সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাতের পর গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী সাদ্দাম হোসেন মোড়লের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত সাদ্দাম পলাতক রয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত প্রায় ১১টার দিকে সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী লক্ষ্মীদাড়ী গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত তাসলিমা খাতুন (৩৬) দেবহাটা উপজেলার বহেরা গ্রামের নুরুজ্জামান ও ফাতেমা খাতুন দম্পতির মেয়ে। তিনি চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন এবং দুই সন্তানের জননী।
জানা গেছে, প্রায় ১৫ থেকে ১৬ বছর আগে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বেনাপোল এলাকার লোকমান হোসেন মোড়লের ছেলে সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে তাসলিমার বিয়ে হয়। দীর্ঘদিন ধরে তারা সাতক্ষীরা সদর উপজেলার লক্ষ্মীদাড়ী গ্রামে সাদ্দামের নানা মৃত মোহাম্মদ গাজীর বাড়িতে বসবাস করছিলেন। দম্পতির ১৩ বছর বয়সী এক মেয়ে ও ৮ বছর বয়সী এক ছেলে রয়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য সন্তোষ কুমার ঘোষ জানান, সাদ্দাম দীর্ঘদিন ধরে বেকার ছিলেন। সংসারে অভাব-অনটন লেগেই ছিল।
কিছুদিন আগে তাসলিমা তার বাবার বাড়ি থেকে একটি ছাগল এনে পালন শুরু করেন। পরে সেই ছাগলটি সাদ্দাম গোপনে বিক্রি করে দিলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। শনিবার রাতে এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে সাদ্দাম হাতুড়ি দিয়ে তাসলিমার মাথায় আঘাত করে। এতে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলা কেটে হত্যা করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
ঘটনার সময় ঘরে থাকা দুই সন্তান চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তাসলিমাকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদুর রহমান জানান, খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। রোববার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
