কোরবানির ঈদে স্বাস্থ্য সচেতনতা: সুস্থ থাকুন, পরিমিত খান

কোরবানির ঈদে স্বাস্থ্য সচেতনতা: সুস্থ থাকুন, পরিমিত খান

ফন্ট সাইজ:

পবিত্র ঈদুল আযহা ত্যাগ ও আনন্দের উৎসব। এ সময় পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কোরবানির মাংস ভাগাভাগি করে খাওয়ার আনন্দ আলাদা। তবে অতিরিক্ত বা অসচেতনভাবে গরু ও খাসির মাংস খাওয়া অনেক সময় বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই আনন্দের পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতন থাকাও জরুরি।
অতিরিক্ত মাংস খাওয়ার ঝুঁকি
গরু ও খাসির মাংসে উচ্চমাত্রার প্রোটিন ও চর্বি থাকে। অতিরিক্ত খেলে দেখা দিতে পারে—
-বদহজম, গ্যাস্ট্রিক ও পেট ফাঁপা
-ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য
-রক্তে কোলেস্টেরল বৃদ্ধি
-উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি
-ডায়াবেটিস রোগীর রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা
-কিডনি রোগীদের জটিলতা বৃদ্ধি
-গাউট বা ইউরিক এসিড বেড়ে জয়েন্টে ব্যথা
বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি, হৃদরোগী, ডায়াবেটিস রোগী, উচ্চ রক্তচাপ ও কিডনি রোগীদের বেশি সতর্ক থাকতে হবে।

স্বাস্থ্যকর উপায়ে মাংস খাওয়ার পরামর্শ
১. পরিমিত পরিমাণে খান
একবারে অনেক বেশি মাংস না খেয়ে অল্প পরিমাণে খান। প্রতিদিন বারবার মাংস খাওয়ার পরিবর্তে শাকসবজি ও অন্যান্য খাবারের সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রাখুন।
২. চর্বি কম খান
গরু বা খাসির দৃশ্যমান চর্বি ও অতিরিক্ত তেল এড়িয়ে চলুন। অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত অংশ হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
৩. শাকসবজি ও সালাদ বাড়ান
মাংসের সঙ্গে পর্যাপ্ত সবজি, ডাল, সালাদ ও ফল খেলে হজম ভালো হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমে।
৪. পর্যাপ্ত পানি পান করুন
প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার বেশি খেলে শরীরে পানির চাহিদা বাড়ে। তাই পর্যাপ্ত পানি পান জরুরি।
৫. সংরক্ষণে সতর্কতা
কোরবানির মাংস পরিষ্কার পরিবেশে সংরক্ষণ করতে হবে। দীর্ঘ সময় বাইরে ফেলে রাখলে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। ছোট ছোট ভাগ করে ফ্রিজে সংরক্ষণ করা ভালো।
৬. ভালোভাবে রান্না করুন
অপর্যাপ্ত সিদ্ধ বা আধা-কাঁচা মাংসে জীবাণু থাকতে পারে। তাই মাংস সম্পূর্ণ সিদ্ধ করে খাওয়া উচিত।
খাসির মাংস কি বেশি ক্ষতিকর?
খাসির মাংসে সাধারণত গরুর মাংসের তুলনায় স্যাচুরেটেড ফ্যাট কিছুটা বেশি থাকতে পারে। তাই হৃদরোগ, উচ্চ কোলেস্টেরল বা উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের খাসির মাংস সীমিত পরিমাণে খাওয়া ভালো।
শিশুদের ক্ষেত্রেও সতর্কতা
শিশুদের অতিরিক্ত ঝাল বা চর্বিযুক্ত মাংস না দিয়ে সহজপাচ্য ও কম মসলাযুক্ত রান্না দিন।
শেষ কথা:
কোরবানির আনন্দ মানেই অতিরিক্ত খাওয়া নয়। সচেতন খাদ্যাভ্যাস, পরিমিত মাংস গ্রহণ ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে ঈদের আনন্দ হবে আরও নিরাপদ ও সুস্থতাপূর্ণ।
সুস্থ থাকুন, সচেতন থাকুন, আনন্দময় হোক সবার ঈদ।

লেখক
ডা: মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দীন খান
সহকারী অধ্যাপক, সার্জারী বিভাগ
চেম্বার: আলোক হাসপাতাল, মিরপুর-৬
হটলাইন: ১০৬৭২, ০৯৬১০১০০৯৯৯

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন