ফিরে আসার চিন্তা করে, সে ক্ষেত্রে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি যৌথভাবে আওয়ামী লীগকে মোকাবিলা করবে বলে মনে হচ্ছে।
তবে নির্বাহী আদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করাটা অন্তর্বর্তী সরকারের সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন না আলতাফ পারভেজ। তাঁর মতে, বিএনপিও একই ভুল করল। বরং আওয়ামী লীগকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিতে পারত। যেমন নেপালে গণ–অভ্যুত্থানের পর কোনো দল নিষিদ্ধ করা হয়নি। পূর্বতন ক্ষমতাসীন দলগুলো নির্বাচনে অংশ নিয়েছে এবং জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার ফলে আওয়ামী লীগ এই প্রচার করতে পারছে যে তারা ভিকটিম বা ক্ষতিগ্রস্ত।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘ঈদে জমজমাট চাঁদাবাজি’। প্রতিবেদনে বলা হয়, কুরবানির ঈদ ঘিরে উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় পশুর মোকাম রাজশাহী সিটি হাট থেকে প্রতিরাতে সারা দেশে ছোটে প্রায় ৫শ পশুবাহী ট্রাক। কিন্তু এই যাত্রাপথে মহাসড়কগুলো চাঁদাবাজির অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। রাজশাহী থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত প্রায় পাঁচশ কিলোমিটার মহাসড়কের অন্তত ২০টি পয়েন্টে তোলা হয় চাঁদা। হাইওয়ে ও থানা পুলিশের কতিপয় সদস্য এবং রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর নামে বেপরোয়া চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন চালকরা। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে চলছে শারীরিক লাঞ্ছনা এবং কাগজপত্র পরীক্ষার নামে পুলিশি হয়রানি। এছাড়া গভীর রাতে ধারালো অস্ত্রের মুখে সর্বস্ব ছিনতাইয়ের মতো লোমহর্ষক ঘটনাও ঘটছে। ঘাটে ঘাটে চাঁদা দিতে গিয়ে প্রতিটি ট্রাকে গুনতে হচ্ছে ৭ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা।
একই চিত্র সাতক্ষীরা ও রাঙামাটিতেও। সেখানে ‘লাইন খরচ’, ‘শ্রমিক খরচ’ ও টোলের নামে টাকা আদায় করা হচ্ছে। পথে পথে এই চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের কারণে আর্থিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন গরুর মালিক ও চালকরা। পাশাপাশি পরিবহণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে গরুর দামেও; যার চূড়ান্ত খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের।
রাজশাহী থেকে স্টাফ রিপোর্টার তানজিমুল হক জানান, উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলার মধ্যে পশু কেনাবেচার সবচেয়ে বড় মোকাম রাজশাহী সিটি হাট। প্রতিদিন এই হাটে ২৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার গরু, ছাগল ও মহিষ বিক্রি হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বড় পাইকাররা হাটটিতে আসেন। তারা রাত ১১টার পর থেকে পশুবাহী ট্রাকগুলো নিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশে রওয়ানা হন। প্রতিরাতে প্রায় ৫শ ট্রাক এই হাট থেকে পশু নিয়ে বের হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক চালক জানান, সিটি হাট থেকে ট্রাকগুলো রাজশাহী মহানগরীর উপকণ্ঠ বেলপুকুরে পৌঁছলে কতিপয় পুলিশ সদস্য ট্রাক আটকান, নেন ৫শ টাকা চাঁদা। আর এখানে দলীয় নেতাকর্মী পরিচয়ে চালকদের কাছ থেকে নেওয়া হয় ৩শ টাকা।
এরপর মাত্র তিন কিলোমিটার অতিক্রম করলেই পুঠিয়ার পবা হাইওয়ে থানার কতিপয় পুলিশ সদস্য ট্রাক আটকান। এখানেও ৫শ টাকা চাঁদা দিতে হয়। এখানে দলীয় নেতাকর্মী পরিচয়ে ২শ টাকা আদায় করে স্থানীয় বখাটেরা। এরপর নাটোরের বনপাড়ায় একই পরিমাণ চাঁদা নেন হাইওয়ে পুলিশ ও নেতাকর্মীরা। বনপাড়া পার হয়ে সিরাজগঞ্জে যমুনা সেতুর আগে আটকায় টহল ও হাইওয়ে পুলিশ। সেখানে পৃথকভাবে ৫শ টাকা করে চাঁদা দিতে হয়।
পশুবাহী ট্রাকের চালকরা বলেন, এখানে হাইওয়ে পুলিশ সবচেয়ে বেশি হয়রানি করে। চাঁদা নেওয়ার পাশাপাশি গাড়ির কাগজপত্র দেখতে চায়। ব্লুবুক, ট্যাক্স, টোকেন, ফিটনেস, রোড পারমিটসহ আনুষঙ্গিক কাগজপত্রে সামান্য অসংগতি পেলেই ট্রাক দাঁড় করিয়ে রাখে। এরপর মামলা দেওয়ার ভয় দেখায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। ভোগান্তি আর হয়রানির পর একপর্যায়ে দফারফা করতে হয়। এখানে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা আদায় করেন হাইওয়ে পুলিশের কর্তারা। একই জায়গায় দলীয় পরিচয়েও ৩শ টাকা চাঁদা নেওয়া হয়।
চাঁদাবাজির অভিযোগ থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী, নাটোর, সিরাজগঞ্জসহ কয়েকটি জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বগুড়া হাইওয়ে পুলিশের প্রধান পুলিশ সুপার (এসপি) আবু তোরাব মোহাম্মদ শামসুল আলম যুগান্তরকে বলেন, আমরা এ ধরনের অভিযোগ পাইনি। তবে এ ব্যাপারে গোপনে নজরদারি করা হচ্ছে। কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তদন্ত করা হবে। তদন্তে সত্যতা পেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।
যমুনা ব্রিজ পার হয়ে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা ও সখিপুরে যানজটের সুযোগ নিয়ে হাইওয়ে পুলিশ ৫শ টাকা করে আদায় করে। এ দুই স্থানেও দলীয় পরিচয়ে ২শ টাকা নেওয়া হয়। এছাড়াও গোড়াই এলাকায়ও একইভাবে চাঁদাবাজির শিকার হন ট্রাকচালকরা। অন্যদিকে গাজীপুর চৌরাস্তায় একই পরিমাণ চাঁদা নেন হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা। এরপর পশুবাহী ট্রাকগুলো রাজধানীর গাবতলী প্রবেশ করলে শুরু হয় আরও বেপরোয়া চাঁদাবাজি। এ ব্যাপারে হাইওয়ে পুলিশ উত্তর ডিভিশনের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আব্দুল্লাহ হিল বাকি বলেন, মহাসড়কে পশুবাহী ট্রাকে যে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি রোধে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। কারও বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গাবতলী ছাড়াও শনির আখড়া, মদনপুর, গাউছিয়া ও আড়াইহাজার এলাকায় হাইওয়ে পুলিশ জোরপূর্বক ট্রাক থামায়। এরপর এসব স্থানে ট্রাকপ্রতি অন্তত ৫শ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হয়। এরপর কুমিল্লা, ফেনী ও চট্টগ্রামের অন্তত সাতটি স্থানে সমপরিমাণ চাঁদা আদায় করেন হাইওয়ে পুলিশের কতিপয় সদস্য।
কালের কণ্ঠ
‘ঈদ ঘিরে রেমিট্যান্সে ৪১.৩১% প্রবৃদ্ধি’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, পবিত্র ঈদুল আজহা ঘিরে দেশে প্রবাস আয়ের উচ্চ প্রবাহ চলছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২৩ মে এক দিনেই দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৭.৩৬ কোটি মার্কিন ডলার।
আর ১ থেকে ২৩ মে পর্যন্ত মোট প্রবাস আয় এসেছে ২.৯৭ বিলিয়ন ডলার। গত বছরের একই সময় এটি ছিল ২.১০ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে চলতি বছরের মে মাসের প্রথম ২৩ দিনেই রেমিট্যান্সে ৪১.৩১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ঈদ ঘিরে প্রতিবছরই রেমিট্যান্স বাড়ে। তবে এবার প্রবৃদ্ধির হার তুলনামূলক বেশি। শুধু মাসিক ভিত্তিতেই নয়, পুরো অর্থবছরেও রেমিট্যান্সে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২৩ মে পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩২.৩১ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময় এ পরিমাণ ছিল ২৬.৬৪ বিলিয়ন ডলার।
সে হিসাবে চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ২১.২৬ শতাংশ। অর্থনীতিবিদদের মতে, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় কিছুটা স্বচ্ছতা ও আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এর ফলে প্রবাসীরা বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন। পাশাপাশি হুন্ডি নিরুৎসাহ করতে নেওয়া পদক্ষেপ এবং ডলারের বিনিময় হার বাস্তবসম্মত করার প্রভাবও রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।
ব্যাংকাররা বলছেন, ঈদ সামনে রেখে পরিবার-পরিজনের বাড়তি খরচ মেটাতে প্রবাসীরা বেশি অর্থ পাঠান। এ কারণে মে ও জুন মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহ সাধারণত ঊর্ধ্বমুখী থাকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ আরো বাড়াতে বিভিন্ন প্রণোদনা ও নীতিগত সহায়তা অব্যাহত রাখা হবে।
এদিকে, এপ্রিল মাসে দেশভিত্তিক রেমিট্যান্স প্রবাহের চিত্রেও দেখা যায়, মধ্যপ্রাচ্য ও উন্নত দেশগুলো থেকেই সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা এসেছে। ওই মাসে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে সৌদি আরব থেকে, যার পরিমাণ ৫২.৫৯ কোটি ডলার। এর পরেই রয়েছে যুক্তরাজ্য, যেখান থেকে এসেছে ৫২.১৬ কোটি ডলার। সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে এসেছে ৪০.২৭ কোটি ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছে ৩২.১ কোটি ডলার।
এ ছাড়া মালয়েশিয়া থেকে ২১.৭৯ কোটি, ইতালি থেকে ১৭.৫৯ কোটি, ওমান থেকে ১৫.৭৫ কোটি, সিঙ্গাপুর থেকে ১৪.৪০ কোটি, কুয়েত থেকে ১৩.৯৩ কোটি এবং কাতার থেকে ১৩.৬৩ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।
সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রথম পাতার খবর ‘হাম পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে’। প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি মাসের তিন সপ্তাহ থেকে হাম পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। প্রথম সপ্তাহের তুলনায় হামের উপসর্গে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে ৭শতাংশ এবং মৃত্যু বেড়েছে ১৫ শতাংশ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত পরিস্থিতি বিশ্লেষণে এ চিত্র উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণ শুরুর পর দ্রুত ও সমন্বিত ব্যবস্থা নিতে দেরি হওয়ায় পরিস্থিতি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে (১-৭ মে) হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছিল আট হাজার ৩৬৭ জন রোগী। ওই সময়ে মৃত্যু হয় ৬০ শিশুর। পরে তৃতীয়-চতুর্থ সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে (১৮ থেকে ২৪ মে) আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় আট হাজার
৯০১-এ। এ সময়ে মৃত্যু হয় ৬৯ শিশুর।
সর্বশেষ গতকাল রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ১৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু। এর আগে এক দিনে ১৭ জন শিশু মারা যায়। একই সময়ে সারাদেশে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ৪৩৪ জন। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫২৮ জনে।
ইত্তেফাক
‘অনেক মামলার বাদীকে খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মামলার বাদীকেই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। অর্থাত্ মামলার পুরোটাই ভুয়া। অথচ এসব মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে, তারা কঠিন সময় পার করছেন। ঐ সময়ের মামলাগুলোর মধ্যে ১৯৫টি মামলার তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তারা ১৪২টি মামলার নিষ্পত্তি করেছে। এর মধ্যে ছয়টি মামলায় বাদী বা ভিকটিমকে খুঁজেই পাইনি পুলিশ।
পিবিআই জানিয়েছে, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে এমন ৯০টি মামলায় ৩ হাজার ১৭৪ জনের অপরাধ নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়া ৫ হাজার ৫৫৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে প্রতিবেদন দিয়েছে সংস্থাটি। সে হিসাবে অভিযোগ প্রমাণের হার ৩৬.৩৭ শতাংশ এবং প্রমাণ হয়নি ৬৩.৬৩ শতাংশ। এই মামলাগুলোর মধ্যে হত্যা মামলা রয়েছে ৯টি।
পিবিআই জানিয়েছে, পরকীয়াজনিত হত্যাকাণ্ড, জমি বা পারিবারিক বিরোধে হত্যা, পাওনা টাকা নিয়ে দ্বন্দ্ব, ডিভোর্স দেওয়ায় স্ত্রী ও শ্বশুরকে ফাঁসাতে, এলাকার বিরোধ—এমনকি ভাই ভাইকে ফাঁসাতে অভ্যুত্থানের হত্যা মামলা মামলা করেছে। জেলা প্রশাসক সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ৫ আগস্টের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কতগুলো মামলা হয়েছে, জেলাওয়ারি ডিসিদের কাছে তার তালিকা চাওয়া হয়েছে। এসব মামলা যাচাই-বাছাই করে দেখা হবে। তদন্ত শেষে পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হবে।
পিবিআই প্রধান মোস্তফা কামাল বলেন, ঢাকার ঘটনার মামলায় চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল ও কুমিল্লার এমন মানুষকে আসামি করা হয়েছে, যারা কখনো ঢাকায়ই আসেননি। ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছাড়া কাউকে আসামি করার কোনো সুযোগ নেই। তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি তাদের অব্যাহতি দিতে আদালতে আবেদন করা হচ্ছে।
জুলাই অভ্যুত্থানে আহত হওয়ার পর প্রায় দুই মাস চিকিত্সাধীন থাকা অবস্থায় ছেলে আবু সাইদ (২৪) মারা গেছেন—এমন দাবি করে আদালতে একটি মামলা করেন রফিকুল ইসলাম। আদালতের নির্দেশে গাজীপুরের শ্রীপুর থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে দায়িত্ব দেয়। এরপর তদন্তে নেমে চাঞ্চল্যকর তথ্য পায় পুলিশ। বাদী যখন বুঝতে পারেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সত্য উদ্ঘাটনের খুব কাছাকাছি, তখন মামলাটি বাদী আদালত থেকে প্রত্যাহার (রিকল) করে নেন। সংশ্লিষ্ট একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, মূলত বাদীর ছেলেকে পরকীয়াজনিত ঘটনায় একটি সেলুনে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঐ ঘটনায় শ্রীপুর থানায় আরো একটি মামলা করা হয়েছে। সেই মামলার তথ্যটি গোপন করে বাদী এই মামলাটি দায়ের করেন। পরে তিনি যখন বুঝতে পারেন পুলিশ তদন্তে সত্য উদ্ঘাটনের কাছাকাছি এসে গেছেন তখনই মামলাটি তুলে নিতে আদালতে আবেদন করেন রফিকুল ইসলাম।
নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্তেরপ প্রধান শিরোনাম ‘স্বাধীন বিচারব্যবস্থা কি আবারো প্রশ্নের মুখে?’। খবরে বলা হয়, সরকারের নির্বাহী আদেশে সুপ্রিম কোর্টের নবগঠিত পৃথক প্রশাসনিক সচিবালয় আকস্মিকভাবে বিলুপ্ত ঘোষণা এবং সেখানে প্রেষণে কর্মরত ১৫ জন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে ফিরিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে বিদায় নেয়া অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের শাসনামলে জারি করা ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ’টি বর্তমান জাতীয় সংসদে আইন হিসেবে পাস না করায় এবং সংসদীয় বিশেষ কমিটির সুনির্দিষ্ট সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার পক্ষ। তবে এই সিদ্ধান্তকে দেশের উচ্চ আদালতের নির্দেশনার স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং বিচার বিভাগের প্রশাসনিক ও আর্থিক স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রামের পরিপন্থী দাবি করে গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় আইনবিদ ও আইনজীবীরা।
ঘটনার আইনি ও রাজনৈতিক সংশয়টি সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরেছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া। ক্ষমতাসীন দলের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থান ও বর্তমান নীতিগত সিদ্ধান্তের বৈপরীত্যের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের রাজপথে এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পক্ষে অত্যন্ত সোচ্চার ও জোরালো কথা বলার পর, ক্ষমতায় আসার পর বিএনপির বর্তমান এই বিপরীতমুখী অবস্থান অনেকের কাছে অসংগতিপূর্ণ মনে হচ্ছে। পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের তৈরি করা অধ্যাদেশ দু’টি সম্পূর্ণ বাতিলের জন্য জাতীয় সংসদে বিল তোলা এবং বাতিল করা, ক্ষমতাসীন বিএনপির বিরুদ্ধে তাদের আগের অবস্থান থেকে পুরোপুরি সরে আসার একটি স্পষ্ট অভিযোগ উঠছে। এর ফলে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে তাহলে কি আগের প্রতিশ্রুতিগুলো শুধুই ক্ষমতার আসার একটি সুকৌশলী রাজনৈতিক কৌশল ছিল?
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন) বর্তমান সভাপতি জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন এ বিষয়ে প্রথমে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরবর্তীতে তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, আমি তো সরকারের কোনো অংশ নই। তাই এই স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাইনি। তবে বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে আলোচনা করেছি বিষয়টি নিয়ে। কারণ এই বিষয়টি জনগণের কাছে স্পষ্ট না করলে দল হিসেবে বিএনপি সমালোচনার মুখে পড়বে।
এই আইনি ও প্রশাসনিক সঙ্কটের নেপথ্যে রয়েছে বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি হওয়া ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনার দীর্ঘ প্রক্রিয়া। জাতীয় সংসদের একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ কমিটি এই অধ্যাদেশগুলো স্ক্রুটিনি বা পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। কমিটি ৯৮টি অধ্যাদেশ সরাসরি এবং ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধিত আকারে সংসদে বিল হিসেবে উত্থাপনের সুপারিশ করলেও, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশসহ বাকি ২০টি অধ্যাদেশ বাতিল কিংবা এই মুহূর্তে সংসদে না তোলার সুপারিশ করে। সংসদীয় কমিটির এই সুপারিশের ফলেই মূলত বিগত সরকারের সময় বাস্তব রূপ নেয়া কাঠামোটি আইনি ভিত্তি হারিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্তির মুখে পড়েছে।
বণিক বার্তা
‘সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে অফশোর বিডিং রাউন্ড ঘোষণা’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, এর মাধ্যমে গভীর ও অগভীর সমুদ্রের মোট ২৬টি ব্লকে বিদেশী তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ ও অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ তৈরি হলো। সচিবালয়ে গতকাল আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘অফশোর বিডিং রাউন্ড-২০২৬’-এর ঘোষণা দেয় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।
এবারের দরপত্রে বিদেশী কোম্পানিগুলোকে আকৃষ্ট করতে বেশকিছু নতুন সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গ্যাসের মূল্য নির্ধারণে নমনীয়তা, পাইপলাইন নির্মাণে ট্যারিফ সুবিধা, শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে অংশীদারত্ব কমানো এবং গ্যাস রফতানির সুযোগ। সরকারের আশা, এসব সুবিধার কারণে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে এবার বড় ধরনের সাড়া পাওয়া যাবে।
আনুষ্ঠানিক এ ঘোষণার পর আগামী ১ জুন থেকে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলো দরপত্রের প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করতে পারবে। একই সঙ্গে সমুদ্রে পরিচালিত জরিপের তথ্যও কেনার সুযোগ থাকবে। দরপত্র কেনা ও জমা দেয়ার শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। এরই মধ্যে ৫৫টি আন্তর্জাতিক কোম্পানিকে সরাসরি ই-মেইলের মাধ্যমে আমন্ত্রণ জানিয়েছে পেট্রোবাংলা।
অফশোর বিডিং রাউন্ড ঘোষণার আনুষ্ঠানিক এ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত; জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম; যুগ্ম সচিব (উন্নয়ন-১) মোর্শেদা ফেরদৌস; পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান; পরিচালক (পিএসসি) মো. শোয়েব।
মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা অনেক দিনের একটা জট খুলে নতুন অধ্যায়ের সৃষ্টি করছি। আমাদের দেশের যে সম্পদ তা মাটির নিচে রেখে আমদানিভিত্তিক জ্বালানির দিকে ঝুঁকেছিলাম। এর ফলে দেশের অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ অনেক কমে গেছে। ১৯৯৪ সালে খালেদা জিয়া যে বিডিং করে গিয়েছিলেন এবং এর মাধ্যমে যাদেরকে অ্যাওয়ার্ড করা হয়েছিল, তাদের একটি কোম্পানি শেভরন। এরপর আর বিদেশী কোম্পানিকে এনে দেশে বিনিয়োগ করা হয়নি।’
সমুদ্রসীমা বিজয়ের পর অতীতে অনেক আলোচনা হলেও সমুদ্রের তলদেশে থাকা সম্পদ আহরণের বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়নি বলে মন্তব্য করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি সমুদ্র বিজয় হয়েছে। তা নিয়ে অনেক লাফালাফি হয়েছে। সমুদ্রের নিচে কী রয়েছে সেটা নিয়েও অনেক কিছু বলা হয়েছে, কিন্তু সেখান থেকে যে আহরণ করতে হবে সেটা বোধহয় তারা ভুলে গিয়েছিল।’ প্রতিবেশী দেশগুলো এরই মধ্যে নিজেদের সমুদ্র এলাকায় গ্যাস আবিষ্কার ও উত্তোলন শুরু করেছে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, সরকার নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী, ১৮০ দিনের মধ্যেই অফশোর বিডিং রাউন্ড আহ্বান করেছে। দেশের আইন-কানুন ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করেই আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর কাছে ব্লক হস্তান্তর করা হবে। ভবিষ্যতে সমুদ্র থেকে তেল বা গ্যাস উত্তোলন সম্ভব হলে তা দেশের অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় ভূমিকা রাখবে। জাতীয়তাবাদী চেতনা থেকেই সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে দেশের কোনো ধরনের ক্ষতি না হয় এবং জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে আপস না করেই আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী তেল-গ্যাস উত্তোলনের চুক্তি সম্পন্ন করা যায়।
এক প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী জানান, পুরো দরপত্র প্রক্রিয়া স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালনা করা হচ্ছে এবং দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন না করেই সব সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এরই মধ্যে অনেক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশ নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তাই এবারের অফশোর বিডিং রাউন্ড অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক ও অংশগ্রহণমূলক হবে বলে সরকারের প্রত্যাশা।
আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘রাজধানীর ফুটপাত: ভাগাভাগিতে বাদ পুরোনো হকার’। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানীর গুলিস্তানের মসজিদ মার্কেটের সামনের ফুটপাতে কাপড়ের পসরা সাজিয়েছেন আতিকুর রহমান সুজন। দখলমুক্ত ফুটপাতে আবার হকার বসার সুযোগে তিনিও দোকান সাজিয়েছেন। কথা বলে জানা গেল, হকারিতে তিনি নতুন, সাত দিন ধরে শুরু করেছেন। এর আগে পাঁচ বছর মুদিদোকানে কাজ করেছেন।
সুজন বলেছেন, সরকারি দলের শ্রমিক সংগঠনের স্থানীয় এক নেতা তাঁকে জায়গাটি পাইয়ে দিয়েছেন। তাঁর পাশে পসরা সাজানো হাফিজুর রহমানও নতুন হকার। তিনি বরাদ্দ পেয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) এক কর্মচারীর আত্মীয়ের বদৌলতে।
শুধু সুজন ও হাফিজুর নন, গত এপ্রিলের প্রথমার্ধে উচ্ছেদের পর আবার গুলিস্তানে ফুটপাতে জায়গা পাওয়া হকারদের বেশির ভাগই নতুন। ফার্মগেট, নিউমার্কেট, মিরপুর ১০ নম্বরসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানের ফুটপাতে একই চিত্র। হকারদের সঙ্গে কথা বলে ও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হকার পুনর্বাসনে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে পুলিশের করা তালিকায় পুরোনো হকারদের বড় অংশই বাদ পড়েছেন। সেখানে ঠাঁই পেয়েছে নতুন মুখ।
অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, পুলিশ, হকার নেতা ও সিটি করপোরেশনের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী নিজেদের মধ্যে ফুটপাত ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন। ‘পছন্দের লোকদের’ তালিকাভুক্ত করে সেসব জায়গা বরাদ্দ দিচ্ছেন। বরাদ্দ পাওয়া কেউ কেউ আবার সেই জায়গা ভাড়াও দিয়েছেন। এ নিয়ে অসন্তোষ তৈরি এই ‘ভাগাভাগি’তে ফুটপাত আর সড়কে সেই পুরোনো বিশৃঙ্খলা ফিরে আসছে। পথচারী ও যানবাহন চলাচলের পথ সংকুচিত হচ্ছে।
রাজধানীতে অনিয়ন্ত্রিতভাবে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে বসা হকারদের বিরুদ্ধে এপ্রিলের শুরু থেকে উচ্ছেদ অভিযান চালায় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। উচ্ছেদ হওয়া হকারদের পুনর্বাসন কার্যক্রম চলছে। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগ নতুন হকার নীতিমালাও অনুমোদন করেছে। সেই নীতিমালার আওতায় নিবন্ধনের মাধ্যমে হকারদের তালিকা প্রণয়ন, বসার স্থান নির্ধারণ এবং স্মার্ট কার্ড দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ইতিমধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) প্রায় ৮৩০ জন এবং ডিএসসিসিতে প্রায় ২ হাজার ৭০ জন হকারের তালিকা করা হয়েছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে হকারদের মধ্যে। হকারদের অভিযোগ, তালিকায় নাম তুলতে রাজনৈতিক নেতাদের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও পুলিশি প্রভাব খাটানো হচ্ছে। আবার অর্থ লেনদেনও হচ্ছে।
গুলিস্তানের এক হকার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘যাগো নেতা আছে, তারা আবেদন করছে। আমাগো নেতা নাই, তাই আমরা জায়গা পাই নাই।’ শরিফ উদ্দিন নামে আরেকজন বলেন, তিনি নিজে আবেদন করেননি। তাঁদের ‘মুরব্বি’ সব তথ্য সংগ্রহ করে আবেদন জমা দিয়েছেন। যে পুলিশ তালিকা করছেন, তিনিই সব ব্যবস্থা করে দেবেন।
বঙ্গবাজারের সামনে ফুটপাতে কাপড় বিক্রেতা আব্দুল মোতালেব বলেন, ‘তালিকায় নতুন নতুন হকারের নাম উঠছে, যারা কোনো দিন এই ব্যবসা করে নাই। পুলিশ আর সিটি করপোরেশনের কিছু লোক নিজেদের আত্মীয়স্বজনের নাম দিছে। এখন তাদের কাছ থেকে আমাদের জায়গা ভাড়া নিতে বলা হচ্ছে।’ সেই আত্মীয় কারা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নাম বললে পরে জায়গাও ভাড়া পামু না।’
তবে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, সিটি করপোরেশনের সহযোগিতায় পুলিশের বিভাগগুলো এলাকাভিত্তিক হকারদের তালিকা করেছে। সেই তালিকা যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত করছে সিটি করপোরেশন। স্থানীয় হকার প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বসেই তালিকা করা হয়েছে।
দেশ রূপান্তর
‘প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ শুরু’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, নানা চ্যালেঞ্জ ও গণআকাক্সক্ষার চাপ কাটিয়ে ক্ষমতা গ্রহণের ১০০ দিন পূর্ণ করতে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার। এই অল্প সময় একটি দেশের আমূল পরিবর্তনের জন্য অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত হলেও খাদের কিনারে থাকা রাষ্ট্রব্যবস্থাকে ট্র্যাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টার কমতি ছিল না। এই সময়ে ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠনে সরকারকে সময় দিতে হয়েছে। তবে এখনো ঘাম ঝরাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকারের আন্তরিকতার কোনো কমতি নেই। সামাজিক অবক্ষয়ের যে অবস্থা তাতে সফলতা পেতে কিছুটা সময় লাগবে।
আগামী ২৮ মে সরকারের ১০০ দিন পূর্ণ হবে। এই সময়ের মধ্যেই ফ্যামিল কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন, ১০ হাজার টাকার কৃষিঋণ মওকুফসহ প্রায় সবগুলো নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সূচনা করতে পেরেছে সরকার।
১০০ দিনের কর্মকান্ড সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ভোটের কালির দাগ শুকানোর আগেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমাদের সরকার একের পর এক নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। বিগত দিনে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ঘরে ঘরে চাকরি, বিনামূল্যে সার, ১০ টাকা কেজি দরে চালের ওয়াদা করলেও তা বাস্তবায়ন করেনি। অথচ আমরা দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই একের পর এক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করছেন। তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘১০০ দিনের মধ্যে বেশিরভাগ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি। আশা করছি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আমরা এসব প্রতিশ্রুতি সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে পারব। জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে। এখন বিরোধী দল সহযোগিতা করলে দ্রুত দেশ এগিয়ে যাবে।’
এ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অতীতে বাংলাদেশে কোনো সরকার দায়িত্ব গ্রহণের এক সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেছে এমন রেকর্ড সম্ভবত নেই। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির বাস্তবায়ন করেছেন। অন্যান্য প্রতিশ্রুতিও একের পর এক বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন।’
গত ৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর বনানীতে হোটেল শেরাটনে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দর্শন হিসেবে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণা করে বিএনপি। এতে মহান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে একটি ইনসাফভিত্তিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে দলটির অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।
১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর ১০ মার্চ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন। এদিন এই কর্মসূচির আওতায় হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে মাসে আড়াই হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এই কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি সুফলভোগী নারীর মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হচ্ছে। ২৬ ফেব্রুয়ারি ১২ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত দেয় সরকার। ৪ মার্চ জনগণের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে ‘ই-হেলথ’ কার্ড চালুর নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

BAD MOUTH
১ মাস আগেএনসিপি ও জামায়াত যথেষ্ট আওয়ামী লীগকে দিল্লিতে স্থায়ী ভাবে বসবাস করার জন্য।