প্রথমবারের মতো দাগনভূঞাবাসী পেলো সংসদ সদস্য। আর দীর্ঘ ৩৬ বছর পর ফেনী পেলো মন্ত্রী। ফলে আবদুল আউয়াল মিন্টুকে নিয়ে জেলা জুড়ে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে। মিন্টুর হাত ধরেই ৫৪ বছরের খরা কাটিয়ে দাগনভূঞায় প্রথমবার এমপি ও একইসঙ্গে মন্ত্রী- এ যেন আলাদিনের চেরাগ। মিন্টু পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। রাজনীতির বাইরেও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ মিছিল করে বিএনপি’র এ ভাইস চেয়ারম্যানকে অভিনন্দন জানান। তার এই অর্জনের মধ্যদিয়ে মন্ত্রী নিয়ে ফেনীবাসীর ৩৬ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটলো। জীবনে প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়েই মিন্টু হলেন এমপি, একইদিন শপথ নিলেন মন্ত্রীরও। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ (দাগনভূঞা-সোনাগাজী) আসনে প্রথমবারের মতো মন্ত্রিত্ব পাওয়ায় প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে পৌর শহরে উল্লাস ও সর্বত্র মিষ্টি বিতরণ চলছে। নির্বাচন অফিসের তথ্যমতে, ’৭০-এর নির্বাচনের পর হতে অদ্যাবধি এ আসন থেকে চারবার আওয়ামী লীগ, দু’বার জাতীয় পার্টি ও তিনবার বিএনপি বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছে। তবে বিজয়ী প্রার্থীদের সবার বাড়ি ফেনী সদর ও সোনাগাজীতে। একসময় দাগনভূঞা উপজেলা ফেনী-২ আসনের সঙ্গে থাকলেও ২০২৬ সালে ফেনী-৩ আসনে যুক্ত করা হয়। বর্তমানে সোনাগাজীর ৯টি ইউনিয়ন ১টি পৌরসভা ও দাগনভূঞা উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে ফেনী-৩ আসন গঠিত। আসনটি দক্ষিণে চট্টগ্রামের মিরসরাই, উত্তরে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলা, পশ্চিমে নোয়াখালীর সেনবাগ ও কোম্পানীগঞ্জ এবং পূর্বে ফেনী সদর পর্যন্ত প্রান্তসীমায় নির্বাচনী এলাকা। খ্যাতিমান শিল্পপতি মিন্টু এর আগে ব্যবসায়ী শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের দুইবারের সভাপতিসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। নিজ এলাকা দাগনভূঞায় স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, কল-কারখানা প্রতিষ্ঠাসহ এলাকার সার্বিক উন্নয়নে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে ভূমিকা রেখে আসছেন। তার বাবা প্রয়াত হাজী সফি উল্যাহ দাগনভূঞা উপজেলার দুইবারের চেয়ারম্যান ও ভাই উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক আকবর হোসেন দাগনভূঞা পৌরসভার মেয়র ছিলেন। তার স্ত্রী নাসরিন ফাতেমা আউয়াল নারী উদ্যোক্তাদের সংগঠন ‘উইমেন এন্টারপ্রিনার্স এসোসিয়েশন (ওয়েব)’র চেয়ারপারসন। তার বড় ছেলে তাবিথ আউয়াল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)’র সভাপতি ছাড়াও তিনি বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। সোনাগাজী উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক জয়নাল আবদিন বাবলু বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে ফেনী-৩ আসনের জনগণ উন্নয়নের ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার। বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে পূর্ণ মন্ত্রী হওয়ায় আবদুল আউয়াল মিন্টু ব্যাপক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন। এর আগে, ফেনী-১ আসন থেকে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনবার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বিএনপি’র প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। একই আসন থেকে ৩৬ বছর আগে সংসদ সদস্য হয়ে এরশাদ সরকারের বস্ত্র ও পাট এবং বন ও পরিবেশসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন লে. কর্নেল (অব.) জাফর ইমাম বীর বিক্রম। ২০০৬ সালে বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থেকে বিদায় নেয়ার পর দীর্ঘ সময় ফেনীবাসী আর মন্ত্রী পায়নি।
দাগনভূঞায় প্রথম এমপি ৩৬ বছর পর ফেনীতে মন্ত্রী
ফেনী প্রতিনিধি
১৯ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
