দৌলতপুরে ৫৫ বছরেও আলোর মুখ দেখেনি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন

দৌলতপুরে ৫৫ বছরেও আলোর মুখ দেখেনি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন

ফন্ট সাইজ:

কুষ্টিয়ার সীমান্তবর্তী বৃহৎ উপজেলা দৌলতপুর। এখানে প্রায় ৭ লাখ লোকের বসবাস। ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ উপজেলায় স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও নির্মিত হয়নি বা স্থাপিত হয়নি একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন। ফলে প্রতিবছরই আগুনে ক্ষতি হয় কোটি কোটি টাকার সম্পদ। ঘর-বাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয় শত শত মানুষ। এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন ও স্থাপন করা হোক ফায়ার সার্ভিস স্টেশনটি। দৌলতপুর সীমান্তবর্তী উপজেলা হলেও এখানে রয়েছে বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান, কল-কারখানা ও ছোট-বড় অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। রয়েছে সরকারি- বেসরকারি অসংখ্য স্থাপনা ও কৃষি খামার। শুধু নেই ফায়ার সার্ভিস স্টেশন। আগুন লাগলে বা দুর্ঘটনা ঘটলে খবর দেয়া হয় পার্শ্ববর্তী উপজেলার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে।

তারা দুর্ঘটনাস্থলে আসার আগেই সব পুড়ে ছাই হয়, হয় ভস্মীভূত। শুধুমাত্র চলতি বছরের মাত্র ৫ মাসে অন্তত ১৫ থেকে ১৬টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ফসলি জমি, তামাকঘর, বসতঘর ও বাড়ি পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মারা গেছে গবাদিপশু গরু-ছাগল। সর্বস্বান্ত হয়েছে প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকরা। ২০২২ সালে দৌলতপুর সদর ইউনিয়নের চুয়ামল্লিকপাড়া গ্রামের প্রয়াত সমাজসেবিকা হাসিনা বানু ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের জন্য ৮২ শতক জমি দান করেন। সেখানে ঝুলানো হয় ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সাইনবোর্ড। ৪ বছর পার হলেও ওই জমিতে পুকুর থাকার অজুহাতে এবং অর্থাভাবে এখনো সাইনবোর্ড ঝুলানো অবস্থায় রয়েছে। হয়নি দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি। এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার অনিন্দ্য গুহ জানান, ফায়ার সার্ভিসের জন্য জমি নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে জমিতে পুকুর থাকায় সেটি সমতল করতে অতিরিক্ত বাজেট প্রয়োজন।

বাজেট বরাদ্দ পেলেই অবকাঠামোগত কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মো. ওয়াদুদ হোসেন একই কথা বলেন। তিনি জানান, ওই জমিতে বড় পুকুর রয়েছে সেটা ভরাট করা প্রয়োজন। পুকুর ভরাটের বাজেট পেলে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কাজ শুরু হবে। এ ছাড়াও এখানে নিয়োগপ্রাপ্তরা বর্তমানে কুষ্টিয়া স্টেশনসহ বিভিন্ন স্টেশনে দায়িত্ব পালন করছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। দৌলতপুরে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের বিষয়ে কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা বলেন, অনেক আগেই এখানে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন হওয়া উচিত ছিল।

দৌলতপুর জেলার বৃহৎ উপজেলা হওয়া সত্ত্বেও এতদিনে কেন ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণ হয়নি, তা আগের দায়িত্বশীলরা বলতে পারবেন। তবে জমিসংক্রান্ত জটিলতার নিরসন হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন এবং অর্থ বরাদ্দ পেলে দ্রুতই কাজ শুরু হবে। সর্বোপরি দৌলতপুরের বৃহৎ জনগোষ্ঠী আর আশ্বাস চায় না, তারা চায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশনটি দ্রুত নির্মাণ বা স্থাপন করে জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। রক্ষা করা হোক জানমালের ক্ষয়ক্ষতি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন