বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়নি। গত তিন মাসে পুলিশ বা অন্য কোনো বাহিনী রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়েছে—এমন অভিযোগ নেই বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সোমবার দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলায় র্যাবের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সদরদপ্তরে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কয়েকজন কর্মকর্তার কর্মকাণ্ডের কারণে প্রতিষ্ঠান হিসেবে র্যাব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কোনো ব্যক্তির দায় পুরো প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপানো উচিত নয়।’ তিনি বলেন, ‘অতীতের রাজনৈতিক শাসনামলে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হওয়ায় সেগুলোর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা আশা করছি আগামী দিনে মানবাধিকার সমুন্নত রেখে র্যাব তার সকল কার্যক্রম পরিচালনা করবে। একই সঙ্গে র্যাবের জন্য একটি নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যার অধীনে একটি এলিট ফোর্স হিসেবে একটি বাহিনী পরিচালিত হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘র্যাবের নাম পরিবর্তন করা হবে কিনা সরকার সেটি বিবেচনা করছে। এছাড়া এলিট ফোর্স পরিচালনায় নতুন আইন হবে কী না—তা এখনো সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। তবে যেকোনো এলিট ফোর্সের ক্ষেত্রেই স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা হবে এবং সেই অনুযায়ী জননিরাপত্তা ও জিন প্রত্যাশা পূরণ হবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা জানি কিছু সংখ্যক কর্মকর্তার কর্মকাণ্ডের দায় পুরো প্রতিষ্ঠান নিতে পারে না। যারা আইনের বাইরে গেছে, তাদের নিজ নিজ আইনের আওতায় এনে জবাবদিহিতার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠান দায়ী না, আইন অনুযায়ী কর্মকর্তারা পরিচালিত হবে।
র্যাবের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অতীতে বাহিনীটিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। ফ্যাসিবাদী সরকার তাদের একদলীয় শাসন কায়েমের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করেছে। সে কারণেই র্যাবের ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল, যা এখনো বহাল রয়েছে।’ তবে নতুন আইন ও কাঠামোর মাধ্যমে একটি জবাবদিহিমূলক এলিট ফোর্স গঠন করা হলে আন্তর্জাতিক মহল বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে পারে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
গুম সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিদ্যমান আইসিটি আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার চেষ্টা চলছে, যাতে গুমের সব ধরনের ঘটনার বিচার সম্ভব হয়।’ মন্ত্রী বলেন, ‘কেউ গুম হয়ে ফিরে এসেছে, কেউ ফেরেনি, কেউ হুমকি পেয়েছে—এসবের আলাদা সংজ্ঞা ও বিচারিক ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।’
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, সেনাবাহিনী প্রধান, নৌবাহিনী প্রধান, বিমান বাহিনীর ভারপ্রাপ্ত প্রধান, পুলিশের আইজিপি, র্যাবের মহাপরিচালক, আনসার ও বিডিবির প্রতিনিধিরাসহ বিভিন্ন বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Bipresh Chandra Sarkar
২ মাস আগেমাননীয় মন্ত্রী মহোদয় যখন বলেছেন দ্বিমত করি কেমনে!