সরাইলে নদীর পানি সেচে মাছ নিধন, কাজে আসেনি কৃষকদের লিখিত আবেদন

ফন্ট সাইজ:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের ধরন্তী হাওর এলাকায় পুটিয়া নদীতে ধরন্তী সেতুর দুই পাশে বাঁধ দিয়ে মৎস্য নিধন করেছে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল। এতে একদিকে হাওর এলাকার উন্মুক্ত জলাশয়ে দেশীয় জাতের মাছের বংশ বৃদ্ধি হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে, অন্যদিকে চলতি বোরো মৌসুমে ওই হাওরে কৃষিজমিতে সেচ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। প্রতিকার চেয়ে হাওরের অর্ধশতাধিক কৃষক গত ২রা ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসক ও ইউএনও’র কাছে লিখিত আবেদন করেছিল। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। গত সোমবার সরজমিন দেখা যায়, সরাইল-হবিগঞ্জ মহাসড়কের সরাইল উপজেলার ধরন্তী হাওর এলাকার ধরন্তী সেতুর পূর্ব ও পশ্চিম পাশে এক থেকে দেড়শ’ একর জায়গা জুড়ে নদীতে বাঁধ দিয়ে পানি সেচে নদীর তলদেশ শুকিয়ে ফেলা হয়েছে। এখন চলছে মাছ নিধন। গত ১৮ই জানুয়ারি থেকে পাঁচটি সেচযন্ত্র দিয়ে সেচের কাজ চালানো হয়েছে। বিশাল এলাকা জুড়ে পানি শুকিয়ে গেছে। এখন শত শত একর কৃষি জমিতে পানির সংকট দেখা দিয়েছে। টানা এক মাস ধরে নদীতে বাঁধ দিয়ে পানি সেচের মাধ্যমে মাছ নিধনের এ আয়োজন হয়েছে সবার সামনেই। এলাকার মৎস্যজীবী ও কৃষকরা জানান, নোয়াগাঁও ইউনিয়ন শাখা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নূর আহমদ জজ মিয়া ও কালীকচ্ছ ইউনিয়নের গলানিয়া গ্রামের সেলিম মিয়া ১৪-১৫ বছর ধরে সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে পুটিয়া নদীতে বাঁধ দিয়ে নির্বিচারে মৎস্য নিধন করে আসছেন। স্থানীয় মৎস্যজীবী পরিমল দাস (৪০) বলেন, ‘আমরা মাছ ধরে সংসার ছালাই। কিন্তু নদীর কাছে আইলে আমাদের নামতে দেই না। নদীতে বান দিয়া মাছ শিকার করতাছে। মাছও শেষ আমরাও শেষ। আমরা কিছু বলতেও ফারি না, সাইতেও ফারি না। তারা বলে আমরা ট্যাহা দিয়া নদী ইজারা লইছি। এইটা কেমন ইজারা যে পানি শুকাইতে ফারে। তারা দেশি জাতের মাছ ধ্বংস করতাছে।’ স্থানীয় কৃষক আবদুল আজিজ (৫০) বলেন, বাঁধের কারণে পানির গতি কমছে (পানি প্রবাহ) ফলে কৃষি জমিতে পানির সংকট দেহা দিছে। কৃষক দেওয়ান আলী (৫০) বলেন, প্রতি বছর বাঁধের ফলে নদী টান (ভরাট) হয়ে গেছে। এখন নদীতে পানি পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে কৃষকরা তাদের জমির পাশে পানির পাম্প (অগভীর নলকূপ) বসিয়ে নিচ্ছে। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ছায়েদুর রহমান বলেন, স্থানীয় কৃষকদের আবেদনের প্রেক্ষিতে আমি গত ৬ই ফেব্রুয়ারি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। নদীতে বাঁধ দিয়ে সেচ পাম্পের মাধ্যমে পানি শুকাতে দেখেছি। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে এটি বন্ধ করে দিয়েছিলাম। এভাবে নদ-নদীতে বাঁধ দিয়ে মাছ নিধন করা সম্পূর্ণ গর্হিত কাজ। এতে মাছের স্বাভাবিক বংশ বিস্তার বাধাগ্রস্ত হবে। আমার কাজ ছিল প্রতিবেদন দেয়া। আমি গত ৮ তারিখে তা করেছি। আমরা বিষয়টি লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

এ ব্যাপারে সেলিম মিয়া বলেন, সরকারি নিয়মনীতি মেনেই মৎস্য নিধন করছি। বাঁধের আশপাশের জায়গা তাদের লিজ নেয়া বলে তারা দাবি করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো?. আবুবকর সরকার বলেন, জলমহাল নীতিমালা অনুযায়ী উন্মুক্ত জলাশয়ে সেচ দিয়ে মাছ নিধনের সুযোগ নেই। এতে জীববৈচিত্র্য হুমকির সম্মুখীন হবে। তারা (কৃষক) লিখিত অভিযোগ করেছিলেন জেলায়। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার মাধ্যমে তদন্ত প্রতিবেদন জেলায় পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে নির্দেশনা এলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন