ইমরানই দ্রুততম মানব শিরিনের পুনরুদ্ধার

ইমরানই দ্রুততম মানব শিরিনের পুনরুদ্ধার

ফন্ট সাইজ:

ব্যক্তিগত কারণে সবশেষ জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে পারেননি ইমরানুর রহমান। তার অনুপস্থিতিতে দেশসেরা মানবের খেতাব জিতেছিলেন মোহাম্মদ ইসমাইল। যদিও সামার মিটে শ্রেষ্ঠত্ব পুনরুদ্ধার করেছিলেন ইমরানুর রহমান। এবার জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপেও দ্রুততম মানবের খেতাব নিজের দখলেই রাখলেন তিনি। অন্যদিকে, গত সামার মিটের ধাক্কা সামলে মেয়েদের ট্র্যাকে নিজের হারানো মুকুট পুনরুদ্ধার করেছেন শিরিন আক্তার। গতকাল ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু হওয়া ৪৯তম জাতীয় অ্যাথলেটিকসের প্রথম দিনেই ১০০ মিটার স্প্রিন্টে নিজ নিজ ইভেন্টে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেন এই দুই তারকা।

পুরুষদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ইমরানুর রহমান যথারীতি সহজেই জিতেছেন। ১০.৫৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে সেরা হয়েছেন ট্রাকের রাজা। এই ইভেন্টে ১০.৮৬ সেকেন্ড সময় নিয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন নৌবাহিনীরই মোহাম্মদ ইসমাইল। আর ১০.৯১ সেকেন্ড টাইমিং করে তৃতীয় হয়েছেন বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর নাইম ইসলাম। সর্বশেষ গত আগস্টে জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকসে ১০.৬৪ সেকেন্ড সময় নিয়ে প্রথম হয়েছিলেন ইমরানুর। সেই তুলনায় এবার তার টাইমিং কিছুটা কমেছে। তবে ২০২২ সাল থেকে এ পর্যন্ত দেশের মাটিতে টানা সাতটি প্রতিযোগিতার মধ্যে ছয়টিতে অংশ নিয়ে সবগুলোই জিতে রেকর্ড ধরে রাখলেন তিনি। বাংলাদেশের কারও কাছে হেরে যাওয়ার কোনো শঙ্কা কাজ করছিল কি না- এমন প্রশ্নে আত্মবিশ্বাসী ইমরানুর বলেন, তিনি তার সতীর্থদের সম্মান করেন, তবে নিজের ওপর বিশ্বাস ছিল যে ভালো করবেন এবং প্রথম হবেন।

চোট কাটিয়ে ট্র্যাকে ফিরেই এই সাফল্য পাওয়ায় বেশ উচ্ছ্বসিত দেখায় দেশের এই দ্রুততম মানবকে। এটি তার ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ দ্রুততম মানবের খেতাব। এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘সামনে এশিয়ান ও কমনওয়েলথ এবং আগামী বছর এসএ গেমস আছে। ধাপে ধাপে আমি এগোতে চাই। আশা করি, এই গেমসগুলোয় ভালো করতে পারবো।’ এদিকে, গত আগস্টে জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকসে সুমাইয়া আক্তারের কাছে হেরে মুকুট হারান শিরিন আক্তার। সেবার সুমাইয়ার ১২.১৯ সেকেন্ডের বিপরীতে শিরিনের টাইমিং ছিল ১২.২১ সেকেন্ড। তবে এবার জাতীয় অ্যাথলেটিকসে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন শিরিন। ১২.১০ সেকেন্ড সময় নিয়ে তিনি আবারো দেশের দ্রুততম মানবী হয়েছেন। অন্যদিকে, গতবারের চ্যাম্পিয়ন সুমাইয়া এবার টাইমিংয়ে পিছিয়ে পড়ে চতুর্থ হয়েছেন।

এটি শিরিন আক্তারের ক্যারিয়ারের ১৭তম দ্রুততম মানবীর খেতাব। আর এই জয়ের মধ্যদিয়ে তিনি ছুঁয়ে ফেলেছেন দেশের সাবেক কৃতী স্প্রিন্টার নাজমুন নাহার বিউটির ১৭ বার দ্রুততম মানবী হওয়ার রেকর্ড। গতকাল শিরিনের এই রেকর্ড ছোঁয়া নিজের চোখে দেখেন বিউটি। মুকুট ফিরে পাওয়ার পর মিশ্র এক অনুভূতি প্রকাশ করেন শিরিন আক্তার। গত বছর বিয়ের পিঁড়িতে বসা শিরিনের জন্য এটিই বিয়ের পর প্রথম সাফল্য। ট্র্যাকে এতই মগ্ন ছিলেন যে, বিয়ের কথা মনে করিয়ে দিতেই হেসে বলেন, ‘আমি তো ভুলেই গিয়েছিলাম যে বিয়ে করেছি!’ খেলাধুলার পাশাপাশি নিজের পড়াশোনা নিয়েও বড় পরিকল্পনা রয়েছে শিরিনের। উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বাইরে পিএইচডি করার ইচ্ছা আছে তার। ১৭তম বার চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিউটির রেকর্ড ছোঁয়া প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমি বিউটি আপারটা জানি না।

তবে এটা সত্যি আমি ১৭ বার দ্রুততম মানবী হয়েছি।’ এমন সাফল্যের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, ‘১০০ মিটারে প্রথম হওয়াটা দারুণ ভালো লাগার।’ গতবার ১০০ মিটারে হেরে কিছু কথা বলে ফেলেছিলেন ট্র্যাকে, তার জন্য সবার কাছে ক্ষমা চান তিনি। আজ সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সবাই তার প্রতি বিশ্বাস রেখেছেন এবং সমর্থন দিয়েছেন। এই সাফল্যের পেছনে কোচ আবদুল্লাহেল কাফি, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বিকেএসপি, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ দেন তিনি।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন