রামিসার বাসায় প্রধানমন্ত্রী: শূন্যতার মাঝে আশার প্রদীপ

রামিসার বাসায় প্রধানমন্ত্রী: শূন্যতার মাঝে আশার প্রদীপ

ফন্ট সাইজ:

রাজধানীর পল্লবীর সেই ছোট্ট বাসাটিতে এখন আর শিশুর হাসির শব্দ শোনা যায় না। যে ঘরে কয়েকদিন আগেও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা বই খুলে বসত, পুতুল নিয়ে খেলত কিংবা মায়ের কাছে আবদার করত, সেই ঘর আজ নিস্তব্ধ। দেয়ালে ঝুলে থাকা স্কুলব্যাগ, পড়ার খাতা, ছোট্ট জামাকাপড়—সবকিছু যেন এক নির্মম শূন্যতার সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। একটি নিষ্পাপ শিশুর নৃশংস হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারকে নয়, পুরো জাতিকেই গভীর শোক ও আতঙ্কের মধ্যে ডুবিয়ে দিয়েছে।

এই শোকের মধ্যেই দেশের মানুষ একটি মানবিক দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে রামিসার পরিবারের বাসায় গিয়ে শোকাহত স্বজনদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি শুধু রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে যাননি; একজন মানুষ হিসেবে, একজন অভিভাবকের মতো তিনি ভেঙে পড়া পরিবারটির হাত ধরেছেন। অনেক সময় রাষ্ট্রের বড় বড় ঘোষণা মানুষের হৃদয় স্পর্শ করতে পারে না, কিন্তু শোকাহত মানুষের ঘরে গিয়ে নীরবে বসে থাকা, তাদের কান্না শোনা, মাথায় হাত রাখা—এসব দৃশ্য মানুষের মনে অন্যরকম অনুভূতি তৈরি করে। কারণ মানবিকতার শক্তি ক্ষমতার চেয়েও অনেক বড়।

রামিসার হত্যাকাণ্ডের বিভৎসতা পুরো দেশকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, পাশের ফ্ল্যাটের এক ভাড়াটিয়া শিশুটিকে নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে। পরে যে অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, তা সভ্য সমাজের জন্য এক ভয়ঙ্কর দুঃস্বপ্ন। এমন নিষ্ঠুরতা মানুষকে শুধু ক্ষুব্ধই করেনি; মানুষের ভেতরে নিরাপত্তাহীনতার গভীর বোধও তৈরি করেছে। কারণ একটি শিশু যদি নিজের বাসার পাশেই নিরাপদ না থাকে, তাহলে সমাজের নৈতিক ভিত্তি কোথায় দাঁড়িয়ে আছে?

রামিসার বাবা যখন প্রধানমন্ত্রীর সামনে দাঁড়িয়ে বলেন, “এই নোংরা পরিবেশের কারণে আমি আমার সন্তানকে হারিয়েছি,” তখন সেই বাক্য শুধু একজন অসহায় পিতার আর্তনাদ নয়; সেটি পুরো বাংলাদেশের আতঙ্কিত বাবা-মায়ের কণ্ঠস্বর। আজ অসংখ্য পরিবার সন্তানদের নিয়ে অজানা ভয়ে দিন কাটাচ্ছে। শিশুরা বাইরে খেলতে গেলে মা-বাবার মনে আতঙ্ক কাজ করে। স্কুলে যাওয়া, কোচিংয়ে যাওয়া, এমনকি পাশের বাসায় যাওয়াও এখন অনেক পরিবারের কাছে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সামনে রামিসার বাবার আরেকটি আকুতি ছিল আরও বেশি হৃদয়বিদারক। তিনি তার বড় মেয়েকে “এই নোংরা পরিবেশ” থেকে দূরে নিয়ে গিয়ে মানুষের মতো মানুষ করতে চান। এজন্য তিনি এক খণ্ড জমি চেয়েছেন। রাষ্ট্রপ্রধান সেই অনুরোধ গ্রহণ করেছেন এবং সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। এই দৃশ্য শুধু একটি পরিবারের জন্য সহানুভূতির প্রতীক নয়; বরং এটি এমন এক রাষ্ট্রের চিত্র, যেখানে অন্তত সংকটের মুহূর্তে মানুষ রাষ্ট্রের দরজায় কড়া নাড়তে পারে।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, কেন একজন বাবা এমন আকুতি জানাতে বাধ্য হন? কেন তাকে বলতে হয় যে তিনি তার সন্তানকে এই সমাজ থেকে দূরে নিয়ে যেতে চান? এর উত্তর লুকিয়ে আছে আমাদের সামাজিক বাস্তবতায়। অর্থনৈতিক উন্নয়নের নানা গল্প থাকলেও সামাজিক নিরাপত্তা ও নৈতিকতার জায়গায় আমরা গভীর সংকটে আছি। শহুরে জীবনের ভিড়ে মানুষ দিন দিন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। একই ভবনে বসবাস করেও কেউ কাউকে চেনে না। অপরাধীরা এই বিচ্ছিন্নতার সুযোগ নিচ্ছে।

শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বাংলাদেশে উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। ধর্ষণ, নির্যাতন, অপহরণ ও হত্যার ঘটনাগুলো বারবার সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হচ্ছে। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বাস্তবতা হলো, অনেক ক্ষেত্রে অপরাধীরা পরিচিত মানুষ—প্রতিবেশী, আত্মীয় কিংবা আশপাশের কেউ। ফলে নিরাপত্তার ধারণাটিই ভেঙে পড়ছে। একটি শিশু যখন পরিচিত পরিবেশেই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে, তখন সমাজের ভেতরের অন্ধকার কত গভীর তা সহজেই বোঝা যায়।

তবে এই অন্ধকারের মধ্যেও রামিসার ঘটনায় একটি বিষয় মানুষকে স্বস্তি দিয়েছে—দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ। অভিযুক্তকে অল্প সময়ের মধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রামিসার বাবাও প্রধানমন্ত্রীর কাছে বলেছেন, এত দ্রুত গ্রেপ্তার হওয়া “অভাবনীয়”। এটি প্রমাণ করে, রাষ্ট্র চাইলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারে। কিন্তু এখানেই দায়িত্ব শেষ নয়। মানুষ এখন দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দেখতে চায়। কারণ বিচার বিলম্বিত হলে মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অপরাধীরা সাহস পায়।

বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে শিশু সুরক্ষাকে জাতীয় নিরাপত্তার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেখানে শুধু আইন নয়, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং স্থানীয় প্রশাসন একসঙ্গে কাজ করে। বাংলাদেশেও এখন সময় এসেছে শিশু সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার। শুধু অপরাধের পর বিচার করলেই হবে না; অপরাধ প্রতিরোধের সামাজিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

প্রথমত, পরিবারে সচেতনতা বাড়াতে হবে। শিশুদের শেখাতে হবে কোন আচরণ অস্বাভাবিক, কার কাছ থেকে দূরে থাকতে হবে এবং বিপদের সময় কী করতে হবে। দ্বিতীয়ত, স্কুলগুলোতে শিশু সুরক্ষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা দরকার। তৃতীয়ত, আবাসিক এলাকাগুলোতে সামাজিক নজরদারি ও কমিউনিটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মানসিক স্বাস্থ্য ও সামাজিক অবক্ষয়। সমাজে সহিংসতা, মাদকাসক্তি, বিকৃত মানসিকতা এবং অশ্লীলতার বিস্তার অনেক মানুষকে অমানবিক করে তুলছে। প্রযুক্তির যুগে মানুষ তথ্য পাচ্ছে, কিন্তু মূল্যবোধ হারাচ্ছে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হয়, যখন মানুষ মানবিক থাকে। অন্যথায় উঁচু ভবনের শহর গড়ে উঠলেও ভেতরে ভেতরে সমাজ ধ্বংস হয়ে যায়।

রামিসার বাসায় প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি তাই শুধুই রাজনৈতিক ঘটনা নয়; এটি রাষ্ট্র ও জনগণের সম্পর্কেরও প্রতীক। শোকের মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। যখন একজন রাষ্ট্রপ্রধান একটি সাধারণ পরিবারের কান্না শুনতে যান, তখন সেটি মানুষের মনে এই বিশ্বাস তৈরি করে যে তারা একা নয়।

তবে বাস্তবতা হলো, দেশের হাজারো নির্যাতিত পরিবার এমন সহানুভূতি পায় না। অনেক ঘটনা আলোচনায় আসে না, অনেক মা-বাবার কান্না সংবাদ শিরোনাম হয় না। তাই রাষ্ট্রের মানবিকতা যেন নির্বাচিত কয়েকটি ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। প্রতিটি শিশুর জীবন সমান মূল্যবান—এই বোধ রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতিটি স্তরে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

রামিসার বড় বোনের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। একটি শিশুর মানসিক পুনর্গঠনের জন্য নিরাপদ পরিবেশ, শিক্ষা ও ভালোবাসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সে শুধু বোনকে হারায়নি; সে হারিয়েছে তার শৈশবের নিরাপত্তাবোধও। এমন ট্র্যাজেডি একটি শিশুর মনোজগতে গভীর ক্ষত তৈরি করে। তাই রাষ্ট্রের সহায়তা শুধু আর্থিক নয়; মানসিক ও সামাজিক পুনর্বাসনের দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

আজ রামিসার ঘর অন্ধকার। তার মা-বাবার জীবন থেকে আনন্দ মুছে গেছে। কিন্তু সেই অন্ধকারের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী যখন তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তখন হয়তো তারা অনুভব করেছেন—তাদের শোক পুরো জাতির শোক। এই অনুভূতি কোনো ক্ষতি পূরণ করতে পারে না, কিন্তু মানুষকে বেঁচে থাকার শক্তি দেয়।

একটি সভ্য রাষ্ট্রের পরিচয় শুধু তার উন্নয়ন প্রকল্পে নয়; বরং সে তার সবচেয়ে দুর্বল নাগরিকদের কতটা নিরাপত্তা দিতে পারে, তার ওপর নির্ভর করে। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়; এটি একটি জাতির নৈতিক পরীক্ষা।

রামিসা আর কখনও ফিরে আসবে না। তার অসমাপ্ত শৈশব, ছোট ছোট স্বপ্ন, মায়ের কোল—সবকিছু ইতিহাস হয়ে গেছে। কিন্তু যদি তার মৃত্যু আমাদের বিবেককে জাগিয়ে তোলে, যদি রাষ্ট্রকে আরও মানবিক করে, যদি সমাজকে আরও সচেতন করে, তবে হয়তো এই নিষ্পাপ শিশুটির আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না।

শেষ কথা:
পল্লবীর সেই ছোট্ট বাসায় কান্না আছে, শূন্যতা আছে, অসহনীয় বেদনা আছে। কিন্তু সেই শোকের ভেতরেও একটি ক্ষীণ আলো জ্বলছে—মানবিকতার আলো, দায়িত্বের আলো, আশার আলো। আর সেই কারণেই রামিসার বাসায় প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি শুধু একটি রাজনৈতিক সফর নয়; বরং এটি ছিল শূন্যতার মাঝে জ্বলে ওঠা এক আশার প্রদীপ।

লেখক:সাংবাদিক,কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক,ঢাকা।
ই-মেইল: [email protected]

NADIM AHAMMED

১ মাস আগে

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা আমাদের সবারই আন্তরিক ইচ্ছা। দেশ ও জনগণের কল্যাণে তাঁর নেতৃত্ব এবং প্রচেষ্টা সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘ নেক হায়াৎ দান করুক, আমিন, সুম্মা আমিন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি বিশ্বের স্বীকৃত এক নম্বর সৎ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্যার এবং বিশ্বের এক নম্বর সৎ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী MADAM খালেদা জিয়ার পুত্র। কেন আপনি জনগণের এই কণ্ঠের ক্ষমতা আপনার আইনমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতো অন্যদের হাতে তুলে দিলেন? আপনি আমাদের মতোই এই মাটির মানুষ। আপনি ২০০৭-২০০৮ সালের মইন ইউ আহমেদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং পরবর্তী সময়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে (ফ্যাসিস্ট হাসিনা এবং মইন ইউ আহমেদের দ্বারা ) নির্যাতিত হয়েছিলেন। আপনি এই বিশ্বের এক নম্বর সৎ ও আন্তরিক ব্যক্তি। You can handle everything as per people’s expectations.

Nadim Ahammed

২ মাস আগে

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গভীর শোক প্রকাশ করতে এবং পূর্ণ সরকারি সহায়তার আশ্বাস দিতে বৃহস্পতিবার রাতে (২১ মে, ২০২৬) ঢাকার মিরপুরের পল্লবী এলাকায় নিহত শিশু রামিসা আক্তারের বাসভবন পরিদর্শন করেছেন।

পরিবারকে সান্ত্বনা: প্রধানমন্ত্রী রহমান মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরপরই রাত ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে পল্লবীর ফ্ল্যাটে পৌঁছান। তিনি প্রায় ১৮ মিনিট ধরে রামিসার শোকাহত বাবা-মা, আবদুল হান্নান মোল্লা ও তাঁর স্ত্রী এবং তার বড় বোন রাইসা আক্তারকে সান্ত্বনা দেন।
স্থানান্তর সহায়তা: রামিসার বাবা জানান যে অনিরাপদ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাসের কারণেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। এরপর প্রধানমন্ত্রী তাঁদের আশ্বাস দেন যে সরকার অবিলম্বে পরিবারটিকে একটি নিরাপদ ও উন্নত বাসস্থানে স্থানান্তরিত হতে সহায়তা করবে।

বোনের প্রতি দায়িত্ব: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন যে, সরকার রামিসার বড় বোন রাইসার ভবিষ্যৎ ও শিক্ষার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিচ্ছে।
দ্রুত বিচারের অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী রহমান শোকসন্তপ্ত পরিবারকে একটি দ্রুত ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন এবং বলেছেন যে, দ্রুত বিচারের মাধ্যমে অপরাধীকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে।

সপ্তাহের শুরুতে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী আট বছর বয়সী রামিসার ওপর নৃশংস যৌন নিপীড়ন ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ব্যাপক জনরোষের পর এই সফরটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান সন্দেহভাজন, সোহেল রানা নামের এক প্রতিবেশীকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং এরপর তিনি ঢাকার একটি আদালতে পূর্ণ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

মন্তব্য করুন