দেশে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। বর্তমানে দেশে এমএফএস অ্যাকাউন্টের সংখ্যা প্রায় ২৪.৫ কোটি, আর মাসিক লেনদেনের পরিমাণ ১.৫ ট্রিলিয়ন টাকা বা ন ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকারও বেশি বলে জানিয়েছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। রোববার বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি ভবনে আয়োজিত সেমিনারে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, ডিজিটাল আর্থিক সেবার বিস্তার দেশের অর্থনীতিকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলছে এবং নগদবিহীন লেনদেনের প্রবণতা বাড়াচ্ছে।
বিটিআরসি’র স্পেকট্রাম ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আমিনুল হক বলেন, ডিজিটাল সংযোগ এখন আর বিলাসিতা নয়, এটি অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ। এমএফএস খাতের এই অগ্রগতি প্রমাণ করে মানুষ দ্রুত ডিজিটাল সেবার দিকে ঝুঁকছে। তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল অবকাঠামো শক্তিশালী না হলে এই অগ্রগতি টেকসই হবে না, তাই সাশ্রয়ী ইন্টারনেট ও নিরাপদ নেটওয়ার্ক নিশ্চিত করা জরুরি। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে বিকাশ-এর চিফ এক্সটার্নাল অ্যান্ড করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মেজর জেনারেল (অব.) শেখ মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে এমএফএস এখন শুধু লেনদেনের মাধ্যম নয়, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল অর্থনৈতিক প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।
গ্রামীণ অর্থনীতি, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও ব্যক্তিগত লেনদেনে এমএফএস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে এখনো নিরাপত্তা, ডিজিটাল সাক্ষরতা ও সেবার খরচ কমানো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। সেমিনারে অংশ নেয়া বিশেষজ্ঞরা বলেন, স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের ব্যবহার আরও সহজলভ্য করা গেলে দেশের আরও বড় জনগোষ্ঠী ডিজিটাল অর্থনীতির আওতায় আসবে।
তারা জানান, কর কাঠামো যৌক্তিক করা এবং প্রযুক্তি শিক্ষার প্রসার ঘটানো হলে এমএফএস খাত আরও গতিশীল হবে। অনুষ্ঠানে বক্তারা একমত হন যে, সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া ডিজিটাল অর্থনীতির এই অগ্রগতি টেকসই করা সম্ভব নয়।
